সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / তথ্য-প্রযুক্তি / মহাকাশ সম্পর্কে জানি – রবিউল ইসলাম শাকিল

মহাকাশ সম্পর্কে জানি – রবিউল ইসলাম শাকিল

মহাকাশ স্টেশন
মহাকাশ স্টেশন হলো মূলত একটি বড় মহাকাশযান যেটি পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিন করে এবং এমন একটি জায়গা যেখানে মহাকাশচারীরা বসবাস করতে পারে।

কয়টি মহাকাশ স্টেশন রয়েছে?
২০২১ সাল পর্যন্ত নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫০ মাইল উপরে অবস্থান করছে সম্পূর্ণ চালু এবং বসবাসযোগ্য একমাত্র আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি। এই মহাকাশ স্টেশনটি চিনকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।
এজন্য চিন তিয়ানগং-১ ও তিয়ানগং-২ নামক দুটি স্পেস স্টেশন মহাকাশের কক্ষপথে পাঠিয়েছিল তবে এ দুটিই ছিল পরীক্ষামূলক। এ দুটির মডিউল ছিল অত্যন্ত সাদামাটা এবং যেখানে নভোচারীদের তুলনামূলকভাবে অল্প সময় থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

আগামীতে নতুন কোনো মহাকাশ স্টেশন সৃষ্টি হতে পারে কি?
বিজ্ঞান সবসময় উন্নত হচ্ছে। এই উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এর সূচনা হয়েছিল রাশিয়ান বিজ্ঞানীদের হাতে ১৯৯৮ সালে। এর দুই বছর পর ২০০০ সালের ২রা নভেম্বর প্রথম এতে Crew যুক্ত হয়। এর আরো ১০ বছর পর ২০১১ সালে নাসা এর সম্পূর্ণ কাজ শেষ করে।
বলেছিলাম! বিজ্ঞানের উন্নয়নের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। International Space Station –টি চিনকে ব্যবহার করতে না দিলেও বসে নেই চিনারা। তারা প্রথম তিয়ানগং-১ এবং দ্বিতীয় তিয়ানগং-২ পরীক্ষামূলক মহাকাশের কক্ষপথে পাঠালেও এবার তারা সম্প্রতি ২০২১ সালেই চীনের নতুন স্থায়ী মহাকাশ স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ তিয়ানহে নামক মূল অংশ বা মডিউলটি চীনের ওয়েচাং মহাকাশ উৎক্ষেপন কেন্দ্র থেকে লং মার্চ ফাইভবি নামের রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করেছে। যা ২০২২ সালের মধ্যেই কাজ করা শুরু করবে বলে আশাবাদী চীন।
এতোক্ষন জুড়ে যে তিয়েনহে নিয়ে আলোচনা হলো মূলত এটি নতু্ন তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের মূল অংশ। তাই আমরা আশা করতেই পারি আগামী ২০২২ সালের মাঝেই আমরা বিশ্ববাসী নতুন মহাকাশ স্টেশন দেখতে চলেছি।

মহাকাশ স্টেশনগুলোর কখনো কি কার্যক্ষমতা হারিয়ে যায়?
এ প্রশ্নটির এক কথায় উত্তর দিতে গেলে বলতে হবে জ্বি অবশ্যই।বর্তমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটির অবসর নেওয়ার কথা ২০২৪ সালে অর্থাৎ ঐ বছরেই এটির কার্যক্ষমতা ফুরিয়ে যাবে।

মহাকাশে মহাকাশচারীরা নিজেদের ওজনহীন মনে করে কেন?
প্রথমত মহাকাশ্চারীরা ওজনহীন নয়। তারা মহাকাশে নিজেদের ওজনহীন মনে করেন। মূল কারন হলো, মহাকাশে অভিকর্ষজ বল নেই। পৃথিবীতে অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে ওজন অনুভুত হয় সকল ভরযুক্ত বস্তুর। পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ ৯.৮মি।/সে২ । এই অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রভাবে পৃথিবীতে বল অনুভূত হয় এবং ভরও অনুভূত হয়। মহাকাশচারীদের ভর ঠিকই থাকে কিন্তু অভিকর্ষজ ত্বরণ ০ বা ০ এর কাছাকাছি হওয়ার কারনে তার ভরও ০ অনুভূত হয়। ভর অনুভব হবার জন্য যে অভিকর্ষজ ত্বরণ অতোপ্রতভাবে জড়িত, সেই ত্বরণের অনুপস্থিতে তাদের ভরও শুণ্য মনে হয় এবং তারা ভাসতে থাকে। মহাকাশে কেও পতিত হয় না।

মহাকাশ স্টেশন চালানোর শক্তি কোথা থেকে আসে?
এই স্টেশন চলার শক্তি শুধুমাত্র সেই যোগান দিতে পারবে যার নিজের শক্তি অসীম এবং তা শেষ হবার ভয় নেই। মহাকাশ স্টেশনের শক্তির যোগান দেয় সূর্য। স্টেশনের দুইপাশে দুইটি পাখার মতো সোলার প্যানেল লাগানো থাকে যেগুলোকে দেখতে পাখা মনে হলেও আসলে এগুলো সৌরকোষের সমষ্টি।

মহাকাশ স্টেশনগুলোকে কি কাজে ব্যবহার করা হয়?
নাসা এই মহাকাশ স্টেশনগুলোকে মূলত তিন ধরণের কাজে ব্যাবহার করে।
১। মহাকাশ যাত্রীদের বসবাসের জন্য। এক একটি স্টেশনে ৬ জন করে মহাকাশ যাত্রী বসবাস করতে পারে।
২। মহাকাশ কেন্দ্রে যারা যান যদিও তাদের মহাকাশ যাত্রী বলা হয় কিন্তু তাই বলে তারা কিন্তু কেউ সাধারণ যাত্রী নন। তারা প্রত্যেকেই মহাকাশ বিজ্ঞানী! যারা মহাকাশে বসবাস করে যার যার গবেষণাগারে মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। যে গবেষণা পৃথিবীতে বসে করা সম্ভব না।
৩। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, নাসা মহাকাশের আরও অজানা অংশকে জানার জন্য মহাকাশের আরও গভীরে মানুষ পাঠাতে চায়। এই স্টেশনগুলো সেই অর্থে অপেক্ষার স্থান না হলেও এখানে যারা বসবাস করে তারা অজানা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে একটি যোগাযোগ সেতু তৈরির কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

Check Also

এক্সটেন্ডেড র‌্যাম এর স্মার্টফোন: ভিভো ভি২১, ভি২১ই, ওয়াই৫৩এস

খবর বিজ্ঞপ্তিরঃ ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২১: স্মার্টফোনের ব্যস্ততা বেড়েছে অনেক। কথা আর বার্তা আদান-প্রদান, ফটো-ভিডিও’র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − seven =