সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / বগুড়ার বিখ্যাত ব্যক্তিত্বঃ কবি মহাদেব সাহা

বগুড়ার বিখ্যাত ব্যক্তিত্বঃ কবি মহাদেব সাহা

ইকবাল কবির লেমন

মহাদেব সাহা ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম গদাধর সাহা এবং মাতার নাম বিরাজমোহিনী সাহা।
কবি মহাদেব সাহা বগুড়ার ধুনট হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েও অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরবর্তিতে তিনি বগুডার আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তিনি আজিজুল হক কলেজে বাংলা সাহিত্য বিষয়ে অনার্স শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭ সালে অনার্স পাস করে রাজশাহীতে আসেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এমএ পাসের পর তিনি কিছুদিন ইংরেজি বিষয়ে গবেষণায় নিযুক্ত হন কিন্তু কবিতা লেখার অদম্য আগ্রহ তাকে গবেষণা শেষ করার আগেই ঢাকায় নিয়ে যায়। তিনি জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের সহায়তায় ১৯৬৯ সালে তৎকালীন সাপ্তাহিক পূর্বদেশ পত্রিকায় যোগদান করেন।
সাপ্তাহিক পূর্বদেশ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে ১৯৬৯ সালে মহাদেব সাহার কর্মজীবন শুরু হয়। জীবনব্যাপী তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত থেকেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯৩ টি। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- এই গৃহ এই সন্ন্যাস, মানব এসেছি কাছ,চাই বিষ অমরতা,কী সুন্দর অন্ধ,তোমার পায়ের শব্দ , ধুলোমাটির মানুষ,ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস , লাজুক লিরিক,আমি ছিন্নভিন্ন ,কোথা সেই প্রেম, কোথা সে বিদ্রোহ, অস্তমিত কালের গৌরব, আমূল বদলে দাও আমার জীবন, একা হয়ে যাও,যদুবংশ ধ্বংসের আগে, কোথায় যাই, কার কাছে যাই, সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া, এসো তুমি পুরাণের পাখি, বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ, বিষাদ ছুঁয়েছে আজ, মন ভালো নেই, তোমার জন্য অন্ত্যমিল, আকাশের আদ্যোপান্ত, ভুলি নাই তোমাকে রুমাল, তুমিই অনন্ত উৎস, কেউ ভালোবাসে না , কাকে এই মনের কথা বলি,অন্তহীন নৃত্যের মহড়াা,একবার নিজের কাছে যাই, পাতার ঘোমটা-পরা বাড়ি,মন কেন কাঁদে,স্বপ্নে আঁকি সুন্দরের মুখ,ভালোবাসি হে বিরহী বাঁশি,বহুদিন ভালোবাসাহীন, কে তুমি বিষন্ন ফুল,কোনোখানে কোনো একদিন, কেন সুন্দর ব্যথিত এতো, ভালোবেসে ছুঁয়েছি আকাশ, অনেক দিনের বিষাদ আছে মনে, সব দুঃখ ভুলে যাই প্রেমের গৌরবে,ভালোবাসা, প্রিয় ঝরাপাতা, কেন মোহে, কেনবা বিরহে, শূন্যতা আমার সঙ্গী, আমার ভিতরে যতো অন্ধকার, আমার ভিতরে যতো আলো,তবু স্বপ্ন দেখি, সোনালি ডানার মেঘ,পৃথিবী, তোমাকে আমি ভালোবাসি, কে পেয়েছে সব সুখ, সবটুকু মধু, শুকনো পাতার স্বপ্নগাঁথা,দুঃসময়ের সঙ্গে হেঁটে যাই, দুঃখ কোনও শেষ কথা নয়, ভালোবাসা কেন এতো আলো অন্ধকারময়, লাজুক লিরিক-২, দূর বংশীধ্বনি, অর্ধেক ডুবেছি প্রেমে, অর্ধেক বিরহে, কালো মেঘের ওপারে পূর্ণিমা, সন্ধ্যার লিরিক, অন্ধের আঙুলে এতো জাদু, অক্ষরে বোনা স্বপ্ন, আদম হাওয়ার অশ্রবিন্দু,মাটির মলাট।
কবিতা সংকলন- মহাদেব সাহার রাজনৈতিক কবিতা,মহাদেব সাহার প্রেমের কবিতা, মহাদেব সাহার শ্রেষ্ঠ কবিতা,প্রেম ও ভালবাসার কবিতা, নির্বাচিত ১০০ কবিতা, প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা,মহাদেব সাহার কাব্যসমগ্র।
প্রবন্ধ-গরিমাহীন গদ্য ,আনন্দের মৃত্যু নেই , মহাদেব সাহার কলাম,কবির দেশ ও অন্যান্য ভাবনা,ভাবনার ভিন্নতা ,মহাদেব সাহার নির্বাচিত কলাম।
শিশুসাহিত্য-টাপুর টুপুর মেঘের দুপুর,ছবি আঁকা পাখির পাখা,আকাশে ওড়া মাটির ঘোড়া,সরষে ফুলের নদী,আকাশে সোনার থালা।
মহাদেব সাহা তার কাব্য প্রতিভার জন্য অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি ১৯৮৩ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে ১৯৯৫ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে বগুড়া লেখকচক্র পুরস্কার, ২০০২ সালে খালেকদাদ চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার অন্যতম।

তথ্যসুত্রঃ

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা

উইকিপিডিয়া

ইন্টারনেট

Check Also

ড. আজাদুর রহমান এর কবিতা ‘শোক’

মরণের পাশে বসে আছি মানুষের পাপ এবং প্রার্থনার মত, নিজের মুদ্রাদোষে অবিরত একা এবং একমাত্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − eight =