সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / ঘুরে আসা দার্জিলিং স্মৃতি –সিজুল ইসলাম

ঘুরে আসা দার্জিলিং স্মৃতি –সিজুল ইসলাম

বগুড়ার সোনাতলার চমরগাছা গ্রামে জন্মেছি, বড় হয়েছি। উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোনোর পর সোনাতলা ছেড়ে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করি। ছাত্র থাকা অবস্থায় প্রথমবার কলেজ থিয়েটার এবং বগুড়া থিয়েটারের সুবাদে ভারতের কলকাতাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ভিসা নেওয়া হয়। পরের মাসেই পঞ্চগড়ের বোদায় জাপান ভিত্তিক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি হয়ে যায়। পঞ্চগড় চলে আসার পর সহকর্মী অনিল চন্দ্র শর্মা আমার সাথে ঘুরতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। রমজান মাসে ঈদের আগে আমরা একসাথে কয়েকদিন ছুটি পাই। মে এবং জুন মাসের এক সপ্তাহ ঘুরতে যাব আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম আমরা। এবার দু’জন রওনা হলাম পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা স্থলবন্দরে। সেখানে গিয়ে ঘটলো বিপত্তি। আমার ভিসায় হিলি পোর্ট দেয়া আছে অনিল দার বাংলাবান্দা পোর্ট। ভিসা অফিসে অবজারভেশন নিয়ে পোর্ট পরিবর্তন করে যাওয়া যাবে কিন্তু প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ এবং জটিল কিন্তু সবকিছু বন্ধ সেই সুযোগও নেই। তারমানে উনি যেতে পারবে কিন্তু আমার যাওয়া হবে না এই পথে। অনিল দা যেহেতু আগে যায়নি এটিই প্রথম তাই সে আমাকে বললো গেলে দু’জনই যাব না হলে আমি একা যাবো না। তাকে সাহস দিলাম এরপর বললাম ঠিক আছে এক কাজ করেন আপনি এই পথেই চলে যান। পার হয়ে শিলিগুড়িতে থাকবেন একরাত। আর আমি হিলি হয়ে ঢুকবো সারারাতে পৌঁছাবো। উনি শুধু আমার দিকে চেয়ে রইলেন। পঞ্চগড়ের বোদায় আমাদের অফিস। সেখান থেকেই আমরা রওনা দিয়েছি সকাল ছয়টায় আর যখন ঘড়িতে সকাল সাড়ে দশটা তখন আমি উনাকে ইমিগ্রেশনে রেখে দ্রুত রওনা দেই হিলির উদ্দেশ্যে। বলাটা যত সহজ ছিল, হিলি পৌঁছাটা তত সহজ ছিলনা তবুও রওনা দিলাম। বাংলাবান্দা থেকে বাসে পঞ্চগড় ধাক্কামারা সেখান থেকে গেটলকে দিনাজপুর। দিনাজপুর থেকে মাঝে আরেকটা জায়গায় নেমে সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে চলে গেলাম হিলি। জীবনে বোধহয় যতবার না ঘড়ি দেখেছি তার চেয়ে বেশিবার আমি ওই একদিন ঘড়ি দেখেছি। সময়মত পৌঁছাতে হবে ইমিগ্রেশন বন্ধ হয়ে গেলে বড় বিপদ কেন না সহকর্মী অনিল দা ঢুকে গেছে সকালেই। বহু কষ্টে বিকাল ৫টায় পৌঁছালাম হিলিতে। একটু পর বন্ধ হয়ে যাবে ইমিগ্রেশন। সিএনজি চালকের পরামর্শে তার পরিচিত এক লোককে দেড়শ টাকা দিয়ে প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নিলাম। এমনিতেই রোজা তার উপর এমন অমানুষিক জার্নি। সাথে একটা কাঁধ ব্যাগ আর একটা লাগেজ। এমন বিপদ লাগেজটার হাতলটাও কাজ করেনা সেটা ঠিক করে নেবারও কোন সময় হয়নি। এবার বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে ভারতের ইমিগ্রেশন পার হলাম। ভারতে ইমিগ্রেশনেও তখন বাংলাদেশী সিমের নেটওয়ার্ক পাচ্ছিল। ফেসবুকে আরেক সহকর্মী জাকারিয়াকে বলে দিলাম আমি পার হয়েছি কিন্তু ফোনে চার্জ নেই। হঠাৎ একটা ভারতীয় নাম্বার থেকে ফোন আসলো। ফোনের ওপারে অনিলদা বললো সে শিলিগুড়ি শহরে ঘোরাফেরা করছে। ঢোকার সময় একটা সিম নিতে পেরেছিল। আমি তাকে বললাম ভোর পাঁচটার মধ্যে পৌঁছে যাব আর আমার ফোনে চার্জ নেই আমি যেকারো নাম্বার থেকে আপনাকে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করবো। টাকা গুলো রুপি করে নিলাম। ইমিগ্রেশন পার হবার সময় দিনাজপুরের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পেলাম যার ছেলেকে নিয়ে তিনি চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন। একসাথে আমরা হিলি থেকে একটা এসি বাসে উঠলাম। বাসের ভেতরেই ইফতার করলাম তাদের সাথে। ওখানকার সময় আধাঘন্টা বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে তাই আধাঘন্টা বেশি সময় রোজা থাকতে হয়েছে কিন্তু খুব তৃষ্ণা পাচ্ছিল। ভুলক্রমে তাড়াহুড়ো করে ইফতারও নিতে পারিনি। উনাদের সাথে ইফতার করার পর গল্প করতে করতে বালুরঘাট যেয়ে নামলাম। এরপর বালুরঘাটের বাসস্ট্যান্ডে টিকিট কাউন্টারে লাগেজ রেখে পুরো শহরটা ঘুরতে একটা রিকশা রিজার্ভ নিলাম। এর আগেই নাটকের দলের সাথে বালুরঘাটে এসে একদিন পানিবন্দি হয়ে ছিলাম আমরা বন্যায়। একদিন পর ভাগ্যক্রমে একমাত্র বাস পেয়ে মালদা স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে সারারাতে কলকাতা গিয়েছিলাম। সে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা অনেকের কথাই মনে পড়ছিল। তখন একসাথে ৩৫ জন ছিলাম টিমে।
সাড়ে আটটায় বাস। তাই এই সময়ের মধ্যেই বালুরঘাটের একমাত্র মসজিদটি দেখে আসলাম সাথে আরো কিছু জায়গা ঘুরে বেড়ালাম। রিকশাওয়ালা বিশ্বাসই করছিল না আমি বাংলাদেশি। সে বলছিল আমি ভারতেরই মানুষ। উনার সাথেও অনেক গল্প হলো। উনার শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশের দিনাজপুরে কিন্তু কোন যাতায়াত নেই বললেই চলে। তারপর কাউন্টারে ফিরলাম। মজার ব্যাপার বাসের মালিকের সাথে কাউন্টারে কথা হলো তিনি কথা প্রসঙ্গে জানালেন তিনি বগুড়া করোনেশন স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৫ সালেই তারা ভারতে পার হয়ে গেছেন। বগুড়ার জলেশ্বরীতলা, জেলখানার মোড়, চেলোপাড়ার খোঁজ নিলেন কেমন আছেন বগুড়ার মানুষ জানতে চাইলেন। বললাম সবই। এরপর বাসে উঠে পড়লাম কিছু খাবার জিনিস কিনে। বাসে উঠে একটু চমকে গেলাম। ভারতের বাসের সিটগুলোর উপর ¯িøপার রয়েছে। সেখানে পরিবারসহ বিশেষ করে মহিলারা যাদের বাচ্চা আছে তারা বুকিং দিয়েছেন বেশি। গাড়ি ছেড়ে দিল আশেপাশে অনেকগুলো অচেনা মুখ। জানালার পাশ দিয়ে দেখছিলাম। সাড়ে ১১ টার পর ঘুমিয়ে পড়েছি। অনেক জায়গা থেকে বাসের ছাদে বস্তাভর্তি মালামাল তুলছে কুলিরা তাদের কথাবার্তায় জেগে উঠেছিলাম। এভাবে গাড়ি চলতে থাকলো। মধ্যরাতে একবার খেয়াল করলাম গাড়িটা যানজটে আটকে গেছে। ঢাকার যানজটের অভিজ্ঞতা ইনাদের নেই তাই একটু আধটু হইচই করছে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোরে একটু জাগা পেলাম আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল সাড়ে পাঁচটায় দেখি কিছু লোকজন নামা শুরু করেছে। ভাবলাম চলে এসেছি বোধহয় কিন্তু আমি টের পাইনি বেশ লজ্জাই লাগছিল। কিন্তু বাইরে নেমে দেখি আশেপাশের সামনে পেছনে কয়েক কিলোমিটার লম্বা যানজট। যেটা শুনলাম মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত গাড়ি এক ইঞ্চিও নড়েনি। খুব অবাক হলাম এত বড় ঘটনা অথচ পুলিশ নেই সাংবাদিক নেই। অনেক বয়স্ক লোকজন বলছেন বাপের জন্মে এমন যানজট দেখিনি। জায়গাটার নাম ডালখোল কিংবা ডালখোলা। মুসলিম অধ্যূষিত এলাকা এবং ওখানে কমিউনিষ্ট পার্টির প্রভাব বেশি। ওই এলাকার লোকজন একটু ভয়ানক কিছু হলেই নাকি লাঠিসোটা নিয়ে সকলে চলে আসে মারতে। হঠাৎ করে মনে হলো অনিলদা কে বলেছিলাম সকাল সাড়ে পাঁচটায় পৌঁছে যাব। রাস্তায় গল্পের ছলে কিছু মানুষের সাথে সখ্যতা হয়েছিল তাই একজনকে বললাম দাদা একটু এই নাম্বারে কথা বলা যাবে দুই মিনিট। ভারতের মানুষজন একটু মিতব্যয়ী খুব হিসেব করে চলে আগেরবারের অভিজ্ঞতা। তাই ভাবছিলাম দেয় কিনা। কিন্তু রাজি হলো কথা বলে নিলাম বললাম, দাদা দুপুর ১২ টার মধ্যে পৌঁছাবো। আমার কথায় উনি হোটেল থেকে চেক আউট করে বের হয়ে গেছেন একবারে। দুপুর ১২ টায় গাড়ি ওখানেই তারপর আরেকজনের ফোন থেকে বললাম দাদা আড়াইটা বাজতে পারে। একটুপর গাড়ি একটু একটু করে ছাড়তে শুরু করলো সিভিক পুলিশের সহযোগিতায়। পাশে বসে থাকা ভদ্রলোক স্কুল শিক্ষক পরিবার নিয়ে দার্জিলিং ঘুরতে যাচ্ছেন উনার সাথে আরো একজন শিক্ষকের পরিবার যাচ্ছে। এই দুই পরিবারের মধ্যে বেশ বন্ধুত্ব রয়েছে। ভদ্রলোকের সাথে ভারতের সামগ্রিক রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং বাংলাদেশের রাজনীতিসহ অনেক বিষয়ে বেশ আলাপ হচ্ছিল। উনার ফোন থেকে অনিল দা কে ফোন দিয়ে বললাম দাদা মাঝে এক জায়গায় খাবার বিরতি দিয়েছে আরো দেড় ঘন্টা লাগবে। উনাদের সাথে আলাপ করতে করতে বললাম আমরাও তো দার্জিলিং যাব আমার সহকর্মী গতকালই চলে এসছে আমি এমন বিপত্তিতে পড়েছি। উনারা জানালেন উনাদের হোটেল বুক করা আছে সাতজনের। উনি স্ত্রী মেয়েসহ যাচ্ছেন। আরেক শিক্ষক উনারও স্ত্রী আর দুই মেয়ে। তবে এক মেয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়ে ও সকালবেলা শিলিগুড়ি নেমে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বাস দেরি হওয়ায়। যে বাস সকাল সাড়ে পাঁচটায় পৌঁছানোর কথা সে বাস পৌঁছালো বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। উনার ফোন থেকে অনিলদাকে শিলিগুড়ি দার্জিলিং মোড়ে এসে দাঁড়াতে বললাম আর বললাম আমি আর আপনাকে ফোন করতে পারবো না এটাই শেষ ফোন। কেননা আমি নিজে কোন সিম কিনতে পারিনি আর আমার ফোন বন্ধ চার্জের অভাবে। শিক্ষক ভদ্রলোককে বলেছিলাম আমরাও দুজন আছি আপনাদের সাথে যেতে পারলে ভাল লাগতো এটা তো আমাদের কাছে নতুন জায়গা। কিন্তু উনাদের টিমের মেয়েটিও উনাদের সাথে যুক্ত হয়েছে তাই উনারা ল্যান্ড রোভার কার গাড়িতে উঠে গেছে কিন্তু আমি অনিলদাকে খুঁজে পাচ্ছিনা স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। অবশেষে দেখা হলো অনিলদার সাথে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলাম। এদেখা যেন এক দীর্ঘ প্রতিক্ষার। বললাম এই ঘটনা আর বাসে দু’টা পরিবারের সাথে পরিচয় হয়েছিল তারা চলে গেছে আপনি তাড়াতাড়ি আসলে একসাথে যেতে পারতাম। আমরা যাবার জন্য গাড়ি খুঁজছিলাম। শিলিগুড়ি থেকে ৭৭ কিলোমিটার খাড়া পাহাড়ে উঠে গেলে দার্জিলিং শহর। ল্যান্ড রোভার কার গুলোতে দেড়শ রুপি জনপ্রতি ভাড়া। হঠাৎ বাসের সেই শিক্ষক পেছন থেকে এসে ডাকছেন বললেন আমাদের সাথে চলেন। উঠে বসলাম লাল রংয়ের গাড়িটাতে। এই গাড়িগুলোতে দশটা করে সিট আছে ওরা দুই পরিবার সাতজন আরো তিনজন লাগে তাই আমাদের এসে ডেকে নিয়ে গেল। নয়জনকেই দশজনের ভাড়া দিতে হবে এই শর্তে গাড়ি ছাড়লো। আসলে আর তর সইছিল না।
গাড়ির ভেতরে কলকাতা থেকে আসা মেয়েটির সাথে পরিচয় হলো। ওর নাম অহনা আবৃত্তি করে। ঢাকা মৌলিক নাট্যদলের সাথে ফেসবুকে পরিচয় আছে জানালো। বললাম ওই নাট্যদলের যিনি প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি সাজু আহমেদ তিনি আমার মামা হোন আমার আর উনার বাড়ি একই উপজেলায় বগুড়ার সোনাতলায়। আমার নিজের ছোট মামা রমজান আলী নুরুন্নবী উনাদের সাথে সোনাতলা থিয়েটার করেছেন। সহকর্মী অনিলদা অহনাকে আমার সম্পর্কে একটু বললেন উনি একজন নাট্যকর্মী। দুই পরিবারের সাথেই খুব ভাল পরিচয় হলো। গাড়ি চলতে থাকলো মাঝপথে বিরতি দিলো নেপালী ড্রাইভার। কফি খেয়ে আবার রওনা হলাম। যখন আগের দিন পঞ্চগড় থেকে রওনা দেই তখন আমি কিছু শীতের কাপড় সাথে নিয়েছিলাম কিন্তু অনিলদা তেমন কিছু নেননি। সন্ধ্যা নেমেছে গাড়িও চলছে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা খাড়া পথে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের সমতল ভূমিতে যে ড্রাইভাররা গাড়ি চালান তারা এই রাস্তায় এক কিলোমিটারও যেতে পারবে না খাদে পড়ে যাবে। বেশ দক্ষ ড্রাইভার। গাড়ি যখন চলছিল তখন দেখছিলাম দুপাশে মিটিমিটি আলো জ্বলছে। মনে হচ্ছিল স্বপ্ন দেখছি। আর যেভাবে ঘুরে ঘুরে উঠছি যেন বৈশাখী মেলায় মোটরসাইকেল খেলায় মোটরসাইকেলগুলো যেভাবে ঘুরে ঘুরে উপরে উঠে সেরকম করে। যতই উপরে উঠছি ততই অন্ধকার নেমে আসছে গাড়ির সংখ্যা কমে আসছে সেইসাথে প্রচন্ড শীত। চিন্তা করতে পারবেন না শিলিগুড়ি শহরে গরমে থাকা যাচ্ছিল না আর যত উপরে উঠছে তত বরফ ঠান্ডা। আমি শীতের কাপড় বের করে পড়ে নিলাম কিন্তু অনিল দার বারোটা বেজে গেছে। অহনার ছোট বোন এবং আরেক পরিবারের মেয়েটি দু’জনে বান্ধবী এবং দু’জনই নার্সিং পড়ছে। ওরা বেশ মজা করছিল অনিলদার সাথে এ নিয়ে। আপনি জানতেন না এত শীত। বললো, সিজুল ভাই বলেছিল কিন্তু আমি তো বিশ্বাস করিনি। এভাবেই আমরা পৌঁছে গেলাম দার্জিলিং। পথে বলিউড অভিনেতা গোবিন্দর দার্জিলিংয়ের বাড়ি চোখে পড়লো। বলিউডের বরফি সিনেমার শুটিং হয়েছিল যে কফিশপে সেটিও দেখলাম। অহনারাই বললো। ওদের হোটেল রেডি ছিল কিন্তু আমরা তো বুকিং দেইনি কিন্তু ওদের যে হোটেল থেকে নিতে আসছিল তারা বললো আমাদের এখানে ফাঁকা নেই তবে পাশের আরেকটি হোটেলে ব্যবস্থা করছি। ওরা যেখানে উঠলো তার সামনের হোটেলেই আমরাও উঠলাম। দার্জিলিংয়ে থাকা অবস্থায় এই দুই পরিবারের সাথে এত সখ্যতা গড়ে উঠলো যে আমরা যেন ওদের পরিবারেরই সদস্য। একসাথে ঘুরতে যাওয়া ছবি তোলা সবকিছুই হলো। টাইগার হিল, রক গার্ডেন, টি গার্ডেন, চিড়িয়াখানাসহ দার্জিলিংয়ের মার্কেটগুলোতে একসাথে কেনাকাটাও করেছি আমরা। দু’দিন থাকার পর আমরা যেদিন ফিরে আসবো সেদিন ওরা গ্যাংটক ঘুরতে গেল। আমাদেরকেও বলেছিল কিন্তু আমাদের ছুটি ফুরিয়ে আসছিল আর দু’দিন পর ঈদ। এদিকে তো আবার আমাকে হিলি হয়ে বগুড়া যেতে হবে। অনিলদা বাংলাবান্দা থেকে পঞ্চগড় যাবে। একটু দেরি হওয়ায় আমরা টাইগার হিলে সময়মত সূর্যোদয় দেখতে পারবো যানজট লেগেছে যদিও ভোর সাড়ে তিনটায় রওনা দেওয়া হয়েছিল হোটেল থেকে। তাই মাঝরাতে টাইগার হিলের গেটে নেমে সূর্যোদয় দেখা হলো। দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত দেখা যায়। পর্বতের উপর সকালে সূর্য পড়ছে বরফ চিকচিক করছে। ওরা গ্যাংটক যাবে তাই টাইগার হিল যাবে না আর আমি তখন রাগ করেই নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে অনিলদাও নেমে পিছু নিল। পুরো খাড়া পাহাড়ে পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে উঠেছি আমরা। ওদের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা টাইগার হিল থেকে ঘুরে হোটেলে চেক আউট করে শিলিগুড়ি ফিরে দুজন দুদিকে গেলাম। অনিল দা ফুলবাড়ির বর্ডারে ওই দিনেই পার হয়েছিল আর আমি সারারাতে বালুরঘাটে গিয়ে সকালে হিলি বর্ডার পার হই পথে আমার কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজা স্যারের সাথে দেখা হয় ইমিগ্রেশনে। স্যারের সাথে একসাথে পার হই স্যার ডাক্তার দেবী শেঠীর কাছে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে গিয়েছিলেন। স্যারের শ্বশুর মাইক্রো পাঠিয়েছেন স্যার আমাকে বললেন কিসে যাবে সিজুল? বললাম স্যার জানি না দেখি কি পাওয়া যায়। স্যার বললেন না তুমি আমার সাথে যাবে। একসাথে আসলাম বগুড়া। আমি মোকামতলা নেমে সোনাতলায় চলে আসি। আর স্যার বগুড়া চলে যান। দার্জিলিং যাত্রার পুরোটা আমি একটি “অঘটনের দার্জিলিং যাত্রা” নামক ভ্রমণকাহিনীতে প্রকাশ করবো বলে পুরো যাত্রাপথে একটি ছোট্ট প্যাডে নোট করেছিলাম। ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও ফেব্রুয়ারিতে বইটি বের করতে পারিনি। আশা করছি ২০২১ সালে যদি পারি চেষ্টা করবো। সেখানে বিস্তারিত পুরো ভ্রমণকাহিনীর রোমাঞ্চকর গল্প তুলে ধরবো। ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সকলকে। করোনার কারণে হয়ত কর্মস্থল পঞ্চগড়েই এবার ঈদ করবো বগুড়ায় ফেরা হবেনা। হয়ত এটিই প্রথম ঈদ হতে যাচ্ছে যেটি বাবা মাকে ছাড়া। বেঁচে থাকলে সুস্থ্য থাকলে আবার ফিরবো বগুড়ার সোনাতলায় বন্ধুদের সাথে ইফতার করবো পরিবারের সাথে ঈদ করবো। ভাল থাকবেন নিরাপদে থাকবেন ঘরে থাকবেন যে যেখানে থাকবেন। ঈদ মোবারক।

Check Also

উন্মেষ সাহিত্য সাময়িকী’র বুক রিভিউ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় উন্মেষ সাহিত্য সাময়িকী’র উদ্যোগে বুক রিভিউ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 9 =