সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / ধুনটে মামলা আপোষ না করায় দুই সন্তানের জননীকে হত্যার চেষ্টা

ধুনটে মামলা আপোষ না করায় দুই সন্তানের জননীকে হত্যার চেষ্টা

রাকিবুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টারঃ

বগুড়ার ধুনটে নারীও শিশু নির্যাতন মামলা আপোষ না করায় দুই সন্তানের জননী রাজিয়া সুলতানাকে গলায় রশি লাগিয়ে স্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামী সহ শশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চিথুলিয়া গ্রামে এ হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটে।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎধীন রাজিয়া সুলতানা জানান, ১৫ বছর আগে চিথুলিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রেজাউল করিমের সাথে একই গ্রামের আকবর আলীর মেয়ে রাজিয়া সুলতানার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই রেজাউল তাকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় মারধর সহ নানা প্রকার নির্যাতন করতে থাকে। মেয়ে রাজিয়া সুলতানার সুখের জন্য মা রেহেনা খাতুন ব্রাক ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে জামাই রেজাউল ও মেয়ে রাজিয়ার নামে জমি কিনে দেয়। পরে রাজিয়া সুলতানা একটি এনজিওতে চাকুরি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে সেই জমিতে বাড়ি নির্মান করে। গত বছর ১৪ নভেম্বর ২০২০ সালে রেজাউল তার স্ত্রী রাজিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসাবে আবারও ২ লাখ আনতে বলে। এতে স্ত্রী রাজি না হওয়ায় রেজাউল তাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। প্রতিকার চেয়ে রাজিয়া সুলতানা স্বামী রেজাউল ও রেজাউলের ছোট ভাই চপল সহ ৩ জনকে আসামী করে বগুড়া জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং- ২৩৯/২০। ওই মামলা আপোষের কথা বলে ১০ বছরের মেয়ে জান্নাত আরাকে দিয়ে রেজাউল স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে শনিবার বেলা ১১ টায় তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর রেজাউল তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে মামলা তুলে নিতে বলে। স্বামীর কথার প্রেক্ষিতে রাজিয়া সুলতানা শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে মামলা আপোষের প্রস্তাব দেয়। এতে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে রাজিয়া সুলতানাকে মারধর করে। এর একপর্যায়ে রেজাউলের ভাই বোন সহ সকলে মিলে রাজিয়ার গলায় রশি লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় । এসময় শিশু জান্নাত আরার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন রাজিয়াকে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি কারায়। ঘটনার পর থেকে রেজাউল এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। রাজিয়ার মা রেহেনা বেগম জানান, মেয়ে উদ্ধার করতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। মেয়ের চিকিৎসা শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি আবগত নই। এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Check Also

সারিয়াকান্দির নয়া ইউএনও’র সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়

বগুড়ায় সারিয়াকান্দি উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 5 =