সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / ফিচার সংবাদ / বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ছোট পাখি ‘মেটেঠোঁট ফুলঝুরি’–মোফাচ্ছেরুল আল নোমান

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ছোট পাখি ‘মেটেঠোঁট ফুলঝুরি’–মোফাচ্ছেরুল আল নোমান

আমাদের দেশের সবচেয়ে ছোট পাখির নাম কি? প্রশ্ন করলে অনেকেই উত্তর দিতে পারবে না। অনেকেই হয়তো পাখিটিকে দেখেছে। কিন্তু নাম জানে না।
একটু ঘন গাছগাছালি আছে, এমন বুনো এলাকায় বাসা বানায় তারা। বছরে তিনবার বাচ্চা দেয়। বাসাও তাদের মতই হয় খুব ছোট। ঘন গাছের সারি একটা গছের সরু ডালে খুব গোপনে বাসা বাঁধে, ফুলঝুরির বাসা বেশ পরিচ্ছন্ন। রঙিন তুলো, খড় তন্তু জাতীয় কিছু দিয়ে বাসায় বানায় যার জন্য বাসাটা খুব রঙিন লাগে।
এই রঙিন ঘরে দুটো ডিম পারে স্ত্রী-ফুলঝুরি, ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে ১৩-১৫ দিনে। বাচ্চারা উড়তে শেখে ১৩-১৪ দিনে। ২২-২৪ দিন বয়সে ছোট্ট পাখিগুলো বাবা-মায়ের কাছ আলাদা হয়ে যায়।
দক্ষিণ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে ফুলঝুরি পাখির ৫৫টি প্রজাতি ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে একটি পরিযায়ীসহ ৭ প্রজাতির ফুলঝুরি সনাক্ত করা হয়েছে।
৬ গ্রাম ওজনের এ পাখিটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট পাখি। এ পাখি অত্যন্ত লাজুক ও ভিতু স্বভাবের হয়ে থাকে। তবে এরা যথেষ্ট সাবধানী ও চতুরও হয়। আড়ালে আড়ালে উড়ে বেড়ায়, আড়ালে বসে গান গায়। জনসমক্ষে বা লোকালয় আসে না। সে জন্য এদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। এরা অন্যান্য ছোট পাখি, যেমন– মৌটুসি, নীলটুনি বা আমেরিকার হামিংবার্ডের মতো আকাশে স্থির থেকে উড়তে পারে না। ছোট্ট এই পাখিগুলো চমৎকার ভঙ্গিমায় ওড়ে। বন ও বাগানের উপর দিয়ে বেশির ভাগ উড়ে। মিষ্টি স্বরে গান গায়, গলার স্বর খুব একটা জোরালো হয় না।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই আছে ফুলঝুরি পাখি। কিন্তু কয়জন দেখেছে তাকে? এই ফুলঝুরিকে দেখা অত সহজ ব্যাপার নয়। কারণ গাছের তলায় দাঁড়িয়ে তাকে দেখা মুশকিল। সে কারণে ওর পরিচয়ও জানে না অনেকেই। তবে পাখি পর্যবেক্ষণে যারা জড়িত তারা ঠিকই চেনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট এই পাখিটিকে। পাতাঝরা বন, আবাদি বন, ঘেরা ফলের বাগান, কুঞ্জবন বা প্যারাবনে। ওদের প্রধানত পছন্দের খাবার-পরজীবী গাছের রসালো ফল। যেখানে আছে ফলের বাগান, বনভূমি কিংবা গ্রামীণ লোকালয়ের ধারেকাছে গাছগাছড়া, সেখানেই দেখা যায় ফুলঝুরিদের। একে তো ছোট, তার উপর গাছের মাথায় ঘোরাঘুরি করে বলে খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু একগাছ থেকে অন্যগাছে যখন উড়ে যায়, তখনই বেশি চোখে পড়ে। ওড়ার সময় ডানা একবার খোলে, একবার বন্ধ করে। বাতাসে ঢেউ তুলে তুলে ওড়ে তারা। উড়ার গতিও বেশ দ্রুত।

মেটেঠোঁট ফুলঝুরির প্রধান খাবার পাকা ফল,খায় হাভাতের মতো। ফল খেতে খেতে ফলের ভেতর ঢুকে যায়। বাইরে থেকে বোঝা যায় না যে ভেতরে বসে ফল খাচ্ছে। অথচ ফলটি নড়ছে।

মোফাচ্ছেরুল আল নোমান
পঞ্চগড়,
বন্যপ্রানী ও প্রকৃতি ফটোগ্রাফার।

Check Also

প্যাঁচা সমাচার — মোফাচ্ছেরুল আল নোমান

দুপুর গড়িয়ে বিকেল সাড়ে তিন, গাছের মগ ডালে ক্যামেরা নিয়ে বসে আছি সেই দুপুর থেকে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − nine =