সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস তৈরীর অপেক্ষায় ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’

বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস তৈরীর অপেক্ষায় ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’

default

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ ,বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামের বিস্তীর্ণ ধান ফসলের মাঠ। বাতাসে দোল খাচ্ছে গাঢ় বেগুণী ও সবুজ ধানের পাতা। আর এই দুই রঙের ধান ফসলের মাঠে ফুঠে উঠেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে আসছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধুর শস্যচিত্র দেখতে। তবে খালি চোখে শস্যচিত্রটির পূর্ণাঙ্গ রুপ দেখা সম্ভব না হলেও উঁচু থেকে জাতির পিতার শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই শস্যচিত্রটি দেখতে স্থানীয়দের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা অনেকেই ভিড় করছেন।
একশথ বিঘা জমির গাঢ় বেগুণী ও সবুজ ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রতিকৃতি এটি। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুথ। জাতির জনকের এই চিত্রকর্ম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘শস্যচিত্রথ হিসেবে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস তৈরী করবে। সেই অপেক্ষার প্রহর গুণছেন পুরো বাঙালি জাতি।
গতকাল ৯ মার্চ মঙ্গলবার গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরে সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.এমদাদুল হক চৌধুরী শস্যচিত্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ সাংবাদিকদের জানান,শস্যচিত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ড্রোনের মাধ্যমে দেখলে সহজেই তা বুঝা যায়। তিনি জানান, শস্যচিত্রটির সকল শর্ত পূরণ হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রধান কার্যালয়ে তারা রিপোর্ট পেশ করবেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে এবং বেসরকারি কোম্পানি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় এই ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুথ নামে বিশাল আয়তনের এই প্রতিকৃতি তৈরী করা হয়েছে। শস্যচিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম জানান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সার্বক্ষণিক চিন্তা ছিল এদেশের মানুষের জন্য। তাই সবার আগে তিনি নজর দিয়েছিলেন কৃষি খাতের দিকে। তাই কৃষি প্রধান সবুজ বাংলার বিশাল ক্যানভাসকে ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো আমরা আঁকতে যাচ্ছি একটি নতুন ধরণের চিত্র কর্ম যা আবারো বিশ্ববাসীর সামনে মাটি ও মানুষের তথা কৃষি ও কৃষক দরদি বঙ্গবন্ধু কে তুলে ধরবে। এটি হবে জাতির পিতার জন্মশতবাষিকীর এক অনন্য উদযাপন। সেই সাথে গোটা বিশে সর্ববৃহৎ ক্রপ মোজাইক বা শস্য চিত্র সৃস্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর নাম গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ ঠাঁই করে নেয়ায় দেশের জন্য অর্জিত হবে নতুন ইতিহাস
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কৃষিবিদ ফয়জুল সিদ্দিকী বলেন, গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দুজন প্রতিনিধি ইতিমধ্যে চিত্রকর্ম টি পরিদর্শন করেছেন। সবকিছু দেখে প্রতিবেদন জমা দেবেন তাঁরা। এরপর বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র হিসেবে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জাতির জনকের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতেই কৃষিবিদ ও প্রকৌশলীদের যৌথ পরিকল্পনায় কৃষি ও কৃষকের বঙ্গবন্ধুর বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রতিকৃতি তৈরীর এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয় বলেও মন্তব্য করেন প্রকল্পের সমন্বয়ক ফয়জুল সিদ্দিকী।
বাস্তবায়নকারী কোম্পানি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান জানান, এই শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শস্যচিত্রের আয়তন হবে ১২লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। শস্যচিত্রের দৈঘর্য ৪শথ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৩শথ মিটার। যা হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র। কারণ সর্বশেষ বিগত ২০১৯সালে চিনে তৈরী শস্যচিত্রটির আয়তন ছিল ৮ লাখ ৫৫হাজার ৭৮৬বর্গফুট। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি তৈরি করার জন্য দুই ধরনের ধান বেছে নেওয়া হয় গাঢ় বেগুণী ও সোনালী রং। চিন থেকে এই ধানের জাতটি আমদানি করা হয়েছে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই নিভৃত পল্লীর বালেন্দা গ্রামের ফসলি মাঠে একশত বিঘা জমি লীজ নেওয়া হয়। পরে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্যদের নিয়ে লে-আউট তৈরী করা হয়। পরে চারা লাগানোর জন্য নির্ধারিত মাঠ প্রস্তুত করা হয়। এই কাজে একশথ বিএনসিসি সদস্যের দল অংশ নেন। চারা রোপন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পুরোদমে চলে চারা রোপনের কাজ। প্রতিদিন একশত বিশ থেকে একশত ত্রিশজন শ্রমিক এই চারা রোপণ কাজ করেছেন। এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি নিখুঁত ও ক্রটিহীনভাবে ফুটিয়ে তুলতে সেচ ও পরিচর্যায় কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই একশথ বিঘা জমিতে রোপনকৃত ধানের চারায় ফুটে উঠেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি।
গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উচ্চ ফলনশীল দুই ধরণের ধানের চারা রোপনের মাধ্যমে এই কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন।
গতকাল ৯ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে শস্যচিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম চিত্রকর্মটি পরিদর্শণে আসেন। এসময় বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, শেরপুর-ধুনট এলাকার সংসদ সদস্য মোঃ হাবিবর রহমান, শেরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার,শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিয়াকত আলী শেখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Check Also

সোনাতলা উপজেলা আ’লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদককে সংবর্ধনা দিলো মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি সোনাতলা উপজেলা শাখা কর্তৃক উপজেলা আওয়ামী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × one =