সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / বগুড়ায় বন্যায় ৪৭ গ্রাম প্লাবিত

বগুড়ায় বন্যায় ৪৭ গ্রাম প্লাবিত

মো. আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রতিনিধি : গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি এবং ধুনট উপজেলার ৪৭ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ১২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় নতুন করে নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, জ্বালানি এবং গবাদি পশু খাদ্যের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে যমুনা নদীর পানি ১৬.৮৩ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। প্লাবিত এলাকাগুলো হচ্ছে সারিয়কান্দি উপজেলার কাজলা, কর্ণিবাড়ী, বোহাইল, চালুয়াবাড়ী, চন্দনবাইশা, হাটশেরপুর, কুতুবপুর, সারিয়াকান্দি সদর, কামালপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও যমুনার তীরবর্তী এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা, ১টি হাইস্কুলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সোনাতলা উপজেলার মধুপুর, পাকুল্যা, তেকানি চুকাইনগড় এবং ধুনট উপজেলার সহরাবাড়ি, বৈশাখীর চর, রাধারনগড়, বুথুয়ার ভিটা, শিমুলবাড়ী, পুকুরিয়া। এই উপজেলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। বন্যা কবলীত এলাকার কৃষকের আউশ ধান, পাট, রোপা আমন, বীজতলা, শাকসবজি তলিয়ে গেছে। তবে তুলে যাওয়া এসব ফসলি জমির পরিমাণ এখনো নিশ্চিৎ করতে পারেনি প্রশাসন। বন্যা কবলিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বন্যায় আক্রান্ত অধিকাংশ এলাকাগুলোতে কোমড় পানি উঠে গেছে। ফলে দুর্ভোগ নেমে এসেছে সেখানকার জন-জীবনে। অনেকে ঘরের টিনে চালায় উঠে বসে আছে কেউ বা উচু মাচা করে রেখেছে। বন্যার কবল থেকে নিরাপদে থাকতে অনেইে আগে থেকে নিজেদের গৃহস্থালির আসবাবপত্র আর গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধের উপর তারা টিন ও বাঁশের বেঁড়া দিয়ে ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়া পর্যন্ত তাদের এখানেই থাকতে হবে। তবে বন্যাত্ব মানুষের সংখ্য বৃদ্ধির কারণে অনেকের জায়গা সংকুলান হচ্ছে না উচু বাঁধে। ফলে পানির মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অপর দিকে বন্যায় আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এতে করে পানিবাহিত ও চর্মরোগের আশংকা করা হচ্ছে। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সিদ্ধার্থ ভৌমিক জানান, বন্যার পানি বাড়ার সাথে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। বন্যায় আক্রান্ত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের সকল প্রস্তুতি শেষ আগামীকাল থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে। সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুর আলম জানান, সোনাতলার চরাঞ্চলের ৭ থেকে ৮টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। চর এলাকার যেসব বাড়িঘর সেগুলো আসলে অস্থায়ীভাবেই তৈরি করা হয়। বন্যার পানি প্রবেশের আগেই তারা টিনের চালা, গৃহস্থালির আসবাবপত্র, গবাদীপশুসহ উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে গিয়েছে। আগামীকাল থেকে তাদের ত্রাণসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হবে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশী হাসান মাহমুদ জানান, আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। ২০ জুলাইয়ের পর থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রায়হানা ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার ৪৭ গ্রাম বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১২০টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২ মেট্রিক চাল ত্রাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন।

Check Also

রোটারী ক্লাব অব বগুড়ার উদ্যোগে বগুড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিত

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ,বগুড়া প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় যথাযত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − 1 =