সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / একুশ মিশে আছে প্রাণে–এম এম মেহেরুল

একুশ মিশে আছে প্রাণে–এম এম মেহেরুল

‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা’

সত্যিই বাংলা ভাষায় মিশে আছে মায়ের অফুরন্ত স্নেহ-মায়া-মমতা। সেই স্নেহ ভালোবাসা শুধু বাংলাদেশ কেন,বিশ্বের সকল মানুষকে আবেগপ্লুত করে। সকল তৃপ্তি,সকল শান্তি যেন খুঁজে ফেরে তাদের মায়ের ভাষায়। আর তাইতো মায়ের ভাষার সেই ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা আজ থেকে ৬৮ বছর আগে বাংলার রাজপথ কাঁপিয়ে রক্ত ঝরিয়ে মায়ের মুখের ভাষা ফিরিয়ে দিয়েছে মাতৃকোলে। সেদিন এমনই ফাল্গুনে ঝরেছিল তাজা প্রাণ। যাদের দাবি ছিল মায়ের ভাষার অধিকার; যারা পথে নেমেছিল রাষ্ট্র ভাষার অধিকারের কথা জানাতে। অধিকার আদায়ের সেই লড়াইয়ে ঘাতকের গুলিতে ঝরে পড়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ নাম না-জানা আরও অনেক শহীদ। তাদের স্মরণে আজ অমর একুশে। একুশের চেতনা জেগে থাকুক বাঙালির হৃদয়ে শত বছর। সেই প্রত্যাশায় শুরু হোক ভাষার অধিকার আদায়ে জীবন বিলিয়ে দেওয়া সেই দিনের প্রথম প্রহর।
ফেব্রুয়ারির প্রতিটি দিন এক একটি চেতনায় শাণিত। ৫২’র শুরু থেকে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ বলে শ্লোগানে রাজপথ উতপ্ত করে ছাত্র সমাজ যে লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল, রাষ্ট্রভাষা কেন বাংলা হবে না—সে প্রশ্ন করতে শিখেছিল, এই মাস সেই জবাবদিহিতার। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে যে নামগুলো রচনা করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি, তাদের আত্ম দানের স্মৃতিকে মনে রাখা প্রজন্মের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব বোধের জায়গা থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমরা নানান কর্মসূচি র মধ্যে দিয়ে দিবস টি পালন করি। মনে পড়ে সেই ছেলে বেলার কথা। ২১শে ফেব্রুয়ারির আগের দিন যেখানে ই হোক,যেমন করেই হোক কিছু ফুল নিয়ে নিজের হাতেই বানিয়েছি পুষ্পমাল্য শহিদ বেদিতে দেবো বলে। পরের দিন খুব ভোর বেলায় নিজের মনের তাগাদায় স্কুল থেকে চলে যেতাম শহিদ মিনারে ফুল দিতে।স্কুল থেকে যে মালা টি দিয়েছে সেতো দিয়েছে সবাই মিলে।কিন্তু নিজের হাতে বানানো মালা টি একাই শহিদ বেদিতে নিবেদন করে দাঁড়িয়ে থেকে যখন বেদি র চূড়ারর দিকে মুখ করেছি তখন বুকের ভেতর টা হুহু করে ডুকরে উঠেছে। মনে হয়েছে কতো আপনজন কেই না হারিয়েছি। শুধু সেই সময়ে কেন আজও যখন শহিদ বেদির চূড়ায় তাকিয়ে দেখি ঠিক তেমন হুহু করেই ডুকরে ওঠে ভেতর টা। যারা আমাদের ভাষার জন্য, আমার কথার অধিকারের জন্য রক্ত দিলো তাদের কি কখনো পর ভাবতে পারি? তাদের আসন যে হৃদয় সিংহাসনে চির অম্লান,চির ভাস্কর। তারপর যখন একটু বড় হতে থাকি তখন কলা গাছ দিয়ে আমি আর আমার চাচাত ভাই রিপন আগের দিন সারাদিন সারারাত খাটুনি করে শহিদ মিনার বানিয়েছি। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নিজের হাতে বানানো ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। এখনো সেই আবেদন একই আছে। শুধু সময়ের পরিবর্ত নে কলাগাছের শহিদ মিনার আর বানাতে হয় না।
সেই সংগ্রামের ৬৮ বছর কেটে গেলেও এখনও কাজের ভাষা বাংলা নয় অনেক জায়গায়। যে লক্ষ্য নিয়ে ছাত্ররা সেদিন ১৪৪ ধারা ভেঙে বুক পেতে দিয়েছিলেন বন্দুকের নলের সামনে, জীবন দিয়েছিলেন, তাদের আত্মত্যাগ কে আমরা যথাযথ মর্যাদা দিতে পেরেছি কিনা, সে নিয়ে প্রশ্ন এখনও জেগে আছে।

এম এম মেহেরুল
লেখক ও সাবেক চেয়ারম্যান,আলোর প্রদীপ।
ই-মেইলঃ meharul.islam.1991@gmail.com

Check Also

কবিতার মহারাজ—আজাদুর রহমান

কবিতা আমার মহারাজ, আমি তার গোলাম। না জানা লোকের মত অজ্ঞাত কাগজ কলম নিয়ে থাকি, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =