সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / বসন্ত বাতাসের উচ্ছ্বাসভরা দিনে সোনাতলার ছয় স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা

বসন্ত বাতাসের উচ্ছ্বাসভরা দিনে সোনাতলার ছয় স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা

ইকবাল কবির লেমনঃ বসন্ত বাতাসের উচ্ছ্বাসভরা দিনে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ছয় স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা। গত বুধবার শুরু হওয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের হরিখালী বাজার, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের কাঁচারী বাজার, পাকুল্লা ইউনিয়নের পাকুল্লা বাজার ও জোড়গাছা ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া ও চরপাড়ার গ্রামীন মেলা ও বৃহস্পতিবার সোনাতলা সদর ইউনিয়নের আড়িয়ারঘাটে অনুষ্ঠিত সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মাকুড়ী সপ্তমী মেলাকে কেন্দ্র করে সোনাতলায় এখন উৎসবের আমেজ। সোনাতলা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় এখন শুধুই মেলার অনুষঙ্গ।
সোনাতলা উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দুরে মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর বাজারে প্রায় শতবর্ষ পূর্ব থেকে সন্যাসী পুজাকে কেন্দ্র করে হরিখালী মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রথম দিকে হরিখালীর পার্শ্ববর্তী সাতবিলে সন্যাসী পুজার দিন মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও আস্তে আস্তে লোক সমাগম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তা হরিখালী বাজারে স্থানান্তরিত হয়। মেলাটি ১ দিনের জন্য হলেও ২থেকে ৩ দিন এর আমেজ থাকে।
১৫/২০ বছর আগে মেলাপ্রিয় স্থানীয় জনগনের উৎসাহে তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের কাঁচারী বাজারে এবং পাকুল্লা বাজারে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত মেলাটি এখন তার ব্যাপ্তি বাড়িয়ে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়ায় সন্যাসী পুজাকে কেন্দ্র কলে শতবর্ষী এ মেলাটি বুড়া মেলা নামে পরিচিত।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের আড়িয়ারঘাট ব্রিজের নিচে বাঙালি নদীর তীরে মাকুড়ী সপ্তমী মেলা সোনাতলার একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। ঠিক কত বছর আগে থেকে মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সে ব্যাপারে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় মেলাটি এ অঞ্চলের একটি প্রাচীনতম মেলা। সনাতন ধর্মের লোকজন মেলায় এসে বাঙালি নদীতে  স্নান করে থাকে। এ স্নানের মাধ্যমে পঙ্কিলতামুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ হওয়া যায় বলে তাদের ধারণা।
এ মেলাগুলোতে বড়-বড় মাছ, কাঠের আসবাবপত্র, মাটির তৈজসপত্র, লোহার নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, শিশুদের খেলাধুলার সামগ্রী,বিভিন্ন আকৃতির মিষ্টি পাওয়া যায়।
মেলার বেশ কয়েকদিন পূর্ব থেকে ওই অঞ্চলের লোকজন তাদের মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীদের নাইওর নিয়ে আসেন। আর যারা নাইওর আসতে পারেনা তাদের বাড়িতে পাঠানো হয় বড়-বড় মাছ ও মিষ্টি।
সোনাতলা উপজেলার এ মেলাগুলো গ্রামীণ জনপদে নির্মল আনন্দের খোরাক যোগালেও বর্তমানে জুয়াসহ কিছু অনৈতিক কর্মকান্ড মেলার সাবলিল ধারাকে প্রবাহিত করছে ভিন্নভাবে। অনৈতিক কর্মকান্ড মুক্ত করে গ্রামীণ মেলাগুলোকে পরিচ্ছন্ন নির্মল বিনোদনের মাধ্যম করে তুললে যেমন বাঁচবে আমাদের বাঙালিয়ানা তেমনি বিকশিত হবে আমাদের সংস্কৃতি।

Check Also

সাকি সোহাগ এর কবিতা ‘কত ফাগুন এলো গেল’

কত ফাগুন এলো গেল কত গাছের পাতা ঝড়ল কত ফুলে মুখরিত হল এই প্রকৃতি; শুধু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + fourteen =