সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / ফিচার সংবাদ / প্যাঁচা সমাচার — মোফাচ্ছেরুল আল নোমান

প্যাঁচা সমাচার — মোফাচ্ছেরুল আল নোমান

দুপুর গড়িয়ে বিকেল সাড়ে তিন, গাছের মগ ডালে ক্যামেরা নিয়ে বসে আছি সেই দুপুর থেকে। মাথা ঘুড়িয়ে দেখি ভ্রমণসাথি বাঁশ বাগানে খাড়া তে ঘুম..।
মানুষের চিড়িয়াখানা থেকে ক’দিন বেশ নিয়মিত বেরিয়ে বন্যদের সাথে সময় কেটে ভালো লাগে বরাবরের মতই আনন্দদায়ক। মোবাইলে নো নেটওয়ার্ক! মানুষের ভীড় নেই।
আছে শুধু পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ, পিঁপড়াদের সারি সারি যাতায়াত, ফিংগে পাখি অন্যদের ঘাড়ের মধ্যে বসে থাকা।
সাহেব বুলবুল সোসাইটিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো যাচ্ছে আমার।
কই যেন আমি!! অহ! গাছে বসে আছি ।
সাহেব বুলবুল তার প্রিয়তমাসহ উড়ে যাচ্ছে, তাদের ক্যামেরাতে বন্দি করার জন্যই গাছে বসে থাকা, কিন্তু তাদের চঞ্চলতা আর আমার এতো ভারী ক্যামেরা ধরে রাখা প্রায় মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে বাতাস বইছে বিস্তীর্ণ নদীখাতের মাঝমধ্যিখান দিয়ে, এই বুঝি উড়ে গেলাম আমি ।

নামতেই ভ্রমণসাথী বলে ওই দেখো প্যাঁচা!!
মাথা উঁচু করে দেখি আসলেই দেখি ❤𝕋ℍ𝕖 𝕓𝕦𝕣𝕟 𝕠𝕨𝕝 লক্ষীপ্যাঁচা।
ভাইয়া অনেক রেস্কিউ করা প্যাঁচাদের ব্যাসায় নিয়ে এসেছিলো। তাদের সুস্থ করে তোলা খাওয়ানোর দায়িত্ব সুবাদে তাদের দেখা হয়েছিলো। কিন্তু এভাবে জংগলের মধ্যে দেখা পাবো কখনও ভাবি নাই, তাও আবার লক্ষীপ্যাঁচা!

দিনে!! স্বপ্নের মতোই।

যুম আউট করতেই উড়াল দিলো, ফুল নেওয়া হলো না ছবি। মাঝ মধ্যে অলৌকিক ঘটনা ঘটে যায় জীবন যাত্রায়, আমারও সেরকম কিছু ঘটে গেলো ভিউ ফাইন্ডারে দেখেই চোখ বের করতেই উড়াল।

রাতে যখন দিবাচর প্রাণীরা বিশ্রাম নিতে বাসায় ফেরে, তখন এই শূন্যস্থান পূর্ণ করতে নিশাচর প্রানী গুলো জেগে ওঠে। দিবাচর প্রাণীগুলোর চেয়ে নিশাচর প্রানী গুলো অধিক দক্ষ এবং রহস্যময়।

প্যাঁচা সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং রহস্যময় নিশাচর পাখি। ঘুটঘুটে আঁধারে সাবলীল ভাবে নিশব্দে উড়ে বেড়াতে পারে এই প্যাঁচা। লো লাইটে দেখার জন্য এদের চোখের কোন তুলনা হয় না। প্যাঁচা ১৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত মাথা ঘুরাতে পারে ২৭৯ ডিগ্রি পর্যন্ত দেখতে পায় পিছনেও। প্যাঁচার শ্রবণশক্তি প্রখর, দুই কান দিয়ে দুই রকমের শব্দ সনাক্ত করতে সক্ষম যার ফলে শিকারের নিক্ষুত অবস্থান বুঝতে পারে।

এদের পাখার বিশেষ পালকগুলো নিঃশব্দে উড়ে বেড়ানোতে সাহায্য করে। অসাধারণ এই বৈশিষ্টর কারনে প্যাঁচা প্রাণী জহগতের সুপারহিরো।
বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে প্যাঁচার সংখ্যা কমে আসছে,বাসস্থান ধ্বংস, অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ এদের বিলুপ্তিরদ্বার প্রান্তে নিয়ে এসেছে।
মানুষের ভীড়ে হার মানছে এই সুপারহিরো পাখিটিও।

লেখক বন্য জীবন ও প্রকৃতি ফটোগ্রাফার,
পঞ্চগড় ।

Check Also

সোনাতলার যমুনার চরে রাখালদের ঠোটে হারিয়ে যাওয়া বাঁশির সূরের মূর্ছনা

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলার চিরায়ত সবুজ মাঠে সোনালী অতিত রাখালের গরুরপাল, রাখালের বাঁশির সেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

sixteen + 5 =