সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / গাইবান্ধার খবর / গাইবান্ধায় বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

গাইবান্ধায় বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল.গাইবান্ধাঃ করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯ সংক্রমন রোধ জাতীয় কর্মসূচীতে গাইবান্ধা জেলায় এ পর্যন্ত সরকারি ভাবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলায় ১০ হাজার পরিবার কে খাদ্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ২৪ লাখের অধিক মানুষের প্রায় কয়েক লাখ পরিবারের মধ্যে দশহাজার পরিবার পেয়েছে খাদ্য সহায়তা। অথচ জেলার শতকরা ২০ টি পরিবার ছাড়া ৮০ ভাগ পরিবার চলমান দুর্ভোগে ঝুঁকি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য।

জেলার সাতটি উপজেলায় মটর পরিবহন খাতে শ্রমিক রয়েছে প্রায় ১৪ হাজারের অধিক পরিবার । পায়ে টানা ও অটো রিক্সা ভ্যান শ্রমিক রয়েছে প্রায় ১০ হাজার অধিক পরিবার,কুলি শ্রমিক রয়েছে প্রায় ১০ হাজারের অধিক এছাড়াও বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সহ ক্ষুদ্র দোকানি হাজারো হাজার। দরিদ্রতম অঞ্চল এই জেলা এখানে বরাবরি প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম দুর্যোগ আসে। যে সব দুর্যোগে প্রান ছাড়া কিছু হারানোর না থাকলেও ক্ষুধার্ত থাকতে হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় ব্যাপকভাবে । অসহায়ের সুবিধা আসে সেসব যায় অসাধু সুবিধা ভোগীর ঘরে। সংবাদে ও মিডিয়া কাভারেজে শ্রমজীবী কথাটি উল্লেখ করা থাকলেও জেলায় কতজন প্রকৃত শ্রমজীবীকে সহায়তা করা হয়েছে তা আজও জানা যায়নি। তবে বরাদ্দে যতটুকু সবটুকু সুষ্ঠুভাবে ১০ হাজার পরিবার পেয়েছেন। চাহিদা মাফিক আগে পাওয়ার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিবারগুলো পায়নি । পেয়েছেন মেম্বার, চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা ,সরকারি কর্মকর্তাদের মনোনীত ব্যক্তিরা। উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অলিখিত ফরমেট অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত করে বরাদ্দের মালামাল হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে করে প্রকৃত অসহায় শ্রমজীবী বিপাকে পড়া মানুষগুলো বঞ্চিত হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলার নির্মাণ কাজের রাজমিস্ত্রি শ্রমিকগণ জানান,৩ শত হতে ৪ টাকা দিন শ্রম বিক্রি করে আয় করি তা দিয়েই আমাদের পরিবার চলে বর্তমান সময়ে ৪ /৫ দিন হলো কাজ কর্ম না থাকায় পরিবার নিয়ে আমরা ব্যাপক সমস্যায় রয়েছি। সরকারি সহায়তার কথা জানতে পারলে আজ পর্যন্ত পাই নাই।

গোবিন্দগঞ্জের নরশ্রমিকগণ জানান,আমরা অলস সময় পার করছি। হাতের ছোয়ায় করোনার সংক্রমন আমাদের কাজ আর কেউ করতেও চায় না। আমরা অসহায় দিনাতিপাত করছি আমাদের খবর কেউ নেয় না।

সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট, নলডাঙ্গা, ঢোলভাঙ্গার ভ্যান রিক্সা চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাঠির বারি খেয়ে এর মধ্যেও জীবিকা নির্বাহে বেরিয়ে পড়ছে পরিবারের জন্য খাদ্য সংগ্রহে। তারা বলেন, সরকারের খাদ্য সহায়তা গ্রামে দু এক জন পেয়েছে তবে আমাদের কপালে জোটেনি।

গাইবান্ধা শহর ও পলাশবাড়ী উপজেলার হোটেল শ্রমিকগণের সাথে আলাপ চারিতায় জানা যায় ২৫ তারিখ হতে হোটেল গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এ পযন্ত মালিক পক্ষ বা সরকারিভাবে কোন সহায়তা তারা পায়নি। জীবিকা নির্বাহে তারা পরিবার নিয়ে দারুন কষ্ঠে দিনাতি পাত করছে। গোবিন্দগঞ্জ মটর ও পরিবহন শ্রমিকদের শ্রমিক সংগঠন গুলো হতে বা সরকারিভাবে কোন প্রকার খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়নি । তারা রয়েছে কর্মহীন নিদারুন সংকটে।

চলমান সংকটে প্রকৃত অসহায় মানুষ গুলোর পাশে দাড়াতে সরকারে সংশ্লিষ্টদের আরো বেশী সতর্ক থাকতে হবে। ভাগ বাটোয়ারা চলবেই তা তো আর থামানো যাবে না। কারণ সকলেই যেখানে ক্ষমতাবান ভাগ সেখানে থাকবেই। তবে সকল ক্ষেত্রে ভাগ বাটোয়ারা হয় না। বর্তমান সময়টি মহা সংকটময় সময় তা মোকাবেলা করুন, নিজে বাঁচুন ও জাতি কে বাঁচান জাতি বাঁচলে আপনি পরবর্তিতে আরো বেশী বাটোয়ারা করে দিতে পারবেন ইচ্ছামাফিক ফরমেটে। বর্তমান সময়টুকু স্বচ্ছতার সহিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মানুষ

Check Also

সরকারি নাজির আখতার কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও বোনারপাড়া ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানের অকালপ্রয়াণ

বাঙালি বার্তা ডেস্কঃ সরকারি নাজির আখতার কলেজের ৯৫ ব্যাচের মেধাবী ছাত্র ও বোনারপাড়া ডিগ্রী কলেজের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 3 =