সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / রাজধানী ঘিরে ফেলেছে ভারতীয় কৃষক: বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লীর রাজপথ

রাজধানী ঘিরে ফেলেছে ভারতীয় কৃষক: বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লীর রাজপথ

সরকারের পক্ষ থেকে আসা ‘শর্তাধীন আলোচনার প্রস্তাব’ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের কৃষকরা। আন্দোলনকারী কৃষকরা বলছে, “সরকারের কোনও শর্তই আমরা মানবো না। আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হলে বিনা শর্তেই বসতে হবে। না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে। পাঁচ দিক থেকে দিল্লি ঘিরে এভাবেই বসে থাকবো আমরা। কৃষি আইন বাতিল না হলে আমাদের অবরোধও উঠবে না।”

উল্লেখ্য, গত (২৯ নভেম্বর) শনিবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, সরকারের নির্ধারিত সমাবেশ স্থলে গেলেই কেবল কৃষকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসবে কেন্দ্র।

এদিকে রবিবার পঞ্চম দিনেও বিজেপি সরকার বিরোধী কৃষক আন্দোলনে একইরকম উত্তাল রয়েছে রাজধানী দিল্লির চারপাশ। আন্দোলনরত কৃষকরা কার্যত দিল্লি ঘিরে ফেলেছে। রাজধানীতে ঢোকার যে পাঁচটি প্রধান রাস্তা আছে; তার মধ্যে দুইটি পুরোপুরি এবং একটি আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বাকি দুই ঢোকার রাস্তাতেও কৃষক জমায়েত হয়েছে।

গত পাঁচদিন ধরে তারা দিল্লিতে আসার চেষ্টা করছে। পুলিশের অবরোধ, লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান অগ্রাহ্য করে তারা দিল্লির সীমান্তে চলে এসেছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্য থেকে আরও অসংখ্য কৃষক লরি-ট্রাক-টেম্পোয় চেপে আসছেন বলে খবর মিলেছে।

কৃষকরা বলছে, এই কৃষিনীতি তাদেরকে কর্পোরেট দাসে রূপান্তরিত করবে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের আরএসএস-বিজেপি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী, কৃষকবিরোধী পদক্ষেপে সারা দেশে কৃষক অসন্তোষের আগুন জ্বলছিলো আগে থেকেই। কিন্তু গত কয়েক মাসে সারা ভারত কৃষকসভা-সহ অল ইন্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির মতো কৃষক সংগঠনগুলির ধারাবাহিক প্রচারে দেশের কৃষক আন্দোলনে নজিরবিহীন ঐক্য গড়ে ওঠে।

গত ২৬ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের দিন থেকে ৫০০টিরও বেশি সংগঠনের নেতৃত্বে শুরু হয়ে গিয়েছে কৃষকের “দিল্লি চলো” আন্দোলন। শ্রমিক সহ দেশের অন্যান্য অংশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে দিল্লির বুকে এভাবে বৃহত্তম কৃষক আন্দোলন আছড়ে পড়ায় কেন্দ্রের সব হিসাব উলটে গিয়েছে।

রবিবারও সারা দিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় সড়ক ধরে দিল্লি আসছেন হাজার হাজার কৃষক। দিল্লির সীমান্তে ঢল নামছে আরও কৃষকের। নারেলার কাছে দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় এদিনও পুলিশের ব্যারিকেড উপড়ে ফেলে রাজধানীতে ঢুকে পড়েন বহু কৃষক। ট্রাক্টর, ট্রাক, মোটরসাইকেলে চেপে এবং পায়ে হেঁটে রীতিমতো মোদী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে দিল্লি ঢুকতে দেখা যায় তাঁদের।

গত পাঁচদিন ধরে এভাবেই পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ চালিয়ে দিল্লি আসছে কৃষকের স্রোত। সীমান্ত সিল করে, রাস্তায় রাস্তায় কংক্রিটের ব্যারিকেড গড়ে, লাঠি চালিয়ে জলকামান ছুঁড়ে তাঁদের ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়েছিলো বিজেপি’র সরকার। কিন্তু আন্দোলনকারীদের প্রবল জেদের মুখে তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়েছে সরকারের সব প্রতিরোধ। হরিয়ানায় কৃষকরা পুলিশের ব্যারিকেড তুলে নদীতে ফেলে দিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলকামানের গাড়িতে উঠে জলস্রোতের মুখ ঘুরিয়ে দিতেও দেখা গিয়েছে এক তরুণ কৃষককে। পুলিশের ছোঁড়া টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটার আগেই অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় তা পুলিশের মাঝেই পাঠিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে প্রৌঢ় কৃষককে।

কৃষকের নজিরবিহীন আন্দোলনে সরকারি দমনপীড়নের প্রবল সমালোচনা করে এদিন এক বিবৃতিতে এআইকেএসসিসি বলেছে, “কৃষকসমাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে এখনই নিঃশর্তে আলোচনায় বসুক কেন্দ্র। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক অথবা গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে আলোচনায় বসার চেষ্টা ছাড়তে হবে সরকারকে। সংসদে গায়ের জোরে কৃষি আইন পাশ করানো হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে শীর্ষ রাজনৈতিক স্তরে। তাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে হবে কেন্দ্রীয় এবং সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীদেরই। সরকারের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেই একমাত্র কথা বলবেন আন্দোলনকারীরা।”

দেশের ২২০টিরও বেশি কৃষক-খেতমজুর সংগঠনকে নিয়ে গঠিত এআইকেএসসিসি’র মধ্যে রয়েছে সারা ভারত কৃষকসভা, সারা ভারত খেতমজুর সমিতির মতো বামপন্থী সংগঠনগুলিও।

চলতি কৃষক আন্দোলনকে আরও ব্যাপক করার আহ্বান জানিয়ে এআইকেএসসিসি’র ওয়ার্কিং গ্রুপ এদিন বলেছে, আরও অনেক কৃষক-খেতমজুরকে রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে আসতে হবে। দেশের সমস্ত কৃষক সংগঠনগুলিকে অবিলম্বে এই উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, সারা দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে আগামী ১ ডিসেম্বর কর্পোরেট-বিরোধী এবং কৃষকের প্রতি বন্ধুমনোভাবাপন্ন সমস্ত মানুষকে সমবেত করে রাজ্য পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিতে হবে।

একইসঙ্গে চলমান কৃষক আন্দোলনে সংহতি জানাতে আগামী ২ ডিসেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর সারা দেশে যৌথ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘ভূমি অধিকার আন্দোলন’।

Check Also

ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্টের পর এবার বন্ধ হল ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেল

ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্টের পর এবার বন্ধ হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেল। মঙ্গলবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + 13 =