সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই কেএসএফ এর গবাদিপশু চিকিৎসা ও দুগ্ধ ক্রয় কার্যক্রম

করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই কেএসএফ এর গবাদিপশু চিকিৎসা ও দুগ্ধ ক্রয় কার্যক্রম

বাঙালি বার্তা ডেস্কঃ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কেএসএফ (কৃষি সহায়তা ফাউন্ডেশন)। ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে সংস্থাটির পথচলা শুরু। সংস্থাটি ‘দরিদ্র কৃষক সহায়তা’ নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকের কাছে যেতে চায়। জমি থাকা সত্বেও যে সকল অসচ্ছল ও দরিদ্র কৃষক শুধু টাকার অভাবে ফসল উৎপাদন করতে বাঁধাগ্রস্ত হয় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনের চাকাকে আরও গতিশীল করতে চায়।
সংস্থাটির বহুমুখী সেবাধর্মী কাজের মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করা, বিশেষত, পড়াশুনার পাশাপাশি তাদেরকে আয়বর্ধনমূলক কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনে সক্ষম করে গড়ে তোলা। আর এ লক্ষে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পৌরসভাধীন গড়চৈতন্যপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘গড়চৈতন্যপুর এইচ এন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের টুপি তৈরি, সেলাই, কাগজের ঠোঙা তৈরি, বাচ্চাদের খেলনা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়মিতভাবে প্রদান করে চলেছে।
২০১৮ সাল থেকে চর অঞ্চলের খামারীদের জন্য ‘নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গবাদী পশুপালন সম্প্রসারণ ও দুগ্ধের ন্যায্য মূল্য বাস্তবায়ন’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করে আসছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়ার সোনাতলা-সারিয়াকান্দি উপজেলা ও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের ৩০ টি কেন্দ্রে প্রতি মাসে প্রায় ১০/১২ হাজার খামারী গরু-ছাগল ও ভেড়ার চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিনামূল্যে পেয়ে থাকে। এ কাজে ৫ জন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছে। সংস্থার নিয়োগকৃত ১০ জন দুগ্ধকর্মী চরাঞ্চলের উৎপাদিত দুধের ফ্যাট পরীক্ষার মাধ্যমে ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা লিটার দরে ক্রয় করে থাকে।
কেএসএফ ফাউন্ডেশনের সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া কৃষক আতোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন খামারী জানান, ‘আমাদের চরাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামে কেএসএফ ফাউন্ডেশন চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করে তাদের নিয়োগকৃত গবাদী পশু চিকিৎসকদের দ্বারা গবাদী পশুর চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে আসছে। তবে তা প্রতিটি কেন্দ্রে সপ্তাহে একদিন মাত্র। কোন সময় এ কর্মকান্ডটি দু সপ্তাহে একবার হয়ে থাকে। এ জন্য আমাদের কোন ফি বা টাকা পয়সা দিতে হয়না।’ তারা আরও জানান, ‘কেএসএফ এর নিয়োগকৃত দুগ্ধ কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরুর দুধ দোহন করে সংগ্রহ করে থাকে। এতে যেমন আমাদের সময় বাঁচে তেমনি আমরা ন্যয্য মূল্য পেয়ে থাকি। তবে সমস্যা হলো দুধের বিল আমরা সপ্তাহে একদিন করে পেয়ে থাকি। প্রতিদিনের মূল্য প্রতিদিন পেলে আমরা আরও বেশি উপকৃত হতাম। তাই সংস্থাটির জনবল কাঠামোসহ আরও দ্রুত সেবা আমরা প্রত্যাশা করছি।’
কেএসএফ ফাউন্ডেশনের সেবাধর্মী কার্যক্রম নিয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ শামীম হোসাইনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘কেএসএফ ফাউন্ডেশন কৃষকদের জন্য একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড। কৃষক স্ববলম্বী হলে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়লে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের কাক্সিক্ষত সুচক অর্জন করে তার সম্মুখ যাত্রা আরও গতিশীল করতে পারবে। আমাদের পরিচালিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো- ‘নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গবাদিপশু সম্প্রসারণ ও দুগ্ধ ন্যায্যমূল্য বাস্তবায়ন প্রকল্প।’ এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও সাঘাটা উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১০ টি ইউনিয়নের ১২ হাজার খামারীকে ২০১৮ সাল থেকে ৩০ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে চলমান কার্যক্রম হিসেবে গবাদিপশু চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করে আসছি। গ্রামের যে সকল খামারী তাদের স্বল্প উৎপাদিত দুধ (২/৩ লিটার) ন্যায্যমূলে বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তো । অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের থেকে ১৫ থেকে ২০ টাকা লিটার দরে দুধ ক্রয় করে নিজেরা লাভবান হতো। পক্ষান্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হতো প্রান্তিক খামারী। এই সকল খামারীদের জন্য আমরাই সর্বপ্রথম ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম শুরু করেছি। আমরা আমাদের নিয়োগকৃত ১০ জন দুগ্ধকর্মী দ্বারা চরাঞ্চলের খামারীদের নিকট থেকে ফ্যাট পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার লিটার দুধ প্রাক ডেইরীর নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করে চিলিং মেমিনের মাধ্যমে শীতলীকরণ করে দই-ছানা তৈরির কারখানায় সরবরাহ করে থাকি। এটি কেএসএফ এর নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রকল্প। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সংগ্রহকৃত ২ থেকে ৩ হাজার লিটার দুধ ক্রয় করা গেলেও তা সম্পূর্ণ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার লিটার দুধ নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে বর্তমানে বড়ধরণের অর্থনৈতিক ঝুকির মধ্যে রয়েছে কেএসএফ। এ অবস্থার মধ্যেও সামাজিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে কেএসএফ এর সভাপতি মোছাঃ নুরুন্নাহার খাতুনের ও কেএসএফ এর যৌথ উদ্যোগে চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার খামারী ও কৃষকের মাঝে আমরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান পৌঁছে দিয়েছি। একইসাথে কর্মহীন ২ হাজার মানুষকে মাঝে চাল,ডাল, তেল, আলু,লবণসহ খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে দিতে সক্ষম হয়েছে কেএসএফ। এছাড়াও কেএসএফ পরিচালিত ‘গড়চৈতন্যপুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
আমরা মানুষের জন্য বিশেষত কৃষকের কল্যাণে আরও কাজ করতে চাই। চরাঞ্চলের দুগ্ধ খামারীদের আরও অধিক সহায়তা দিতে তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত দুধ মিল্ক ভিটাতে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তারা আরও বেশি উপকৃত হতো, পাশাপাশি কেএসএফও দুগ্ধ খামারীদের আরও অধিক সহায়তা করতে পারতো বলে বিশ্বাস করি। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

Check Also

বগুড়া শেরপুুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণ

মোত্তালিব সরকার,শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 3 =