সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / গাইবান্ধার খবর / মহিমাগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের ভয়ে প্রতিদিন বন্ধ থাকছে ঔষধ ও চাউলের দোকান

মহিমাগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের ভয়ে প্রতিদিন বন্ধ থাকছে ঔষধ ও চাউলের দোকান

মনজুর হাবীব মনজু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি :ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবরে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘসময় ধরে মহিমাগঞ্জ বাজারের চাউল ও ঔষধের দোকান বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানকার হাজার হাজার মানুষ। বর্তমান সময়ের আলোচিত করোনা ভাইরাসের অজুহাতে গাইবান্ধার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত উপজেলার মহিমাগঞ্জ বাজারে গত কয়েকদিন ধরে ঔষধের দোকানের পাশাপাশি চাউলের দোকান বন্ধ রাখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এর ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়ন ছাড়াও পাশর্^বর্তী সাঘাটা উপজেলার তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কোন কারণ ছাড়াই বেশী দামে চাউল বিক্রি করায় ম্যাজিস্ট্রেট এসে জরিমানা করবেন- এমন ভয়ে দোকানীরা চাউলের দোকান বন্ধ রাখছেন বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। আর করোনা পরিস্খিতির অনেক আগে থেকেই ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানের উড়োখবরে এ বাজারের অর্ধশতাধিক ঔষধের দোকান মাঝে মাঝেই সারা দিন ধরে বন্ধ করে রাখেন দোকানীরা। এতে প্রয়োজনের সময় ঔষধ কিনতে না পেরে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীসহ সর্বস্তরের মানুষ। অসাধু এ ব্যবসায়ীদের হাতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, গত চার-পাঁচ দিন ধরে মহিমাগঞ্জের চাউলের বাজারে করোনা ভাইরাসের অজুহাতে চা প্রতিকেজি উলের দাম চার থেকে আট টাকা পর্যন্ত বেশী দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে গ্রাহকরা দাম বেশীর কারণ জানতে চাইলে গ্রাহক চাহিদার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানান। ম্যাজিস্ট্রেট এসে জরিমানা করতে পারেন, এ ভয়ে তারা দোকান বন্ধ করে গত কয়েকদিন ধরেই দিনের অধিকাংশ সময়ই দোকান বন্ধ করে রাখছেন তারা। অন্যদিকে মাঝে মাঝেই মহিমাগঞ্জ বাজারের ঔষধের দোকানগুলো ম্যাজিস্ট্রেট আতংকে বন্ধ করে পালিয়ে থাকেন দোকানীরা বলে এলাকাবাসী জানান। অধিকাংশ দোকানের ড্রাগ লাইসেন্স না থাকায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের দোকানীরা মোবাইল ফোনে ‘ম্যাজিস্ট্রেট আসার’ খবর দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সকল ফার্মেসী বন্ধ হয়ে যায় কলে অভিযোগ আছে। চাউলের কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আসার সম্ভাবনা বাড়ায় প্রায় প্রতিদিনই সারাদিন ধরে বন্ধ থাকছে এখানকার অর্ধশতাধিক ফার্মেসী। এর ফলে বিশাল এ জনপদের হাজার হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন এই অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে।
এলাকাবাসী অসাধু এ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

Check Also

রংপুর চিনিকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবীতে মহিমাগঞ্জে ওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মনজুর হাবীব মনজু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধা জেলার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারিশিল্প কারখানা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − 3 =