সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / ধুনটে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অবৈধ হাট, পাঠদান ব্যাহত

ধুনটে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অবৈধ হাট, পাঠদান ব্যাহত

মো. আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলার সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবৈধভাবে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসানো হয়। ফলে হাটে আগত লোকজনের কোলাহলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাহাট সরকারি হাট এ বছর উপজেলা পরিষদ থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বার্ষিক ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। হাটের সরকারি জয়গা কম থাকায় ইজারাদার ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ম্যানেজ করে শনিবার ও বুধবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো হয়। বুধবার সরেজমিন সোনাহাটা হাটে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর পাশে সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দক্ষিন পাশে সোনাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে খেলার মাঠ। সেই মাঠ জুড়ে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়েছেন। ক্রেতারা দরদাম করে জিনিসপত্র কিনছেন। দুটি বিদ্যালয়ে এসময় পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের শোরগোলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকেরা কী পড়াচ্ছেন, তা শিক্ষার্থীদের বোঝার উপায় নেই। শিক্ষার্থীদেরও পাঠে মনোযোগ নেই। সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, শিপলুর রহমান ও ওমর ফারুক জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে ২দিন হাটবারে হকারদের মাইকের বিকট শব্দে তারা ক্লাশে শিক্ষকের কথা বোঝেন না। এই দুইদিন মাঠে খেলাধুলার কোন সুযোগ থাকে না। এছাড়াও হাটের কারনে অতিরিক্ত মানুষের চাপ থাকায় প্রায়ই তাদের সাইকেল চুরি হয়। সোনাহাটা হাটের ইজারাদার আব্দুল হাকিম বলেন, হাটের জায়গা কম হওয়ায় ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য বছরে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে মাঠে হাট বসানো হয়। সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শফিউল ইসলাম বলেন, মাঠে হাট বসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে বিঘœ ঘটে। ইজারাদারকে মাঠ থেকে হাট অপসারনের জন্য বার বার তাগিদ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। ইজারাদারের নিকট থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয় না। সোনাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম হাসান মনসুর বলেন, ইজারাদার জোর করেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হাট বসায়। হাটবারে বৃষ্টি নামলে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ক্রেতাবিক্রেতাদের দখলে চলে যায়। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। এ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের হাট অপসারনের জন্য প্রধান শিক্ষককে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্ত প্রধান শিক্ষক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জিন্নাহ বলেন, বিদ্যালয় মাঠে হাট না বসানোর ব্যবস্থা করতে প্রধান শিক্ষককে বার বার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Check Also

ভালবাসার ডিব্বা নিয়ে করোনা রোগীদের অক্সিজেনসেবায় স্বপ্নবাজ ওরা ক’জন

ইকবাল কবির লেমনঃ কয়েকজন স্বপ্নবাজ তরুণ-যুবক, যারা সবসময় স্বপ্ন দেখে সুন্দর বাংলাদেশের। বন্যা, খরা, শীতসহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + eight =