সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / গাইবান্ধার খবর / করোনার থাবা দুগ্ধ খামারেঃ গোবিন্দগঞ্জে অর্ধেক দামেও মিলছেনা দুধের গ্রাহক

করোনার থাবা দুগ্ধ খামারেঃ গোবিন্দগঞ্জে অর্ধেক দামেও মিলছেনা দুধের গ্রাহক

মনজুর হাবীব মনজু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : করোনা নিয়ন্ত্রণে জারি হওয়া লকডাউনের কারণে উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এখানকার দুগ্ধ খামারি ও গৃহস্থরা। দুধের ক্রেতা নির্ধারিত মিষ্টির দোকান ও মিষ্টান্ন খাদ্য কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় বাজার দরের চেয়ে অর্ধেক দামেও মিলছে না দুধের ক্রেতা। সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই তাদের ফেলে দিতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ দুধ। দই ও মিষ্টির দোকান বন্ধ থাকায় এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই পড়েছেন চরম বিপাকে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে বাজারে লোক সমাগম কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক দশকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে একটি বড় খামার সহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অনেক দুগ্ধখামার। মহিমাগঞ্জ বাজারের দুধের হাটে প্রতিদিন দুই শতাধিক গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র দুধ ব্যবসায়ি দুধের বেচা কেনা করে থাকেন। এখানকার দইয়ের সুনামের কারণে গাইবান্ধা জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দই বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অনেক আগে থেকেই দুধের ছানা তৈরি করে গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলার অধিকাংশ মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করেন ছানা ব্যবসায়িরা। এ কারণে দুধের চাহিদা পূরণে গৃহস্থরা উন্নত জাতের গাভি নিয়ে বাড়িতেই ছোট ছোট খামার গড়ে তোলেন। এ ছাড়া কয়েক বছর হলো মহিমাগঞ্জে গড়ে উঠেছে একটি বড় দুগ্ধ খামার। স্থানীয় শ্রীপতিপুর পাছপাড়ায় গড়ে ওঠা এমেক্স ডেইরী ফার্ম নামের এ খামারে বর্তমানে ১৫৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২৫টি গাভী প্রতিদিন দুইশ’ ৮০ লিটার দুধ দিচ্ছে। এ খামারের ব্যবস্থাপক উদয় ভট্টাচার্য্য জানান, ৫০ টাকা লিটার হিসেবে এখানে উৎপাদিত দুধ বগুড়ার একাধিক বড় মিষ্টান্ন কারখানা সহ গোবিন্দগঞ্জ ও মহিমাগঞ্জের বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হতো। লকডাউনের কারণে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় বাজার ও এলাকার মানুষের কাছে ভ্রাম্যমান গাড়িতে করে অর্ধেক দামে খুচরা বিক্রি করেও প্রতিদিনই উদ্বৃত্ত থাকছে অনেক দুধ। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ফেলে দিতে হচ্ছে এ সব দুধ। এ ছাড়াও এ খামারের উৎপাদিত ঘী রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হতো। বর্তমানে সে গুলিও আটকে আছে। আগামি দু’মাস পর থেকে এখানে দুধের সরবরাহ আরও বেড়ে দাঁড়াবে চারশ’ লিটারের বেশি। এ অবস্থা চলতে থাকলে তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
একই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় ছোট ছোট দুগ্ধ খামারের মালিক ও সংশ্লিষ্ট গৃহস্থরা। তারা বলেছেন, গরুর খাদ্য ও আনুষঙ্গিক পরিচর্যা করে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে খরচ হয় চল্লিশ টাকার বেশী। অথচ এখন ২০ থেকে ৩০ টাকায় দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। তারপরেও প্রয়োজনীয় ক্রেতা না থাকায় প্রতিদিনই দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রণীসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মো: বেলাল হোসেন জানান, বর্তমান পরিস্থিতি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ১৫ হাজার খামার রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার খামারীকে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
দুগ্ধ শিল্প রক্ষায় প্রণোদনা বৃদ্ধিসহ সরকারের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

Check Also

সাঘাটায় ভেসে উঠলো নিখোঁজ কৃষকের লাশ

জয়নুল আবেদীন, স্টাফ রিপোর্টারঃ অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় গোসলের স্থানেই ভেসে উঠলো নিখোঁজ কৃষক আতাউরের লাশ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + 2 =