সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কিছু সমসাময়িক কথা—এ,এস,এম, শামসুজ্জোহা কবীর

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কিছু সমসাময়িক কথা—এ,এস,এম, শামসুজ্জোহা কবীর

ভবিষ্যতে কর্মীরা আর বাঁধাধরা কাজে খুব বেশি আগ্রহ দেখাবেন না। তাঁরা ঝুঁকে পড়বেন ফ্রিল্যান্সিং কাজের দিকে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক চাকরির প্ল্যাটফর্ম টোটাল জবসের করা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন বিষয় উঠে এসেছে।২০১৭ সালে মে মাস থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত ২ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং কাজ খোঁজার হার ১৩২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফ্রিল্যান্সিং কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহের বিষয়টি জানতে ২ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেন টোটাল জবসের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা দাবি করেছেন, আগের চেয়ে যুক্তরাজ্যে প্রচলিত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চাকরির প্রথা ভাঙছে বেশি। সেখানকার কর্মীরা শিথিল নিয়ম ও বেশি বেতনের কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ জন্য চুক্তিভিত্তিক বা ফ্রিল্যান্সিং কাজ বাড়ছে দেশটিতে। ফ্রিল্যান্স কাজের আগ্রহ বাড়তে থাকায় চাকরিদাতা
প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দল বড় করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন খাতের দক্ষ কর্মীকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে তাদের ব্যবসার মূল্য বাড়ছে এবং বিভিনড়ব দৃষ্টিকোণ ও ধারণা যুক্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরিদাতাদের জন্য ফ্রিল্যান্সাররা প্রয়োজনে শূন্যতা পূরণের হাতিয়ার হতে পারেন। যত বেশি ফ্রিল্যান্সার এ ধরনের কাজে আগ্রহী হবেন, তত চাকরিদাতাদের মেধাবী ফ্রিল্যান্সার আকর্ষণের সুযোগ খুঁজে নিতে হবে। তবে ফ্রিল্যান্সারদের ধরে রাখতে ভালো সুযোগ-সুবিধাও বজায় রাখতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকায় চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রচলিত স্থায়ী চাকরির বিষয়গুলো নিয়ে কী করা যায়, সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কাজের সময়ের ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়া, দূরে বসে কাজের সুযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে চাকরিদাতাদের ভাবতে হবে। চার দেয়ালের মধ্যে কর্মীকে আটকে রাখার বদলে তাদের ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাটা জরুরি। যাঁরা প্রচলিত অফিস বাদ দিয়ে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে সবচেয়ে বেশি আয় করতে চান, তাঁদের জন্য ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্ষেত্রের দক্ষতা সবচেয়ে বেশি কাজেলাগবে। সম্প্রতি এ দুটি খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়তে দেখা গেছে। ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রের জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সার ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগদাতাদের কাছে ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট জানা কর্মীর চাহিদা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সম্প্রতি ‘ফাস্ট ৫০’ নামে দক্ষতাবিষয়ক প্রান্তিক সূচক প্রকাশ করেছে ফ্রিল্যান্সার ডটকম। ওই তালিকায় সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতার মধ্যে স্থা্ন পেয়েছে ডেটা অ্যানালিটিক্স, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাইক্রোসফট অফিস, কপিটাইপিং, ট্রান্সক্রিপশন, রাশিয়ান ট্রান্সলেশন, বুককিপিং, ই-মেইল হ্যান্ডেলিং ও কাস্টমার সাপোর্ট। যাঁদের এ ধরনের কাজে দক্ষতা আছে, তাঁরা চাইলে ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে ভালো করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সার ডটকমের তথ্য অনুযায়ী,ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্ষেত্রের চাহিদা বেড়েছে ৫৮.৯ ও ৫৫.৬ শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে তাদের সাইটে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ফ্রিল্যান্সিং কাজের পোস্ট হয়েছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ৫০টি কাজের তালিকা থেকে তৈরি করা হয়েছে ‘ফাস্ট ৫০’।

দেখে নিন সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ৫টি ফ্রিল্যান্সিং কাজ সম্পর্কে-

ডেটা অ্যানালিটিক্স: বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ডেটা অ্যানালিটিক্সের চাহিদা বাড়তে থাকবে। ২০২৩ সাল নাগাদ ডেটা অ্যানালিটিক্স মার্কেট বেড়ে দাঁড়াবে ২৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত প্রান্তিকে ফ্রিল্যান্সার ডটকমে ডেটা অ্যানালিটক্সে চাহিদাসম্পনড়ব কর্মীর চাহিদা
৫৮.৯ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান ব্যবসার ট্রেন্ড বুঝতে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজাতে দক্ষ কর্মীদের জন্য নানা প্রকল্প নিচ্ছে নিয়োগদাতারা। তাই যাঁরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এ দক্ষতা বাড়তি আয়ের পথ খুলে দেবে।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টঃ গত প্রান্তিকে ফ্রিল্যান্সার ডটকমে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি আগের প্রান্তিকে পোস্ট হওয়া ৭ হাজার ৯২৫ থেকে ১২ হাজার ৩২৯টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এ খাতে চাহিদা বেড়েছে ৫৫ শতাংশের বেশি। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের নানা রকম কাজে নিয়োগদাতাকে সাহায্য করতে হয়। গ্রাহকসেবা, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ব্লগ পোস্টিং থেকে শুরু করে ভার্চুয়া্ল অফিসে বাস্তব অফিসের সহকারীর মতো কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রকল্পভিত্তিক বা ঘণ্টা ভিত্তিতে আয়ের সুযোগ থাকে।

মাইক্রোসফট অফিসঃ গত প্রান্তিকে মাইক্রোসফট এক্সেলে দক্ষ কর্মীদের প্রচুর চাহিদা বাড়তে দেখা গেছে। সাধারণ টাইপিং বা ডেটা এন্ট্রি কাজের তুলনায় এক্সেল দক্ষতা কিছুটা জটিল। এক্সেল ও প্রোগ্রামিং দক্ষতাসম্পন্ন একজন কর্মী কাজকে স্বয়ংক্রিয় করে তোলার মাধ্যমে নিয়োগকারীর সময় বাঁচাতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ২০ ঘণ্টার কাজ এক ঘণ্টায় হয়ে যায়। এ ধরনের কাজে দক্ষ কর্মীরা স্বল্প সময়ে প্রচুর আয় করতে পারেন। যাঁরা ফ্রিল্যান্সিং কাজে ঢুকতে আগ্রহী, তাঁরা এক্সেল নিয়ে কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

কপি টাইপিংঃ টানা দুই প্রান্তিক জুড়ে শীর্ষ ১০ চাহিদাসম্পন্ন কাজের মধ্যে রয়েছে কপি টাইপিং। গত প্রান্তিকে এর চাহিদা বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। বিস্তৃত ও এলোমেলো তথ্য থেকে পরিষ্কার তথ্যে কপি তৈরি, হাতে লেখা পোস্টকে সম্পাদনা উপযোগী পোস্টে রূপান্তর করার মতো নানা কাজ করতে হয় কপি টাইপিং কর্মীকে। নির্দিষ্ট প্রকল্পে নির্দিষ্ট বাজেট বা ঘণ্টা ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় যাঁরা দ্রুত ও নির্ভুল কপি টাইপ করতে পারেন, তাঁদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং বাজারে কাজের সুযোগ রয়েছে।

ট্রান্সক্রিপশনঃ যাঁরা ভাষান্তর কাজে পারদর্শী তাঁদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ট্রান্সক্রিপশনে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। গত প্রান্তিকে ফ্রিল্যান্সার ডটকমে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ চাহিদা বেড়েছে ট্রান্সক্রিপশন কাজে দক্ষ কর্মীদের। যাঁরা নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, তাঁরা ভাষান্তর কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আরবি, রুশ, মান্দারিন, ফ্রেঞ্চসহ যত বেশি ভাষা জানবেন, তত বেশি আয় করতে পারবেন। আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, ফ্রিল্যান্সিং কি শুধু তরুণদের জন্য? আপনার বয়স ৫০, তাহলে কি আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না? আসলে ফ্রিল্যান্সিং করতে বয়স লাগে না। বয়স ৫০ পেরোলেই অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। দীর্ঘদিন কর্পোরেট চাকরি করার পর কী করবেন, ভেবে পান না। এ সময় বসে বসে সময়ও কাটে না। নতুন করে অফিসের বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কাজে যোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই এ সময় ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো কাজে যুক্ত হন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিজের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া আর ক্যারিয়ার পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে নিজেকে উজ্জীবিত রাখা জরুরি। ফ্রিল্যান্সার ইউনিয়ন ও অনলাইন ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্ম আপওয়ার্ক প্রকাশিত ‘ফ্রিল্যান্সিং ইন আমেরিকা: ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ কর্মী বয়স ৫০ পার হলে পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালী্ন ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ বয়সের অধিকাংশ কর্মীরা স্বেচ্ছায় এ পেশা বেছে নিয়েছেন।

পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি যাঁরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতা পেতে চান, তাঁদের জন্য চার পরামর্শ-

বর্তমান দক্ষতাকে কাজে লাগানঃ সমীক্ষা অনুযায়ী, সব বয়সী ফ্রিল্যান্সার তাঁদের দক্ষতা আর পারদর্শিতা অনুযায়ী কাজগুলো করেন। এর মধ্যে রয়েছে পরামর্শ দেওয়া, বিপণন, প্রোগ্রামিং প্রভৃতি। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সাধারণত অদক্ষদের চেয়ে দক্ষরা কাজ পান বেশি এবং তাঁদের আয়ও অনেক বেশি। যেসব দক্ষ ফ্রিল্যান্স অনলাইনে কাজ করছেন, তাঁরা ঘণ্টাপ্রতি গড়ে ২৮ ডলারের বেশি আয় করছেন। অদক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে গড় আয় ২০ ডলারের নিচে। যাঁদের বয়স ৫০ পেরিয়ে গেছে, তাঁরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন। যাঁরা দক্ষ ফ্রিল্যান্সার, তাঁরা আপওয়ার্ক সবচেয়ে বেশি আয় করেন। যেমন অ্যাকাউন্টিং বা ফিন্যান্সের মতো বিষয়গুলোতে আয় বেশি। যাঁরা করপোরেট পুনর্বিন্যাস, বিটকয়েন ও আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং বোঝেন, তাঁদের আয় ঘণ্টায় ২০০ ডলারের বেশি।

নেটওয়ার্কিংঃ ফ্রিল্যান্সিংয়ের দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে নেটওয়ার্কিং। আপনাকে যত মানুষ জানবে এবং আপনার দক্ষতার সম্পর্কে তাঁদের ধারণা থাকবে, ততই কাজ পেতে সুবিধা হবে। ফ্রিল্যান্সিং ইন আমেরিকা প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়টি ফ্রিল্যান্সিং অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উৎস। ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে আগের ফ্রিল্যান্স গ্রাহক, বন্ধু ও পরিবার, পেশাদার যোগাযোগ, পরিচিত প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি। এ ক্ষেত্রে পঞ্চাশোর্ধ্ব তরুণদের তুলনায় সুবিধা পেতে পারেন। কারণ তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ কাজে লাগে। আপওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ক্যাসরিয়েল বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে যে বড় নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, তা পরে আয়ের উৎস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে লিংকডইন দারুণ কার্যকর। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং সাইট যেমন আপওয়ার্ক, ফাইভার, পিপলপার আওয়ার, ফ্রিল্যান্সার ডটকমের মতো সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ খোঁজা যেতে পারে।

প্রশিক্ষণে বিনিয়োগঃ বয়স হয়ে গেলেও যাঁদের দক্ষতা রয়েছে, তাঁরা আরও দক্ষতা বাড়াতে বিনিয়োগ করতে পারেন। শিখে ফেলতে পারেন এখনকার যুগোপযোগী ডিজিটাল মার্কেটিং ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনার নানা কৌশল। বয়সকে বাধা না মেনে গ্রাহককে বোঝাতে হবে প্রতিযোগিতামূলক কাজে এগিয়ে আছেন আপনি। যদি নিজের দক্ষতা বাড়াতে না পারেন, তবে বেশি আয় করা ফ্রিল্যান্সার হওয়ার স্বপড়ব সত্যি হবে না। ফ্রিল্যান্সিং ইন আমেরিকা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৩ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া ৭১ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার বাজারে টিকে থাকতে তাঁদের দক্ষতা বাড়িয়েছেন। এমনকি গত ৬ মাসে ৬৫ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সফট স্কিলকেও অগ্রাহ্য করা যাবে না। কারও সঙ্গে যোগাযোগ, টিমওয়ার্ক বা দর-কষাকষির মতো বিষয়গুলো শিখতে হবে।

ধীরে চলুনঃ ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় ঢুকেই কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয় করে ফেলবেন, এমন ধারণা ভুল। আপওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী ক্যাসরিয়েলের পরামর্শ হচ্ছে, ধীরে ও ধাপে ধাপে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জগতে আসুন। আপনাকে অনেক কিছু শিখতে হবে। কাজ খোঁজা ছাড়াও কীভাবে কাজের জন্য টাকা নেবেন, তা শিখতে হবে। দামদর ঠিক করা জানতে হবে। সব সময় হাতে কাজ থাকবে না। তাই অন্য সময় কীভাবে চলবেন, সে বিষয়গুলো ভেবে এগোতে হবে। শুরুতে এক বা দুইটি প্রকল্পে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।২০১৯ এর এপ্রিল থেকে জুন মাসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বৈশ্বিক ধারা (ট্রেন্ড) প্রকাশ করেছে ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেনের জনপ্রিয় অনলাইন মাধ্যম পেওনিয়ার। প্রতিষ্ঠানটি প্রমবারের মতো বৈশ্বিক গিগ অর্থনীতির সূচক প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের স্থান অষ্টম। গিগ অর্থনীতির সংজ্ঞায় বলা হচ্ছে, এটি এমন একটি পরিবেশ, যেখানে অস্থায়ী চাকরি বেশি থাকবে আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠা স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে স্বতন্ত্র কর্মীদের (ইনডিপেনডেন্ট ওয়ার্কার্স) নিয়োগ দেবে। তারা পূর্ণকালীন কর্মীর চেয়ে মুক্ত পেশাজীবী ফ্রিল্যান্সারদের গুরুত্ব বেশি দেবে। পেওনিয়ার জানাচ্ছে, তাদের নেটওয়ার্কে থাকা বিশ্বব্যাপী তিন লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার, সেবাদাতা ও আউটসোর্সিং পেশাজীবীদের তথ্য বিশেষণ করে ফ্রিল্যান্সিং অর্থনীতির সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী সেবাদাতারা অন্য বয়সের কর্মীদের তুলনায় আয় করেন বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাজীবীদের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং জীবনযাপনে আগ্রহ বাড়ায় গিগ অর্থনীতি বড় হচ্ছে ও অনলাইনে মার্কেটপ্লেসের আকার বাড়ছে। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় চলতি বছরে এশিয়ার ফ্রিল্যান্সারদের আয় দ্বিগুণ বেড়েছে। পেওনিয়ারের প্রতিবেদনে আয় বৃদ্ধির দিক থেকে গত বছরের তুলনায় এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২৭ শতাংশ। সে কারণে বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এখন ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার। বাংলাদেশে বর্তমানে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের সবার কর্মসংস্থান করা সরকারের একার পক্ষে হয়তো সম্ভব হবে না। তবে সরকার তাদের জন্য সারা বিশ্বকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের বিশাল বাজার ধরতে হবে। এর ন্যূনতম অংশও যদি বাংলাদেশে আসে, তাহলে দেশে কোনো দারিদ্র থাকবে না। সকলকে যদি বেশি করে এ খাতে যুক্ত করা যায়, তাহলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আসবে, তেমনিভাবে বাংলাদেশও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভবান হবে।

(এ,এস,এম, শামসুজ্জোহা কবীর-খন্ডকালীন প্রশিক্ষক (আইসিটি),
জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নেকটার), বগুড়া,
সম্পাদক, বগুড়া সংবাদ ডট কম)

Check Also

কবিতার মহারাজ—আজাদুর রহমান

কবিতা আমার মহারাজ, আমি তার গোলাম। না জানা লোকের মত অজ্ঞাত কাগজ কলম নিয়ে থাকি, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + 18 =