সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / বগুড়ার বিখ্যাত ব্যক্তিত্বঃ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বগুড়া

বগুড়ার বিখ্যাত ব্যক্তিত্বঃ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বগুড়া

ইকবাল কবির লেমন

——————-
মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বগুড়া ১৯০৯ সালে বগুড়ায় এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নওয়াব আলতাফ আলী। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বগুড়া কলকাতায় লেখাপড়া শেষে ১৯৩১ সালে বগুড়ায় এসে জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাজনীতিতে যোগ দেন । ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি মুসলিম লীগের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বগুড়া জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বগুড়া স্কুল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো ছিলেন। ১৯৩৭ সালে তিনি বগুড়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি খাজা নাজিমুদ্দীনের বঙ্গীয় প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ছিলেন (১৯৪৪-৪৫)। তিনি ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী (১৯৪৬-৪৭) ছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
মোহাম্মদ আলী বার্মায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত (১৯৪৮), কানাডায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার (১৯৪৯-৫২) এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত (১৯৫২-৫৩) ছিলেন।
তিনি খাজা নাজিমুদ্দিন-এর মন্ত্রী সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন।
১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন বগুড়ার মোহাম্মদ আলি। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন । এর আগে খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও ছিলেন মোহাম্মদ আলি। তাঁর সময়ে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের সংবিধানের খসড়া তৈরির একটি কমিটি গঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হবার পর তিনি সংবিধান প্রনয়ন কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করে ছয় মাসের মধ্যে সংবিধান প্রনয়ন সংক্রান্ত একটি সূত্র আইনসভায় পেশ করেন। তার এই সুত্রটি পাকিস্তানের ইতিহাসে “বগুড়া ফর্মুলা” নামে পরিচিত।
তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর সংবিধানের খসড়া তৈরির ব্যাপারে একটি কমিটি গঠিত হয়। খসড়া চূড়ান্ত করার পূর্বেই গুলাম মুহাম্মদ আইনসভা ভেঙ্গে দেন। ১৯৫৪ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি আরেকটি মন্ত্রীসভার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার অবদান স্মরণীয়। মোহাম্মদ আলী ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৯ সালে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ও পরে জাপানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি ১৯৬২ সালে আইউব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় বগুড়া থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তিনি আবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হন।
তাঁরই সময়ে পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় (১৯৫৪) এবং পাকিস্তান সেন্টো ((CENTO) ও সিয়াটোর সদস্যভুক্ত হয়।
১৯৬৩ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি মারা যান।

তথ্যসুত্রঃ
উইকিপিডিয়া
বাংলাপিডিয়া
বগুড়ার ইতিকাহিনী- কাজী মোহাম্মদ মিছের
বগুড়ার সেতিহাস- কাজী আকতার উদ্দিন মানিক
দৈনিক প্রথম আলো
বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইউএসবি নিউজ

Check Also

বগুড়ায় অশ্লিল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ায় কলেজ ছাত্র আটক

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রতিনিধি : অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের অভিনয় করে অভিনব কায়দায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + twenty =