সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / ফিচার সংবাদ / বাবুই পাখি —মোঃ মামুন উল হাসান শাওন

বাবুই পাখি —মোঃ মামুন উল হাসান শাওন

বাংলার প্রথিতযশা কবি “রজনীকান্ত সেন” এর স্বাধীনতার সুখ কবিতাটি আমাদের সবারই জানা। যেখানে কবি বাবুইপাখি ও চড়াই পাখির কথোপকথনের মাধ্যমে বাবুইপাখির শিল্পী সত্বার বর্ণনা দিয়েছেন।
এই বাবুই পাখির কি শুধু শিল্পী গুণ রয়েছে, না কি এদের আরো গুণ রয়েছে ও এদের জীবনযাত্রা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
#বাবুইপাখি বা Black-Breasted Weaver Bird. চড়াইসদৃশ পাখিটি খুব সুন্দর বাসা বোনে বলে এরা তাঁতি পাখি, বাবুই, বাউই নামেও পরিচিত।
খুব সুন্দর বাসা বোনে বলে এরা “তাঁতি পাখি” (Weaver Bird) নামেও পরিচিত।
পৃথিবীতে বাবুই প্রজাতির সংখ্যা ১১৭।
বাবুই সাধারণত ৩ প্রজাতির হয়ে থাকে, দেশি বাবুই , দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই।
এদের মধ্যে বাংলা ও দাগি বাবুই এর প্রজাতি বিলুপ্তির পথে, তবে দেশি বাবুই এখনো দেশের সব গ্রামের তাল, নারিকেল, খেজুর, উঁচু গাছে দলবেঁধে বাসা বোনে।
১. দেশি বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগঃ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. philippinus
২. দাগি বাবুই: দাগি বাবুই যার বৈজ্ঞানিক নাম Ploceus philippinusএবং ইংরেজি নাম Ploceus manyar। এরা সাধারণত শান্ত জলাধারের উপরে গাছপালায় বাসা তৈরি করে বসবাস করে।
দাগি বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. manyar
৩. বাংলা বাবুই: বাংলা বাবুই যার বৈজ্ঞানিক নাম Ploceus benghalensis ইংরেজি নাম Bengal Weaver অথবা Black-breasted Weaver. এরা
বাংলা বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. benghalensis
#আবাসঃ
অধিকাংশ বাবুই প্রজাতির আবাস সাব-সাহারান আফ্রিকায় এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও নেই। আমাদের দেশে মূলত সিলেট, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে দেখা মেলে।
#বাসস্থানঃ
এরা দলবদ্ধ পাখি আর কলোনি করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। এদের বাসার গঠন বেশ জটিল আর আকৃতি খুব সুন্দর। কয়েক প্রজাতির বাবুই একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে পারে। বাবুই পাখিকে শৈল্পিক ইঞ্জিনিয়ার বলা চলে। নিজের ঘর সাজাতে তাদের কোনো জুড়ি নেই। এরা বেশ দলবদ্ধ প্রাণী আর কলোনি করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। বাবুই পাখির বাসা উল্টানো কলসির মত দেখতে। বাসা বানাবার জন্য বাবুই খুব পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয় ঘাসের আস্তরণ সারায়। যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে(পালিশ করে) গোল অবয়ব মসৃণ করে। শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে। পরে একদিক বন্ধ করে ডিম রাখার জায়গা হয়। অন্যদিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ হয়। রাতে বাসায় আলো জ্বালার জন্য বাবুই জোনাকী ধরে এনে কাঁদায় গুঁজে রাখে। বাংলাদেশে বাংলা ও দাগি বাবুই এর প্রজাতি বিলুপ্তির পথে, তবে দেশি বাবুই এখনো দেশের প্রায় গ্রামের তাল, নারিকেল, খেজুর, রেইনট্রি বা উঁচু গাছে দলবেঁধে বাসা বোনে। এরা সাধারণত জন বসতির কাছাকাছি নির্জন কোন স্থানে বসবাস করে। ফলে অনেক অসচেতন মানুষ এদের বাসা ভেঙে ফেলে আর অনেকটা একারণেই এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
বাবুইয়ের বাসা করার জন্য প্রয়োজন হয় তালপাতা, কাশবনের পাতা, নলখাগড়া ও হোগলার বন। এছাড়াও এরা কাঁটা জাতীয় বৃক্ষেও বাসা তৈরি করে এবং আহার সংগ্রহে সুবিধা হয় এমন স্থান নির্বাচন করে।
#খাদ্যঃ
এরা মূলত বীজভোজী পাখি, সে জন্য তাদের ঠোঁটের আকৃতি বীজ ভক্ষণের উপযোগী; চোঙাকার আর গোড়ায় মোটা। এরা সাধারণত খুটে খুটে বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু-রেণু এবং ক্ষেত-খামারের ফসলের পোকামাকড় ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারন করে।
#প্রজননঃ
গ্রীষ্মকাল এদের প্রজনন ঋতু। এরা প্রজনন করে মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। বেশিরভাগ বাবুই প্রজাতির পুরুষ বেশ উজ্জ্বল রঙের হয়। কিছু প্রজাতি তাদের প্রজনন মৌসুমে বর্ণের ভিন্নতা প্রদর্শন করে। এরা লম্বায় ১৪-১৫ সেন্টিমিটার। ওজন ১৮-২২ গ্রাম। পুরুষ ও স্ত্রীর দেহের রঙে বেশ পার্থক্য আছে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষের দেহে রঙের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়। পুরুষের মাথার চাঁদি সোনালি-হলুদ হয়ে যায়। কান-ঢাকনি ও গাল হালকা বাদামি থেকে সাদা। ঘাড় ধূসর-কালো ও গলা সাদা। বুকে চওড়া কালো ফিতা। পেট ফিকে সাদা, যাতে হালকা বাদামি বা হলদের ছোঁয়া। পিঠে কালচে লম্বালম্বি দাগ। প্রজননকালের স্ত্রী অন্য সময়ে চেয়ে কিছুটা উজ্জ্বল, অনেকটা শীতের পুরুষের মতো।
স্ত্রী ও প্রজননহীন পুরুষ মাথা ও ঘাড়ের ওপর কালচে ডোরা, যার মাঝখানে হলুদ। দেহের ওপরটায় লম্বালম্বি হলুদ ও কালচে দাগ। ভ্রু ও গলা হলুদ, কান-ঢাকনি বাদামি ও পেট পীতাভ। বুকের উপরের কালো ফিতা অসম্পূর্ণ। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে চোখ হালকা বাদামি, ঠোঁট কালচে। পা, আঙুল ও নখ হালকা গোলাপি।
প্রজনন ঋতুতে একই জায়গায় সচরাচর দুই থেকে পাঁচটি বাসার কলোনি দেখা যায়। পুরুষ পাখি বাসা বানায়, অর্ধসমাপ্ত বাসা স্ত্রী পরখ করে। পছন্দ হলে জোড় বাঁধে। স্ত্রী দুই থেকে পাঁচটি সাদা ডিম পাড়ে। প্রায় দুই সপ্তাহে ডিম ফোটে। বাচ্চারা এক মাসের মধ্যে উড়তে শেখে।
#বেঁচে_থাকার_হুমকিঃ
বাবুই পাখি প্রজনন ও কলেনি স্থাপনের জন্য তালগাছ খুব পছন্দ করে। আমাদের পরিবেশ থেকে তালগাছ প্রায় বিপন্ন হতে চলছে। গ্রামাঞ্চলে তালগাছ, নারিকেল গাছ, খেজুর গাছ ও উঁচু গাছে তারা দল বেঁধে বাসা বাঁধে। এদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা যদি বেশি বেশি তালগাছ লাগাই তাহলে হয়তো আবার এদের আমাদের পরিবেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব।
পাখিটি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিবেচনায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় উঠে এসেছে, এছাড়াও বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

মোঃ মামুন উল হাসান শাওন
নির্বাহী পরিচালক
সাস্টেইনেবল এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (এসইডিবি)
শৈলী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

Check Also

প্যাঁচা সমাচার — মোফাচ্ছেরুল আল নোমান

দুপুর গড়িয়ে বিকেল সাড়ে তিন, গাছের মগ ডালে ক্যামেরা নিয়ে বসে আছি সেই দুপুর থেকে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + 4 =