সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / করোনার কারনে সীমিত আয়োজনে বগুড়া জেলা গঠনের দু’শত বছর উদযাপন হচ্ছে আজ

করোনার কারনে সীমিত আয়োজনে বগুড়া জেলা গঠনের দু’শত বছর উদযাপন হচ্ছে আজ

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদঃ ১৩ এপ্রিল বগুড়া জেলা গঠনের দু’শত বছর । মহামারী করোনার কারনে এ দিনটি সীমিত পরিসরে উদযাপন হচ্ছে। সোমবার বগুড়া শহরের অভিজাত হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ বগুড়া জেলা গঠনের দুথশত বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের সভাপতি প্রবীণ চিকিৎসক সি এম ইদরিস। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দুথশত বছর পূর্বে ১৮২১ সালের ১৩ এপ্রিল বগুড়া জেলা গঠনের সরকারী আদেশ জারি করা হয়। তাই জেলা গঠনের দুথশত বছর পূর্তি উদ্যাপনের জন্য বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, বগুড়ার ইতিহাস শুধুমাত্র দুইশত বছরের ইতিহাস নয়। খ্রীষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে বগুড়া ছিল মৌর্য শাসনাধীনে। মৌর্য শাসনের পর এ অঞ্চলে চলে আসে গুপ্তযুগ। এরপর শশাংক, হর্ষবর্ধন, যশোবর্ধন পাল ও সেনরাজ বংশ। মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন প্রভূতি রাজাদের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল প্রাচীন জনপদ বগুড়া তথা রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধন। বর্তমান মহাস্থানগড়ে যার ধ্বংসাবশেষ আজো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাই স্বভাবতই বলা যেতে পারে যে, বগুড়ার আছে হাজারো বছরের এক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। এই হাজারো বছরে বগুড়া দেখেছে হিন্দু শাসন আমল, সুলতানী আমল, নবাবী আমল, বৃটিশ আমল ও পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল। একদা অনেক মনীষী, পর্যটক, পীর-ফকির, আউলিয়ার পদচারণায় ধন্য হয়ে উঠেছিল এই জনপদ। দীর্ঘ সময় ধরে ছিল এই বগুড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের তীর্থকেন্দ্র। হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ্:) মাহী সাওয়ারের আগমনে এ অঞ্চলে বিকাশ ঘটে ইসলামী সভ্যতার। কিংবদন্তী বেহুলা- লখিন্দরের ঘটনার স্মৃতিও ধারণ করে আছে বগুড়ার মাটি।
তিনি বলেন, বগুড়ার নব জাগরণ ঘটে বৃটিশ শাসনামলে ১৮২১ সালের ১৩ এপ্রিল যখন তৎকালীন বৃটিশ সরকার এক প্রশাসনিক আদেশে রাজশাহী জেলা থেকে কেটে বগুড়া জেলার সৃষ্টি করে তখন। সেই থেকে বিভিন্ন সময়ে পার্শ^বর্তী জেলা থেকে বিভিন্ন এলাকা সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে বর্তমান বগুড়া জেলার মানচিত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই বগুড়া জেলা এখন উত্তরবঙ্গের গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার বলে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। দুইশত বছর পূর্বে বগুড়া জেলা সৃষ্টির পর থেকে এই জেলার সৃষ্টিশীল প্রথিতযশা কিছু মানুষ মন প্রাণ দিয়ে কাজ করে এই জেলাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। বগুড়ার যে গৌরবময় অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরই প্রচেষ্টায় বগুড়া এখন বাংলাদেশের মধ্যে একটি অন্যতম উন্নত জেলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যোগাযোগে বগুড়া প্রভূত উন্নতি করেছে। এই বগুড়াকে অতীতের মত অত্রাঞ্চলে নেতৃত্ব প্রদানের মত করে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে আগামী প্রজন্মের কাছে আরো উন্নত বগুড়া উপহার দেওয়ার জন্য বর্তমান প্রজন্মকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করার আহŸান জানাতে হবে। বগুড়া যে হাজারো বছরের উন্নত সভ্যতার চারণভূমি ছিল তাও জানানোর সময় এসেছে আজ। বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ মূলত: সেই বগুড়ার বর্ণাঢ্য গৌরবময় ইতিহাস বিশেষ করে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান বাংলাদেশ পর্যায় পর্যন্ত ঘটে যাওয়া কর্মকান্ড নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে বিগত ২০২০ সালের ১৮ই ডিসেম্বর বগুড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ। তিনি বলেন, অত্র সংগঠনের যাত্রালগ্ন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি আমরা বগুড়ার হারানো এবং বিলুপ্তপ্রায় ইতিহাস পুনরুদ্ধারের লক্ষে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। আর এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের গবেষণাকর্ম, প্রকাশনা সমূহ সংরক্ষণের জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আর সে কারণেই বগুড়া নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন তাদের অনেক মূল্যবান প্রকাশনা আছে। তবে তা বিচ্ছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আমরা সেই গবেষণাকর্ম তথা পান্ডুলিপি গুলোকে সংগ্রহ পূর্বক পুণঃমুদ্রন করার উদ্যোগ নিয়েছি। সেগুলোকে সংগ্রহ করে প্রয়োজনে নতুন করে প্রকাশের ব্যবস্থা পূর্বক সমস্ত গবেষণা ও পুস্তক সমূহ পরিষদের লাইব্রেরীতে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।। পাশাপাশি যারা বগুড়ার ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, শিল্প নিয়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করবেন, পিএইচডি করবেন, থিসিস লিখবেন তাদেরকে অত্র পরিষদ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে তাদের সেই থিসিসের স্বত্ত¡সহ পান্ডুলিপি বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের লাইব্রেরীতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের কার্যালয়ে একটি উন্নতমানের পাঠাগার স্থাপন করা হবে এবং সেখানে সকল ধরণের ইতিহাস নির্ভর বই সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পরিষদ থেকে প্রতি দুই মাসে একটি করে ইতিহাস বুলেটিন প্রকাশ করারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেখানে ধারাবাহিক ভাবে বগুড়া সহ দেশের প্রথিতযশা ইতিহাসবিদদের লেখা ছাপানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি। করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩ই এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে সকাল ১১টায় বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে বগুড়া জেলা গঠনের দুইশত বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় আলোচনা সভা ও দুথশত বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা “বগুড়া কথা” এর মোড়ক উন্মোচন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের উপদেষ্টা ডা: মশিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল করিম দুলাল, সহ-সভাপতি মতিউল ইসলাম সাদী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রাজিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট শের আলী, রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দা তাহমিনা পারভীন শ্যামলী, নির্বাহী সদস্য জিয়াউর রহমান, রেজাউল বারী ঈশা, ইনছার আলী, জহুরুল হক প্রমুখ

 

Check Also

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বগুড়ার স্মারকলিপি পেশ

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপে অবস্থিত সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস‘র সেজান জুস কারখানায় গত ৮ জুলাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 5 =