সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / এম এ রাকীব এর অলীক গল্প ‘লাশের লকেট’

এম এ রাকীব এর অলীক গল্প ‘লাশের লকেট’

সকালবেলা। পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম ঘটনার ক্লাইমেক্স। বরিশালের কোন এক নৌঘাটে জনতার ভীড়।কে জানতো এই সংবাদ বিকেলবেলা দু:সংবাদ হয়ে আমার আপন ঠিকানায় উপস্থিত হবে? ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে অনেকগুলো লাশ জমা পরে আছে। অনেক বেনামী লাশের একটা দেখতে ছোট-খাটো। একটা গেঁয়ো ছেলে,বয়স আনুমানিক ১০ কি ১২। এন্ট্রি বুকে রহস্যজনক তথ্য লেখা আছে দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত অবস্থায় ভর্তি। এর বাইরে আর কোন পরিচয় নেই ছেলেটির। তিন দিন পর লাশ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে দেওয়ার ঘোষণা আসল। সারাফত সিনিয়র এক ছাত্রকে নেতৃত্ব দিয়ে ৫ জনকে লাশের নথিপত্র প্রদান করা হয়। লাশঘরে প্রবেশ করা হলো। সারাফত সাদা কাপড় তুলে দেখে তরতাজা এক বালকের লাশ। দন্ডবৎ নীরিক্ষণে দেখা যায় চোখ আর কিডনি নেই। সবাই হতাশ! লাশঘরে নিথর পরিবেশে হায় হায় শব্দের বিচ্ছুরন ঘটলো। সারাফত এদিক সেদিক দেখতে গিয়ে ছেলেটির হাতে একটা লকেট দেখতে পায়। সবার অজানতেই লকেটটি হাতে নিয়ে বিস্মিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ একটা নি:শ্বাস ফেলে। চরম অসস্তিতে লকেট টি লুকালো আর মনকে হাজর প্রশ্ন করলো এটা কিভাবে লাশের হাতে এলো? হতাশা যেন সারাফতের শরীরকে অস্থির, উদ্বিগ্নতায় বিষিয়ে তুলছে। এমতাবস্থায় স্যার ক্লাস ওভার করলেন। সবাই ফিরে গেল। সারাফতও গেল কিন্তু লাশটা যেন ওর পেছন ছাড়ছে না। এদিকে গতকাল তার ভাই বিদেশ গেছে কিন্তু পৌঁছেছে কিন তার খবর পায়নি। ভাইকে ফোন করে বিষয়টা জানাবে কি জানাবে না একটা দ্বিধায় পড়ে গেল। লকেটের রহস্য কি ভাই বলতে পারবে? ভাগ্যিস আমার হাতেই পড়েছিল নইলে আমার….. ভা..আ..আ..ধেৎ কি সব উল্টাপাল্টা মনে হয়, জানিনা। এমন একটা বিষয় কারো শেয়ার করার মতো নায় লশের বেপার, খুন-খারাবি জড়িয়ে আছে। এত কিছু ভাবতে ভাবতে সারাফত পাগলপ্রায়। বেশ কতকদিন হচ্ছে তাকে খুব ব্যতিক্রম লাগছে। সে ভাবছে এ রহস্য উদ্ঘাটন করবেই। সারাফত মেডিকেলের ছাত্র। সে ভদ্র,নম্র,পরদুঃখ কাতর ও একটু আবেগপ্রবণ। স্বভাবতই তাকে দেখতে চিন্তামনস্ক লাগে। হলের সবাই মজা করে তাকে চিন্তাফত নামে ডাকে। কিন্তু ওর অন্তরে এখন চিন্তা নাই, আছে কেবল উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। কারন, লাশটার এখনও কোনো হাল-গোছ হয় নি। যেখানেই থাকে লাশ ঘরটা যেন ওকে চুম্বকের মত টানে। পাঁচ দিন পর টিভিতে ছবিসহ বালকটির হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো। ছেলেটিকে দেখে ওর কেন জানি চেনা মনে হলো কিন্তু ঠাওর করতে পারলোনা। লাশটা এখন আরও অচেনা হয়ে উঠছে। অবশেষে সারাফতের সন্দেহ আর হারানো বিজ্ঞপ্তি মিলে গেল। কিন্তু লকেট রহস্যই রয়ে গেল। বালকটির নাম নিসঙ্কর চাকমা। গারো পাহাড়ের লাল মাটিতে ওদের জীবন গড়ে উঠেছিল। পাহাড়ের উপজাতির কোন্দলে স্বামীকে হাড়িয়ে নিসঙ্কর কে কোলে করে পলিমাটিতে জীবন নৌকা ভেড়াতে এসেছিল। এক নদী কষ্ট বুকে শিবরাত্রির শলতে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু কি নিষ্ঠুর এই পলির লোকগুলো। এক শিশুর জীবন নিয়ে দেহ পাঠালো মেডিকেলে। আসলে আমরা নামে সঙ্কর জাতি কিন্তু কামে নিসঙ্করের লাশনির্মাতা। আমাদের বহু জাত মিশ্রিত হলেও এই একজাতের কাছে পরাজিত। আজ কেউ জানেনা নিসঙ্করের বসবাস কোথায়? জানে সারাফত। আর জানে বলেই পাহাড় সমান বেদনার সংবাদ বয়ে বেড়াচ্ছে। এমন সময় সারাফতের ফোন বেজে উঠলো, রিসিভ হলো, শুনতে পেল সঙ্কর তো মরেই গেছে ওর মা কোথায় তার কাছে আমার লকেট আছে। যদি দেখা হয় লকেট টা নিও। ঘটনাচক্র?

Check Also

খেলাঘর সোনাতলা উপজেলা শাখার ওয়েবসাইটের উদ্বোধন

রবিউল ইসলাম শাকিল (শিক্ষানবিশ স্টাফ রিপোর্টার):রবিবার বিকাল ৪ টাই হাসনাহেনা খেলাঘর আসর এর কার্যনির্বাহী সদস্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + 13 =