সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / ধ্বংসের মুখে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প

ধ্বংসের মুখে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প

মোত্তালিব সরকার, শেরপুুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বেকারি পণ্য উৎপাদনে মুল উপাদান ভোজ্যতেল চিনি ময়দা এবং ডালডা, এই চার মূল উপাদানের মূল্য প্রতিদিন এমনকি ক্ষণে ক্ষণে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। বগুড়ার শেরপুর একটি উপজেলা শহর, এটি উপজেলা শহর হলেও শহরটি অত্যন্ত ঘন বসতি এবং উত্তর বঙ্গের প্রবেশ দ্বার হওয়ায়, এখানে আছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিল কলকারখানা সহ শিল্প কারখানা। পাশাপাশি এই উপজেলা শহরে আছে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প। এই বেকারি শিল্পগুলো আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে বলে জানালেন বেকারি গুলোর মালিকেরা। কয়েকজন বেকারি মালিকের সঙ্গে কথা হলে, হতাশা প্রকাশ করে তারা জানান, মহামারি করোনা শুরু থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আমাদের নাভিশ্বাস শুরু হয়ে গেছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আকাশ চুম্বি দ্রব্যমূল্য। তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেকারি সামগ্রী উৎপাদনের মূল উপাদান হচ্ছে তেল, চিনি, ময়দা এবং ডালডা। কিন্তু এই চার পণ্যের মূল্য এমন ভাবে বেড়ে চলেছে যাতে করে আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তারা আরও বলেন, যে কোনো কারণে হয়তোবা এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, কিন্তু সেই দাম বৃদ্ধির যদি স্থিতিশীলতা থাকতো তাহলে আমরা বিভিন্ন ব্যবসায়ী কৌশল অবলম্বন করে হয়তো আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারতাম। কিন্তু দ্রব্যমূল্য শুধু অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই নয় সঙ্গে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আমরা কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারছিনা। এদিকে আমাদের মহাজনদের কাছে ঋণের বোঝা বেড়ে পাহাড়সম হয়ে গেছে। যার কারণে আমরা চোখে অন্ধকার দেখছি এবং যেকোনো দিন বা যেকোনো সময় আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাব বলে শঙ্কা করছি।
এদিকে বেকারি গুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, করোনা শুরু থেকেই বেকারি ব্যবসা ভালো যাচ্ছেনা, তখন থেকেই অনেক কষ্টে আমাদের বেতন ভাতা দিয়ে যাচ্ছে। বতর্মানে বেকারির জিনিস তৈরী কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মালিকের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এটা সত্য। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের কি হবে? এই চাকরির বেতনের উপর আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকি এবং বাচ্চা কাচ্চাদের পড়া লেখা শেখাই। এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের কি হবে বলতে পারেন? এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত দুই মাসে ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে ভোজ্য তেলের দাম, ফলে সার্বিকভাবে খাদ্য পণ্যের এই বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তিন কারণে বিশ্ববাজারে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। সরবরাহ ঘাটতি রপ্তানি কর বৃদ্ধি ও চিনের বিপুল ক্রয়ের কারণে বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ছে। সয়াবিনের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ আর্জেন্টিনায় সরকারের সঙ্গে কৃষকদের দ্বন্দ্বে চলছে ধর্মঘট। এতে বন্দরের লজিস্টিকস সেবা বন্ধ হয়ে পড়ায় সয়াবিন সহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। এমনকি এই ধর্মঘট ফেব্রুয়ারি পযর্ন্তও চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও আর্জেন্টিনা সরকার সয়াবিন রপ্তানিতে কর বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশ করেছে। এতে গত সপ্তাহের মঙ্গলবারও বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দাম বেড়ে হয় প্রতি বুশেল ১৩,৫৭ ডলার। এমনকি ঐদিন সর্বোচ্চ দাম ১৩,৭৩ ডলার পযর্ন্তও উঠে, যা ২০১৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দাম। এদিকে চীন বিশ্ববাজার থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ক্রয় করলেও ব্রাজিল সহ দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে খরায় উৎপাদন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বাজার ঠিক রাখতে ব্রাজিল ও আমেরিকা বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমিয়েছে। সয়াবিনের নতুন মৌসুম শুরু হবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে, রপ্তানিকারক দেশগুলো নতুন ফসল পাওয়ার আগ পযর্ন্ত সরবরাহ বাড়াবেনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Check Also

শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট চেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র প্রার্থী মতিন

কামরুল হাসান, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়া শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট চেয়ে ব্যস্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + twelve =