সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / বগুড়ায় পাঠদান না করেও সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক

বগুড়ায় পাঠদান না করেও সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক

মো: আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রতিনিধি : জাফরিনা আকতার, সুলতানগঞ্জ সরকারি পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলাধীন মানিকচক এলাকায়। যোগদানের পর থেকেই ইচ্ছেমতো শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করতেন তিনি। অথচ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে পাঠদান না করেও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। কেউ বলছে মানষিক ভারসাম্যহীন, কেউ বলছে ইচ্ছে করেই সহানুভূতি পেতে এমন আচরণ তার। তবে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন।
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারী জানিয়েছেন, পূর্ব অনুমতি ছাড়া শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই ২৮ দিন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৯ তিন অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। তবে চলতি বছরের মে, জুন, জুলাইসহ অন্যান্য মাসে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় তাকে উপস্থিত এবং কোন ক্ষেত্রে ছুটি দেখানো হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে সম্ভব হয়েছে, তা তার জানা নেই। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব রক্ষক মোছা: সালেহা জানিয়েছেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে চলতি বছরের জুলাই থেকে অদ্যবধি তার বেতন ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর সুলতানগঞ্জ সরকারি পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এর কিছুদিন পর থেকেই দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে ইচ্ছেমতো পাঠাদানের সুযোগ করে দিয়েছেন। নিজেকে জেলা শহরের এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিচয় প্রদান করায় সুযোগ পেয়ে যায় জেলার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম ছামুছুন্নাহারসহ সংশ্লিষ্ট সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে ও অবৈধ সুবিধা দিয়ে ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসা যাওয়াসহ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের সুযোগ করে দেওয়া হতো। বিষয়টি নিয়ে অন্য শিক্ষকরা কথা বললেও কোন কাজে আসেনি। অভিভাবকদের দাবি, যিনি শ্রেণীকক্ষে ঠিকমতো পাঠদান করতে পারেন না, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না, তাকে বিদ্যালয়ে রেখে কী লাভ। বরং তাকে চাকুরী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই অভিভাবক ও এক শিক্ষানুরাগী জানিয়েছেন, জাফরিনা আকতার শারীরিক ভাবে চাকুরী করতে অক্ষম। তাকে মেডিকেল টেষ্ট করালেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিদ্যালয় সংলগ্ন অপর তিন অভিভাবক দাবি করেন, শিক্ষক জাফরিনা আকতার বিদ্যালয়ে পাঠদান ফাঁকি দিতেই ইচ্ছে করে এমন আচরণ করেন। তবে যেটাই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অবশেষে চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ঝটিকা সফরে এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আলোচিত ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এরপর নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় জেলা শিক্ষা অফিস।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম ছামুছুন্নাহার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সদর উপজেলা সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সাজেদুল ইসলাম জানান, আমি এক বছর যাবৎ এখানে এসেছি। অভিযুক্ত ঐ শিক্ষককে একাধিকবার মৌখিক ভাবে সতর্ক করে দেওয়ার পর সবশেষে লিখিত ভাবে কারণ দর্শানো নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সেসব চিঠির কোন জবাব দেননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, জাফরিনা আকতারকে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে লিখিত ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজেকে সংশোধন করতে পারেননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন জানান, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস অভিযুক্ত ঐ শিক্ষককে অনেক ছাড় দিয়েছে। কিন্তু আইন তার নিজ গতিতেই চলবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দু’একদিনের মধ্যেই সহকারী শিক্ষক জাফরিনা আকতারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। এ বিষয়ে কথা বলতে সহকারী শিক্ষক জাফরিনা আকতারের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে স্ব-শরীরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

Check Also

সোনাতলায় বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় জনভোগান্তি চরমে

রবিউল ইসলাম শাকিলঃ বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলায় গত কয়েকদিন যাবৎ অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিড়ম্বনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

2 + three =