সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / প্রকৃতি হোক নিরাপদ, জীবন হোক নিরাপদ—ইমরান এইচ মণ্ডল

প্রকৃতি হোক নিরাপদ, জীবন হোক নিরাপদ—ইমরান এইচ মণ্ডল

প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক কর্মউদ্যোগ আর জনসচেতনার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসটিতে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ কনফারেন্স শুরু হয়েছিল। এই কনফারেন্স হয়েছিল ১৯৭২ খ্রি এর ৫ জুন থেকে ১৫ জুন অবধি। এই কনফারেন্স ঐ বছরই চালু করেছিল জাতিসংঘের সাধারণ সভা। তখন থেকে প্রতিবছর এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি প্রথম পালিত হয় ১৯৭৩ সালে। প্রতি বছর দিবসটি আলাদা আলাদা ভাবে আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হয়। পৃথিবীর উত্তরে দিবসটি বসন্তে, আর দক্ষিণে দিবসটি শরতে পালিত হয়। পরিবেশ দূষণের হাত থেকে এ বিশ্বকে বাচানোর প্রতিশ্রতি নিয়ে প্রতি বছর ৫ জুন দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচী (ইউ এন ইপি) উদ্যোগে সারা বিশ্বের ১০০ টির ও বেশি দেশে দিবসটি পালন করা হয়। আমাদের দেশে আমরা অনেকেই বুঝি না যে পরিবেশ কি ? না বুঝে আমরা বিভিন্ন ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে থাকি এবং পৃথিবীকে হুমকির মুখে ফেলাই। তবে বর্তমান সময়ে যদিও আমরা পরিবেশ সম্পর্কে অনেক সচেতন হয়েছি। তবু অনবরত পরিবেশ ধ্বংসের কাজ করে যাচ্ছি। পৃথিবীকে আমরা বসবাসের অযোগ্য করে তুলছি। নিজেরা যদি গাছ না লাগিয়ে শুধু আন্দোলন করি পরিবেশ বাচাঁও। তাহলে কাজের কাজ হবে না। পরিবেশ রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে মানুষের প্রকৃত বন্ধু গাছ। অথচ আমরা এই গাছকেই কতইনা কষ্ট দেই, গাছ তার নিজের মতো করে চলতে পারে না। বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করা যায় দেশের শহর অঞ্চলে অনেক গাছেই বিভিন্ন সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের ব্যানার প্যানা ফেস্টুন দিয়ে গাছকে আবদ্ধ করে রাখছে।গাছকে বন্ধু মনে না করে গাছে পেরাগ মারছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে আমাদের পরিবেশ। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্লোগান দিয়ে থাকি- ‘গাছ লাগান, গাছের পরিচর্যা করুন, পরিবেশ রক্ষা করুন।’ গাছ লাগানোর পর তার পরিচর্যা করতে হয় আর যে গাছ বর্তমান আছে তা ধ্বংস করে পরিবেশ রক্ষা হবে ? তাছাড়া যে গাছ প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নিয়ে আমাদের রক্ষা করার কাজ করে সে বুঝি পরিবেশের বাইরে। অথচ আমরা বুঝিইনা যে- গাছের সাথে আমাদের কি বন্ধুত্ব। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গাছ লাগানোর জন্য আমাদেরকে বার বার তাগিদ দিচ্ছেন এবং জনগনকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পুরস্কারও দিচ্ছে্ন।

গাছের পাশাপাশি আমরা দেখছি বর্তমানে আঘাত হানছে জিব বৈচিত্রের উপর , পশু পাখির উপর,আবাধে চলছে পাখি শিকার পশু হত্যা,কুকুর নিধন, কেন এদেরকে মারতে হবে এরা কি আমাদের কেউ না? অতি সাম্প্রতিক ঘটনা- ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মা হাতিকে আনারসের ভিতর বাজি ঢুকিয়ে সেই আনারস খাইয়ে হত্যা করা হয়।কি অপরাধ ছিল পশুটির? আসলে পশু ওরা না পশুত্বের পরিচয় দিচ্ছি আমরা মানুষ জাতি।
কবে পাবো আমরা মুক্ত বাতাসের পৃথিবী,কবে দেখবো জিব বৈচিত্র্য এর অবাধ বিচরণ, পাখির কন্ঠে মুখরিত গান। জানি এটা আমাদের কল্পনাই থেকে যাবে। কারন আমরা মানুষরা যে এক অধম জাতি,আমরা তো গাছ আর জিব বৈচিত্রকে ধ্বংস করেই খ্যান্ত হতে চাই না।আমরা অসাধু, আর অসাধু বলেই অবাধে বালু উত্তোলন করছি ধ্বংস করছি গ্রাম বাংলার পরিবেশ।

পরিশেষে বলতে চাই, আমরা বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির ছাড়পত্র চাই, প্রকৃতি হোক নিরাপদ জীবন হোক নিরাপদ, নিজে বাঁচতে হবে প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে।এই প্রত্যয় নিয়ে পরিবেশ রক্ষার জন্য যাহা করনিয় তাহা করতে হবে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সামাজিক আন্দলোন গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে পরিবেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো-বেঁচে থাকতে পারবো শান্তিতে।

(ইমরান এইচ মণ্ডল, সভাপতি- পরিবেশ উন্নয়ন পরিবার)

Check Also

দুর্জয় সাহিত্য গোষ্ঠীর দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ সোনাতলার ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন দুর্জয় সাহিত্য গোষ্ঠীর গৌরবময় দুই যুগ পূর্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + 10 =