সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বাংলাদেশের একমাত্র জীবন্ত উদ্ভিদ সংগ্রহশালা ‘জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান’

বাংলাদেশের একমাত্র জীবন্ত উদ্ভিদ সংগ্রহশালা ‘জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান’

সাজেদুর আবেদীন শান্ত, স্টাফ রিপোর্টারঃ বোটানিক্যাল গার্ডেন বা উদ্ভিদ উদ্যান হলো বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার্য দুর্লভ, বিদেশী ও প্রয়োজনীয় গাছগাছালির বাগান। ইতিহাসের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রতিষ্ঠা ৩৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যারিস্টটলের হাতে। ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে ইতালিতে প্রথম সার্বজনীন বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বোটানিক্যাল গার্ডেন রয়েল বোটানিক্যাল গার্ডেনস প্রতিষ্ঠিত হয় লন্ডনে ১৭৫৯ সালে। এই উদ্যান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বোটানিক্যাল গার্ডেন নির্মাণ, উদ্ভিদ সংগ্রহ ও গবেষণায় প্রভূত সাহায্য যুগিয়েছে এবং এখনও যোগাচ্ছে।
ঢাকার মিরপুরে ১৯৬২ সালে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান স্থাপনের কাজ শুরু হয় । স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম উদ্ভিদ উদ্যান এটি। এই উদ্যানটি যাতে পূর্ণাঙ্গ অর্থেই একটি পরিপূর্ণ বোটানিক্যাল গার্ডেনের মর্যাদা পায়, সে ব্যাপারে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে ২১৫.২২ একর জায়গায় বিরল প্রজাতির গাছপালা নিয়ে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন) এখন একটি জীবন্ত সংগ্রহশালা। জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে উদ্ভিদ আছে প্রায় প্রায় ৬৮ হাজার প্রজাতির। এর মধ্যে বৃক্ষ রয়েছে ৩০৬ প্রজাতির, গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে ২০১ প্রজাতির। বিরুত প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে ৪৪১ প্রজাতি। লতা জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে ৬২ প্রজাতির, অর্কিড জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে ২১ প্রজাতির, ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে ৪২ প্রজাতির, রয়েছে ৩০০ ভয়ারাইটির গোলাপ। ২১৫ একর উদ্যানটি মোট ৫৭ টি সেকশনে বিভক্ত। বিভিন্ন আকারের জলাশয় রয়েছে ১১ টি। জলাশয়গুলার মোট আয়তন ১১ একর। একটি জলাশয়ের পাশে রয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত ও ডেক,
উদ্যানের ক্যাকটাস গ্রীন হাউজে রয়েছে ৮০ প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট। ১৯৯৪ সালে গ্রীন হাউজটি নির্মান হয়। এই নেট হাউজে প্রায় ১০০ প্রজাতির ছায়াতরু রয়েছে।
উদ্ভিদ উদ্যানে বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতীর উদ্ভিদ নিয়ে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক উদ্যান নামে একটি শাখা খোলাহয়। আন্তর্জাতিক সেকশনে বিদেশি গাছের বীজ, চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ শুরু হয় সত্তরের দশকে । এই শাখায় রয়েছে আস্ট্রেলিয়ার সিলভার আক্জ্যাকারান্ডা ও ট্যাবে পাম, থাইল্যান্ডের রামবুতাম, মালেশিয়ার অয়েল পাম, জাপানের কর্পুর। উদ্ভিদ উদ্যানে ৫ একর জায়গা জুরে একটি নার্সারি রয়েছে। এখানে বিভিন্ন রকমের চারা চাষ হয় ও সরকার নির্ধারিত মুল্যে তা ক্রয় করা যায়।

উদ্ভিদ উদ্যানের দায়িত্ব প্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান এখানে প্রতি বছর প্রায় ১০/১২ লক্ষ দর্শনার্থী আসে। সবচেয়া বেশি দর্শনার্থী হয় ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল মাসে ।

Check Also

বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকেরের জানাজা বাদ আসর অনুষ্ঠিত হবে

বরেণ্য অভিনেতা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকেরের জানাজা আজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 1 =