সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / ফিচার সংবাদ / ফসলের মাঠে সবুজের সমারোহ

ফসলের মাঠে সবুজের সমারোহ

সারিয়াকান্দি প্রতিনিধিঃ মাত্র কয়েক দিনেই তরতর করে বেড়ে উঠছে আমন ধানের চারা। ধানের সবুজ কচি পাতায় ভরে গেছে উপজেলার সকল প্রকার ফসলের মাঠ। কচি পাতাগুলো দোল খাচ্ছে শরৎ এর দমকা বাতাসে। সবুজ পাতার উপর রোদের কিরণ পরে চকচক করছে পাতার উপরিভাগ।
এ বছর কৃষকরা বিভিন্ন ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন, বিদ্যুৎ চালিত মোটর, বি এ ডি সির বরেন্দ্র মেশিনের সাথে চুক্তি সাপেক্ষে আমন ধান রোপণ করেছেন।
গত বছর দীর্ঘমেয়াদী প্রবল বন্যার কারণে কৃষকরা সময়মত আমন ধান রোপণ করতে পারেনি। সময়মত আমন ধান রোপন করতে না পারায় তারা ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। এ বছর আবার অনাবৃষ্টির কারণে শ্যালো মেশিন দ্বারা পানিসেচ দিয়ে আমন ধান চাষ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্যালো মেশিনওয়ালাদের ধানের একটি অংশ তাদের ছেড়ে দেয়ার চুক্তি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিভিন্নভাবে মেশিনওয়ালাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ধান চাষীরা।
এ বিষয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের শ্যালো মেশিন চালক আছালত জামান জানান, ‘রবি মৌসুমে যেহেতু জমিতে বেশি পানিসেচ দিতে হয় সেজন্য সেই মৌসুমে ১০০ আটির মধ্যে আমরা ২৫ আটি করে নেই। যেহেতু এ মৌসুমে জমিতে পানির কম প্রয়োজনের সম্ভাবনা থাকে সেজন্য ১০০ আটির মধ্যে ১২ আটি করে নেয়ার কথা চুক্তি হয়েছে। ‘
একইভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা মেশিনওয়ালাদের সাথে বিভিন্নভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খবর নিয়ে জানা গেছে কৃষকরা তাদের সাথে শতকরা ১২ হতে ১৫ ভাগ ধান দেয়াতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ধানক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা সারিবদ্ধভাবে ধানের জমির অপ্রয়োজনীয় আগাছাগুলো তুলে দিচ্ছেন। আর প্রাণখুলে গাইছেন গ্রামে প্রচলিত নানা ধরনের আঞ্চলিক গান।
উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কৃষক রাজু মিয়া জানান, জমিতে আগাছা কম থাকতেই তা তুলে দিতে হবে। তাছাড়া কয়েকদিন পর এগুলো আরও অনেক বেশি হয়ে যাবে। পরবর্তীতে এগুলো তুলতে এখনকার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কৃষাণ খরচ হবে। খনা বলেছেন, “সময়ে না তুললে হালি অসময়ে ফেলাও ডালি ডালি”।
এদিকে যমুনা নদীতে বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা স্হানীয় জাতের গাইন্জা ধানের বীজতলা তৈরি করেনি। তবে নগণ্য কয়েকজন কৃষক গাইন্জা ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। এসব জমিগুলোতে তারা আমন ধানের চারা লাগিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা হলে কাজলা ইউনিয়নের বাওইটোনা চরের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু একনও নদীত বন্যা হলো না। তাই হামরা এ বছর গাইন্জা ধান লাগানের আশা ছাড়ে দিছি। তাই বিজতলাগুলোতে এবার আমন ধান করছি। বন্যার সাথে গাইন্জা ধানের সম্পর্ক কি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্যা না হলে জমিতে পলি পরবে না। পলিমাটি না হলে গাইন্জা ধান লাগানো যাবে না।
সারিয়াকান্দি কৃষি অফিসের তথ্য হতে জানা গেছে, চলতি বছরের আমন মৌসুমে উপজেলার ২ হাজার ৬ শত ৫০ জন কৃষককে বিভিন্ন ধরনের আমন ধান চাষের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। উপজেলাতে এ মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্পের ৪ শত ৮১ টি প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। এছাড়া সর্বমোট ২৩ হাজার ৪ শত ১৩ জন কৃষককে বিভিন্ন ধরনের বীজ এবং সার কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।
সমগ্র উপজেলাতে এ আমন মৌসুমে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রনজিত, স্বর্ণা, ব্রি ধান-৫১, ৫২, ৭২, ৮৭, বিনা- ১৭।
সারিয়াকান্দি উপজেলার উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরত আলী জানিয়েছেন, ‘এ বছর উপজেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৫ শত ৫০ হেক্টর। চলমান অর্জিত হয়েছে ৮ হাজার ৭ শত ৩০ হেক্টর। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল চালে ৩.২ টন। এ বছরও ভাল ফলন আশা করা যাচ্ছে।’
এদিকে আমন মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিষয়ে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সারিয়াকান্দি জোনাল অফিসের সহকারী জোনাল ম্যানেজার সামচুল হক জানিয়েছেন, ‘আমন ধানের জমিতে পানিসেচ দিতে উপজেলার সর্বোত্র নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।’
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘পানিসেচ দিয়ে হলেও কৃষকরা এ বছর ব্যাপক পরিমাণে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। ধানের চারাগুলো সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবং অসময়ে বন্যা না হলে এ বছর কৃষকরা বাম্পার ফলন ঘরে তুলবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।’

Check Also

সারিয়াকান্দিতে বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন

সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কর্ণার এর উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 17 =