সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / আলোকিত নারী জামিল আখতার বীনু—ইকবাল কবির লেমন

আলোকিত নারী জামিল আখতার বীনু—ইকবাল কবির লেমন

জামিল আখতার বীনু। একজন রত্নগর্ভা মা, একজন লেখিকা, একজন সম্পাদক, একজন আর্ত মানবতার সেবিকা। জন্ম ১৯৪০ খিস্টাব্দের ১১ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদেনিপুর জেলার বেলদা শহরে পিতা মরহুম সৈয়দ নজমুল হুদার (বগুড়ার সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজের অন্যতম জমিদাতা) কর্মস্থলে। শৈশব কেটেছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বর্তমান নাজির আখতার কলেজে তৎকালীন পৈত্রিক বসতভিটায়। পিতার চাকরীজনিত কারণে পড়াশুনা করেছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সান্তাহার হার্ভে মাইনর স্কুল, ভিএম বালিকা বিদ্যালয় বগুড়া, আজিজুল হক কলেজ বগুড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তাঁর চাচা সরকারি নাজির আখতার কলেজের অ্ন্যতম জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সৈয়দ নুরুল হোদার হাতে লাগানো দেশখ্যাত বিরল প্রজাতির পারুল গাছ নিয়ে বাল্যকালে রয়েছে তাঁর বর্ণিল সুখস্মৃতি। ছাত্রজীবন শেষে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন বিদগ্ধ আবুল কাসেমের সাথে যিনি পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘে অ্ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন জামিল আখতার বীনু। তিনি আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আজিজুল হক কলেজে অ্ধ্যয়ণকালে অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে রচনা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার পাশাপাশি জামিল আখতার বীনু বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। ঢাকার মীরপুরে কচিকাচার মেলার পরিচালক হিসেবে তাঁর রয়েছে সাহসী ভূমিকা। তিনি বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর আজীবন সদ্স্য, জাতিসংঘ সমিতি ও বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সদস্য। তাঁর সম্পাদনায় দীর্ঘদিন প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকা ‘কথকতা।’ তাঁর প্রকাািশত গ্রন্থ – ভাষা আন্দোলনে নারী (গবেষণা), সারা দাও কথা বলো, ঘুম ভেঙ্গেছে ফুলের (কবিতা), ভালবাসা তোমার জন্য (কবিতা), জোনাক স্ফুলিঙ্গ (কবিতা), জাতিস্মর হতে চাই (কবিতা), প্রতিক্ষা মুখচ্ছায়া (কবিতা), মগ্ন চৈতন্যে আলোর অভিসার (কবিতা), অনুভবে খেরোখাতা (কবিতা), বিষন্ন নীল (কবিতা),নীল হরিতের জলচ্ছবি (গল্প), কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি। জামিল আখতার বীনু দুই পুত্র সন্তানের জননী। দুই পুত্রই যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিযুক্ত রয়েছেন। সমাজসেবাসহ আর্তমানবতার সেবায় অংশগ্রহনের ̄স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রীক সংগঠন ‘সফেন’ কর্তৃক রত্নগর্ভা মা সম্মাননা, লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার, আলোকিত সোনাতলা গুণীজন সম্মাননা, আলোর প্রদীপ আজীবন সম্মাননা। জামিল আখতার বীনু পথশিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন, কাজ করেছেন পুষ্টিহীন দরিদ্র শিশুদের নিয়ে। বগুড়ার সোনাতলায় তাঁর অর্থায়নে সামাজিক সংগঠন ‘আলোর প্রদীপ’ পরিচালনা করছে ‘জামিল আখতার বীনু দরিদ্র শিক্ষার্থী পুষ্টি প্রকল্প’।

২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী,শুভান্যুধ্যায়ীদের কাঁদিয়ে  অনন্তলোকে পাড়ি জমান গুণী ব্যক্তিত্ব জামিল আখতার বীনু।

Check Also

দুর্জয় সাহিত্য গোষ্ঠীর দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ সোনাতলার ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন দুর্জয় সাহিত্য গোষ্ঠীর গৌরবময় দুই যুগ পূর্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + 17 =