সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / অভিযোগ-বহিষ্কার সুপারিশের মধ্য দিয়ে চলছে আ’লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর পৌর নির্বাচন

অভিযোগ-বহিষ্কার সুপারিশের মধ্য দিয়ে চলছে আ’লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর পৌর নির্বাচন

ইকবাল কবির লেমন: অভিযোগ আর বহিষ্কার সুপারিশের মধ্য দিয়ে চলছে বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কর্মকাণ্ড। ১২.৩৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ও ১৯ হাজার ৫ শ’ ২৩ জন ভোটারের ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভাটির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে সোনাতলা পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ৩ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করে জেলায় পাঠায়। এ তিনজন হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহিদুল বারী খান রব্বানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান আলী খন্দকার।
অপরদিকে বর্তমান মেয়র, বগুড়া জেলা ও সোনাতলা পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ নান্নু আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে জেলায় ও কেন্দ্রে আবেদন করেন।
কিন্তু আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ড শাহিদুল বারী খান রব্বানীকেই আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ নান্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।
দলীয় মনোনয়নপত্র উত্তোলনের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় শাহিদুল বারী খান রব্বানীর পিতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম শামসুল হক খানকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান উল্লেখ করে সংবাদ পরিবেশিত হয়। সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগ এর প্রতিবাদে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এর মধ্যেই চলতে থাকে শান্তিপূর্ণভাবে উভয় পক্ষের নির্বাচনী প্রচারণা।
২৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি্তে গত ১৩ অক্টোবর পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি ও সোনাতলা পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ নান্নুকে বহিস্কারের সুপারিশ ও সেইসাথে নির্বাচনী কাজে তাঁকে সহায়তার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তাহের,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন জাকির, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান রানা,সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন দুলু, মধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দবির হোসেন মণ্ডল, দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম,সভাপতি মাহফুজার রহমান মাফু, উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের আহবায়ক আকতার হোসেন বুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম মানিক, ও তৌহিদসহ মোট ১৯ জন নেতাকে বহিস্কারের সুপারিশ কেন্দ্রে অগ্রগামী করার জন্য জেলার নিকট পাঠানো হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়।
এমনি পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নির্বাচনের আর মাত্র সাতদিন বাকী থাকলেও এসব ঘটনার কারণে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন শান্তিপ্রিয় ভোটাররা।
উল্লেখ্য, সোনাতলা পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহিদুল বারী খান রব্বানী ( নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী,বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ নান্নু ( নারিকেল গাছ প্রতীক) ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম সাকিল রেজা বাবলা (জগ প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও কাউন্সিলর পদে ৪০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২ নভেম্বর ইভিএমে এ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Check Also

সারিয়াকান্দির নয়া ইউএনও’র সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়

বগুড়ায় সারিয়াকান্দি উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − fifteen =