সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / কৃষকের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি দখল করে বাঁধ নির্মাণ

কৃষকের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি দখল করে বাঁধ নির্মাণ

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ,বগুড়া প্রতিনিধিঃ
কৃষকের বসতবাড়ি, ফসলি জমি জবর দখল করে একটি প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে এলজিইডি ও “জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)”র বিরুদ্ধে। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজটি করছে “বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি”। বাঁধ নির্মাণের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী জাহিদ খন্দকারকে নানা ভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির প্রভাবশালী নেতারা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বড়দহ সেতু এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসান হাবিব ঘটনাস্থল প্রদর্শন করেছেন। তিনি এসময় কিছুটা অনিয়ম দেখতে পেয়েছেন বলেও জানান। এবং কৃষকের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় নির্মাণ করা বাঁধটি সারিয়ে নেয়ার কথাও বলেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, গোবিন্দগঞ্জের বড়দহ সেতু থেকে সাঘাটার ত্রিমোহনী সেতু পর্যন্ত ৫.৩ কিলোমিটার বাধঁ নির্মাণের কাজ চলছে। “এলজিইডি” ও “জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ওই প্রকল্পে এক কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজে অনিয়ম ও জবর দখলের জোরালো অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবী এই আসনের এমপির প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির মামলার ভয় দেখিয়ে সরকারি জায়গা ব্যবহার না করে কৃষি জমির ক্ষতি করে বাধঁ নির্মাণ করছে ওই সমিতি।
স্থানীয় কৃষক ময়েন উদ্দিন, আতিকুর রহমান বিটল, পল্লী চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম, স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল মতিন অভিযোগ করে বলেন, বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যরা ভূমির নকশা পরিবর্তন করে সরকারি খাস জমি ব্যবহারের পবিবর্তে তালুক সোনাইডাঙ্গা মৌজার ২৮৩ খতিয়ানের ৬০৭, ৬১২, ১১১৭, ১১২১, ১১২৫ দাগের আমার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি থেকে মাটি নিয়ে আমার জমির উপর দিয়েই ৪০ ফুট গোড়ালীসহ ১২ ফুট চওড়া মুখ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তারা বরাবরেই মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এমন অনিয়ম নিয়ে কথা বললে তারা স্থানীয় সাংসদ প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও তার ভাই লিটন চৌধুরীর নাম বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হবে বলেও জানায় সমিতির সদস্যরা।
স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদ খন্দকার বলেন, কাজের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করার পর থেকেই আমাকে বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নওসা মিয়া এবং তার দলের লোকজন প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে বাঁধ নির্মাণের জায়গায় লাঠিসোটা নিয়ে আমাকে মারার জন্য মহরা দিয়েছে। আমি কোন রকমে সেখান থেকে সরে এসেছি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সাংসদ প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার ছোট ভাই লিটন চৌধুরী বলেন, আমি এবং আমার ভাই এই প্রকল্পের সাথে নেই। আমরা ওই বাঁধের কাজের কোন কিছুই জানিনা। তৃতীয় কোন পক্ষ আমাদের নামে মিথ্যা কথা বলছে।
বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নওসা মিয়া বলেন “এই বাধ নির্মানের কৃষকদের কোন ক্ষতিপুরণের অর্থ নেই। আমরা “বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি”র মাধ্যমে “এলজিইডি” ও “জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)”র অর্থায়নে কাজ করছি।” তিনি আরো জানান, আমরা কারো জমিতে জোর পূর্বক বাঁধ নির্মাণ করিনি। নকশা অনুযায়ী কাজ চলছে। কোন সাংবাদিককে হুমকিও দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসান হাবিব জানান, আমি ঘটনান্থল পরিদর্শন করেছি। যে কৃষকের মালিকানাধীন জামির উপরে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তাদের জমির কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে বাঁধটি সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি সামান্ন কিছু জায়গায় একরম অনিয়ম হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।

Check Also

পঞ্চগড়ের বোদায় ৫০০ প্রান্তজনীয় নারীকে খাদ্য সহায়তা প্রদান

খবর বিজ্ঞপ্তিরঃ রবিবার দুপুর ২ টায় পঞ্চগড়ের বোদায় ইউসিবিএল ও বিসেফ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় উমেন এন্ডিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + twelve =