সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পে ব্যপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বগুড়া সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে

বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পে ব্যপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বগুড়া সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে

মো. আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রতিনিধি :২০১৯-২০ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পে ব্যপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। মাত্র একটি ইটের ভিত্তি উপর নির্মান করা হয়েছে এসব বাড়ি। ফলে ওই বাড়িগুলো এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিনত হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান। বাস্তবায়ন কমিটিতে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। আর মূল তত্বাবধান ছিলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের হাতে। তাদের সম্মিলিত দুর্নীতির প্রতিফলন ঘটেছে এই প্রকল্পে। সরেজমিনে বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ডেকরা গ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী লাল মিয়ার ঘরটি দেখতে গিয়ে বেরিয়ে আসা দুর্নীতির চিত্র। ওই ঘরটি মাত্র একটি ইটের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। চালে যে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে তাতে অসংখ্য জোড়াতালি। সিমেন্টের ব্যবহারও সীমিত। বালির ব্যবহারেও আপত্তি। সিমেন্ট বালির বাস্তবিক সমন্বয় নেই। কোন রকমে দায় সারা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার পেয়ে মৃত্যু চিন্তায় নির্ঘুম রাত পোহাচ্ছেন বগুড়া সদর উপজেলার ঘরপ্রাপ্তরা। ভেঙ্গে মাথার উপর পরবে এমন ভয় থেকে অনেকেই ঘরে পর্যন্ত উঠেননি। লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ডেকরা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী লাল মিয়া ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন একটি ইটের উপর কোন ঘর টিকে থাকতে পারে না। জোরে বাতাস হলেই পরে যেতে পারে মাথার উপর। সেই ভয়ে তিনি ওই ঘরে উঠেননি। ঘরের দেয়ালে কোদাল দিয়ে মাটি সরিয়েও দেখা মিললো মাত্র একটি ইটের। অথচ প্রকল্পের নাম দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান। এসব ঘর কতটা দুর্যোগ সহনীয় ভাবে নির্মান করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিবরণ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘরপ্রাপ্ত বাকপ্রতিবন্ধী লাল মিয়ার মা ছামসুন্নাহার বলেন, ঘরের ভিত্তি দিয়েছে মাত্র একটি ইটে। তারা প্রতিবাদ করলেও কোন কথা শোনেনি কেউ। উল্টো ধমক দিয়ে বলা হয়েছে এখন ভূমিকম্প নেই, এই ঘরের কিছু হবে না। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে চাইলে নিজেরা করে নিও। প্রতিবেশি জেল্লার রহমান এবং বলুর রহমান বলেন, ঘরটি তৈরির সময় তারা সংশ্লিষ্টদের বলেছিলো লাল মিয়া প্রতিবন্ধী এই ঘরটা অনন্ত একটু ভালো করে তৈরি করে দেন। তাদের কথাও কানে নেইনি কেউ। এদিকে বগুড়ার একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, আমি এসব ঘরগুলো দেখে এসেছি। একটি ইটের উপর কোন ঘরই থাকতে পারে না। ভূমিকম্প দূরের কথা জোড়ে বাতাস হলেই এসব ঘর ভেঙ্গে পরবে। তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব ঘর গরীব মানুষদের উপহার হিসেবে দিয়েছেন এটি নিঃসন্দেহে ভালো এবং প্রশংসা পাওয়ার মত কাজ। কিন্তু আমলারা এসব ক্ষেত্রেও দুর্নীতি করে মূলত প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তার নিজের লোকদিয়ে এসব ঘরগুলোর বাস্ত চিত্র তদন্ত করেন তাহলেই এসবের পেছনে কারা দায়ী বেরিয়ে আসবে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বগুড়া সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য একাধিক দিন তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। অফিস সহকারি এবং প্রকল্পের ঠিকাদাররা বলেছেন তিনি ঠিকমত অফিসে আসেন না। মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি রিসিভ করেন না। এমন কি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও বলেছেন তিনি ঠিকমত অফিসে আসেন না তার ফোনও রিসিভ করেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই কর্মকর্তা সদর উপজেলার আগে ধূনট এবং গাবতলী এলাকাতেও প্রকল্পে অসংখ্য দুর্নীতি করেছেন। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছও হয়েছেন তিনি। অনেকে বলেছেন ওই কর্মকর্তা বেশ আয়েশি জীবনযাপনও করছেন। এই প্রকল্পের নির্মিত ঘরগুলো নিয়ে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, আমি এই প্রকল্পের সভাপতি। একটি ইটের উপর ঘর নির্মান করা হয়েছে এটি ঠিক নয়। তবে কেউ কেউ পরে মাটি কাটবে এমন কথা বললে নিচের ইটগুলো উপরে দেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম ঠিকমত অফিসে আসেন না এমন তথ্য তার জানা আছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সে ঠিক মত অফিসে আসেন না সেটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও জানেন। সে আমার ফোনও ঠিক মত রিসিভ করেন না। এমন বেপরোয়াপনার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৌখিক অভিযোগ দেয়া হয়েছে। যদিও মৌখিক অভিযোগ অনেকক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। এই রিয়াজুলের ব্যাপারে অনেক ঠিকাদার অ্ভিযোগ করেছেন, কোন কাজের বিল পাস করতে হলে তাকে ১০-২০ পারসেন্ট টাকা ঘুষ দিতে হয়। তা ছাড়া চেক পাওয়া যায় না। তারা বলেছেন কোন গায়েবি ক্ষমতায় ওই কর্মকর্তা অফিস না করেও বহাল তবিয়তে আছেন সেই প্রশ্ন এখন বড় আকার ধারণ করছে। গরীবদের জন্য সরকারে্র এই উপহার যদি বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে এর দায় কে নেবে এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

Check Also

সোনাতলা থিয়েটার এর নাট্যকর্মী নিয়ামুল হাসান বাঁধন এর পিতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ

বাঙালি বার্তা ডেস্কঃ সোনাতলা থিয়েটার ও দুর্জয় সাহিত্য গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য ও নাট্যকর্মী নিয়ামুল হাসান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × one =