সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / কথাসাহিত্যিক সাকি সোহাগ এর পাঁচটি কবিতা

কথাসাহিত্যিক সাকি সোহাগ এর পাঁচটি কবিতা

একটি বৃহস্পতিবার ও আমার জীবন

সারা সপ্তাহের অফিসিয়ালি গ্লানি
জীবন চলাফেরার ব্যস্ততা
একটা বৃহস্পতিবার রাতে পুড়িয়ে ছাই করি
সিগারেটের জ্বলন্ত আগুনে।
পুড়তে পুড়তে যেটুকু অবশিষ্ট থাকে
তাও উড়িয়ে দেই দোতারা হাতে
মাতাল রাজ্জাকের গানে-
আমার উপরে উপরে দেখতে ভালা
ভেতরে হয়েছে ঘাও,
বনের কোকিল রে
কৃষ্ণ শূন্য দেশে কেনে গান গাও?

অনিয়মের ইচ্ছা

একটা সময় জীবনের সব নিয়মকানুন ভুলে
নিজের মতো করে বাঁচব
আমি ফুসকা খাওয়ার ছবি তুলে
বা দামি রেস্টুরেন্টে বসে
বিরিয়ানি খাওয়ার ছবি তুলে
কাউকে দেখাতে পারব না।
তাতে লোকে আঁতেল বললে বলুক
আমার ভাল্লাগে না ওসব।

গ্যাসে পেট ফেঁপে থাকা সত্বেও
সেসময় আমি পরোটা খাব
বুটের ডালে ডুবিয়ে ডুবিয়ে।
কারণ পরোটা খেতে আমার ভাল লাগে।

একদিন শার্ট প্যান্ট পরে
আমি বড়শি দিয়ে মাছ ধরব
বিল বা নদীর ঘোলা জলে।
মানুষ বলবে বেমানান লাগছে।
বলুক, তাতে আমার কী?
আমি সুখ পাব।

মনের মতো মানুষ না পেলে
বিকেলই কি সন্ধ্যায় কি
ঘুরতে বের হব না।
তাতে কোন মানুষ মিশুক নয় বললে বলুক
আমার ভাল্লাগে না ওমন মানুষ।

আমার বাপ যাত্রা মঞ্চে উঠেছে
পালা গান করেছে
আমার যাত্রা মঞ্চ; পালা গান ভালো লাগে
আমি গান গাই, যাত্রা করি
তাতে মানুষ ক্ষ্যাত বললে বলুক
আমি নিজের মতো করে বাঁচতে চাই।

একদিন পুরো শহর কালো সানগ্লাসে দেখব রিক্সায় চড়ে,
রিক্সাওয়ালার ছেলে বলে মানুষ খোঁটা দিলে দিক
রিক্সায় ঘুরতে আমার ভাল লাগে।

অফিস শেষে সন্ধ্যা বেলায়
দোতারায় সুর তুলব
মানুষ বাউল বা পাগল বললে বলুক
তাতে আমার কী?
আমার ভাল লাগবে
আমি তৃপ্তি পাব।

একটা সময় জীবনের সব নিয়মকানুন ভুলে
নিজের ভাল লাগাকে প্রাধান্য দিব
নিজের মতো করে বাঁচব
তাতে মানুষ অহংকারী বলুক
অথবা একঘেয়ে বলুক,
বড় ভাইয়েরা পাত্তা না দিক
ছোট ভাইয়েরা স্বার্থপর বলুক
বা মানুষ ভাল না বাসুক।
আমি নিজের মতো করে বাঁচতে চাই
এক গাল হেসে
নিজেকেই নিজে ভালবেসে।

লেখালেখি

লেখালেখির পরিচয় দিয়ে আমি হয়তো
কোনদিন ভিজিটিং কার্ড বানাতে পারব না।
কারণ আমার লজ্জা করে
শরমে মুখটা লাল হয়ে উঠে।
আমি কী লিখি?
কী এমন লেখক আমি?
লেখালেখি করি তো নিজের জন্য
ভাল থাকার জন্য
সুস্থ থাকার জন্য।
আমার লেখালেখি কোনদিন যেন
অহংকার হয়ে না আসে আমার জীবনে
ভালো লাগার অনুভূতি হয়ে থাকুক
ভালোবেসে আঁকড়ে ধরে আমাকে।

লেখালেখির পরিচয় দিয়ে আমি হয়তো
কোনদিন পোস্টার ছাপাতে পারব না
লেখালেখির পরিচয় দিয়ে আমি নিজেই
মানুষের হৃদয়ে ছেপে যেতে চাই।

পাগল মন

পাগল মন কত কিছুই না করতে চায়,
খুব ইচ্ছে করছে
চৈত্রের এই ভর দুপুরে নদীর চরের
উত্তপ্ত বালিতে খালি পায়ে হাঁটি
ছোট বেলার মতো বালি নিয়ে খেলি
খেলতে খেলতে নদীর হাটু পানিতে
শরীরটাকে ডুবিয়ে রাখি।

পাগল মন কত কিছুই না করতে চায়,
খুব ইচ্ছে করে
নদীর কোলে বসে সন্ধ্যায়
জলের নিস্তব্ধতা দেখি
চরের বালির স্বস্তি দেখি
বইয়ে যাওয়া নিরব হাওয়ায়
নিজেকে বিলীন করে দেই।
পাগল মনের চাওয়াগুলো
আজ কর্মের তাগিদে শুধুই পাগলামি।

বহুবার মরেছি

আমি একবার নয়
বহুবার মরেছি
মরতে মরতে আমি আজ ক্লান্ত।

কোন এক গভীর রজনীতে
প্রথম আমার মৃত্যু ঘটে
তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার মধ্যদিয়ে।

সে রাতে আকাশ ভরা উড়ন্ত কালো মেঘ থাকা সস্বেও
এক ফোঁটাও বৃষ্টি নামেনি জমিনে।
নিস্তব্ধ রাতের অন্ধকারকে
বুকে শক্ত করে জড়িয়ে
আমি সেদিন আবিষ্কার করেছিলাম
আমার চোখের আঙিনায়
দু’ফোঁটা নোনা জল।

তারপর কতবার মরেছি!
তোমাকে ভাবতে গিয়ে মরেছি
তোমাকে আঁকতে গিয়ে মরেছি
মরতে মরতে আমি আজ ক্লান্ত।

 

Check Also

ঠাকুরগাঁও এর বালিয়া মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস–মোফাচ্ছেরুল আল নোমান

ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে পঞ্চগড় এর বোদা উপজেলা যাওয়ার পথে ভূল্লী হাট নামক জায়গা থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + twelve =