সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / বগুড়ায় বাঁধের মাটি কাটায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ পানি উন্নয়ণ বোর্ডের

বগুড়ায় বাঁধের মাটি কাটায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ পানি উন্নয়ণ বোর্ডের

মো: আব্দুল ওয়াদুদ,বগুড়া প্রতিনিধি :বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যমুনা নদীর বাঁধ কেটে মাটি বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বাদী হয়ে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম উপজেলার শিমুলবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে এবং গোসাইবাড়ী কেও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ভাঙনরোধে বানিয়াজান গ্রামে নদীর বুকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ স্পার (মাটির বাঁধ) নির্মান করা হয়। ওই বাঁধ ঘেষেই আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের নিজম্ব আবাদি জমি। এক সপ্তাহ আগে তিনি নিজস্ব জমি থেকে মাটি কর্তনের এক পর্যায়ে বাঁধের মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বাদী হয়ে ২৪ এপ্রিল রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ী থেকে মাধবডাঙ্গা গ্রাম পর্যন্ত এক হাজার মিটার দীর্ঘ যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মান করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রায় ২৫ বছর আগে বাঁধ নির্মানের ফলে প্রতিবছর বন্যার হাত থেকে রক্ষা পায় ধুনট, শেরপুর, কাজিপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলার লাখ লাখ পরিবার। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধের পাশে নিজস্ব জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করছি। এই মাটি বাঁধ সংস্কার কাজের ঠিকাদারের নিকট বিক্রি করেছি। এছাড়া স্থানীয় একটি বাড়ি উচু করনের কাজ করা হয়েছে। মাটি কেটে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কোন প্রকার ক্ষতি করা হয়নি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, বাঁধের বর ঘেষে জমিটি কখনোই কারও ব্যক্তিগত সম্পত্ত্বি হতে পারেনা। যদিও হয়ে থাকে তবুও রাষ্ট্রিয় স্বার্থে নদী রক্ষা বাঁধের বর ঘেষে যথেচ্ছা মাটি কাটা চলবেনা। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে বাঁধের পাশ থেকে মাটি কাটার কাজে রফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এরপর মাটি কেটে নিলে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, আবাদি জমির টপ সয়েল কর্তন দন্ডনীয় অপরাধ। বাঁধের ক্ষতি করে মাটি কর্তনের অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এভাবে অবৈধ ভাবে মাটি তুলে রফিকুল ইসলাম নিজে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গোটা এলাকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অনেক কষ্টে বাঁধের কারণে এলাকাটি এখনও টিকে আছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মনে করেন, এ বিষয়টি রফিকুলের ব্যক্তিগত স্বার্থ। সুতরাং একজন মাত্র ব্যক্তির জন্য গোটা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারেনা। তাই প্রশাসনের উচিত মাটি কাটা বন্ধ করে রফিকুলের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া ।

Check Also

সম্পন্নের পথে স্বপ্নের সোনাতলা প্রেসক্লাব ভবন

ইকবাল কবির লেমনঃ বগুড়া’র সোনাতলা উপজেলার সাংবাদিকদের আকাক্সিক্ষত ও স্বপ্নের প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − nine =