সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / জাতীয় /  রুহুল আমিন শান্ত’র লেখা ‘একজন ভালো মানুষ সত্য সাহা’

 রুহুল আমিন শান্ত’র লেখা ‘একজন ভালো মানুষ সত্য সাহা’

 রুহুল আমিন শান্ত'র লেখা 'একজন ভালো মানুষ সত্য সাহা'
বাঙালি বার্তা

মানুষ শব্দটি ‘মনুষ্য’ শব্দের অপভ্রংশ হিসেবে এসেছে। ইংরেজি Man, জার্মান Mann ও Mensch, আবেস্তান Manu ইত্যাদি সব শব্দ একই উৎসসম্ভূত।  শব্দগুলোর মতোই যেন মানুষের নানান রূপ।

মানুষকে নিয়ে কবির ভাষায়,
‘কেউ সুখী আবার কেউবা দুখী
এই জীবনের তরে,
কেউ বা করে দুঃখকে বরণ
ক্ষমতাসীনের ডরে!’

তো আজ শুধু মানুষ না, কথা বলবো একজন ভালো মানুষ কে নিয়ে।

“ভালো মানুষ” মানে আসলে কেমন মানুষকে বোঝায়? আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের স্বল্পজ্ঞানের ভিত্তিতে  এই প্রশ্নের বাস্তবিক উত্তর খুঁজতেই আজ লিখতে বসা……

 কেউ হয়ত বলবে “আপনি আবার কি এমন ভালো মানুষ হয়ে গেলেন যে, ভালো মানুষের সংজ্ঞাই লিখতে শুরু করলেন! আসলে “যার মানসিকতা যেমন, আমিও তার কাছে তেমন”।আমি কেমন মানুষ সেটা সঠিকভাবে আমার জানার কথা না, তাই এই ব্যাপারে কিছু বলতে পারছিনা। লিখার জন্য নিজের ভেতর একটা তাড়নার সৃষ্টি হয়েছে, তাই লিখতে বসলাম….

বলে রাখি আজকালকার সমাজে  ভালো মানুষের বিশেষ মূল্য নেই, এ কথা মোটামুটি সর্বজনবিদিত। যে কোন ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হয় কেবল যেন ভালো মানুষ হবার অপরাধে। অন্যের কাছে ঠকতে হয় বারবার, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ভুগতে হয় অশান্তিতে, সাদরে ব্যর্থতাকে বরণ করে নিয়ে ধুঁকতে হয় হতাশায়।

আজকের দিনের আদর্শ মানুষের পরিমান আমার ঠিক জানা নাই।ছোট্টবেলার সেই কেজি স্কুলের বইতে অনেক আদর্শ মানুষের গল্প পড়েছি যারা শুধুই জনসেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। নিজের কথা কখনোই ভাবে নাই। কখনোই ব্যক্তিস্বার্থের জন্য কিছু করে নাই। এমন গল্প শুনেই তো বড় হয়েছি।

কিন্তু বড় হয়ে আজ বাস্তব জীবনে গল্পের সেই আদর্শ মানুষগুলির মত কাউকে আর খুঁজে পাইনা।কারো একদিক ভালো তো অন্যদিকে লালসার দুর্গন্ধে ভরা। আপাত দৃষ্টিতে ভালো মানুষ মনে হলেও একটু পরেই দেখা যায় মোটেও ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধে নয় বরং নিজ স্বার্থের জন্যই সব কিছু করে এরা। মানুষের বিচারে ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়ার কথা ভাবে না,বরং তৎক্ষনাৎ নগদ সনদ প্রাপ্তি আর পদোন্নতির কথা নিয়ে ব্যস্ত এরা।
এদের বাছ বিচারে ২ লাইন পঙক্তি,
‘এদিকে ওদিকে কতো মানুষের
শুভেচ্ছা ব্যানার আর ফেস্টুনে
অথচ, নিজের স্বার্থেই পাগল সে জন
মেজাজ দেখায় তাঁর নাম গুণে।’

বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ, বাঙালি জাতির সাথে দেশের কর্ণধার মানুষেরা আগাগোড়াই যেন বেইমানি করে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে কোনো আদর্শ মানুষের ইতিহাস রচিত হচ্ছে না, বরং বিকৃত হচ্ছে ভুলে ভরায়।চকচক করিয়ে সোনা চেনানো হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে। শুধুমাত্র আত্মস্বীকৃতি,নিজের উচ্চবিলাসিতা,পদ -পদবি টিকিয়ে রাখতে দেশের ধারক বাহকেরা নোংরা ভাষায় কাদা ছোড়া ছুড়ি করে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে চর দখলের মত গায়ের জোরে পদ পদবির দখলের লড়াই এ বলি দিয়ে যাচ্ছে নিজেদের মানবিক মনুষ্যত্বকে।

অনেকে রাজনীতিবিদদের টিকে থাকার জন্য কুকীর্তি পেশা বলে, কিন্তু কেন?  রাজনীতি তো বঙ্গবন্ধুও করেছেন। সেকথা না হয় বাদ দিলাম, কিন্তু রাজনীতিবিদরা  ছাড়াও সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য মূল্যবোধ , অহমিকা জলাঞ্জলি দিয়ে শিক্ষিত শ্রেণি জড়িয়ে পরেছে নোংরা মনুষত্ব্যে। সেখানে বাদ নেই ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী মানুষ, বা ঘরের গৃহবধূ কেউই।

লেজুড়বৃত্তি করলেই অর্থনীতিবিদ হয়ে যাচ্ছে কোনো কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান , সরকারী ব্যাঙ্কের গভর্নর, মন্ত্রী , এম,পি। অশিক্ষিত গোর খোদক হয়ে যায় টপ লেভেলের বিজনেস টাইকুন , বট তলার সাধারণ উকিল হয়ে যায় ফুলমন্ত্রী,দু এক বছরেই হয়ে যায় হাজার কোটি টাকার মালিক।

এত নোংরামি, লোভ লালসা, গুম খুন মনুষত্বের রাজনীতির ভিতরেও এখনো দেশে কিছু ভালো মানুষ বাস করে। এরা নিতান্তই সাধারণ কিন্তু আত্ম মহিমায় সরল মনুষত্বের আলোকিত মানুষ।

আমার জানা এমনি একজন ভালো মানুষ সত্য সাহা, যিনি বর্তামানে ঢাকার ধামরাইয়ে বসবাসরত। সৃষ্টিকর্তা যেন আপন মহিমায় পাহাড় সমান ধৈর্য দিয়ে গড়েছেন মহৎ,নিরঅহংকার এই মানুষটাকে। ৭১ এর ২৫ শে মার্চ সেই কালোরাত্রিতে পাক হানাদারদের হিংস্র নজড়ে রক্ষা পায়নি তার কাছের মানুষগুলো,সেদিন একযোগে হারিয়ে ফেলেন তাঁর মমতাময়ী মা,বাবা,ভাই বোন পরিবার সহ ২৬ জন আত্নীয়স্বজন।

তিনি পেশায় বাংলাদেশের একজন সচিব হয়েও খুব সাধারণ একজন মানুষ,যার জীবন যাপনে অভ্যস্ত।  অফিসের কাজে শার্ট-প্যান্ট তাকে  বড় যন্ত্রণা দেয়,হয়তো এটাই তার বিলাশিতা ভাব। কিন্তু ঘরে ফিরে লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে চাপলেই তার রাজ্যের স্বস্তি। নিতান্তই সাধারণ নির্লিপ্ত এক জীবন। এই মানুষটির বর্ণহীন সময়ের গল্প শুনে আপনি আমি রসিকতা নিয়ে ভ্রু কুচকে বলতেই পারি, এটাও কি তবে জীবন??যেখানে পায়রার গল্পে বাকবাকুম নেই!!
সত্যিই তাকে কাছে থেকে না দেখলে বোঝার উপায় নেই কতোটা সাধারণ তিনি।

তাঁর জীবন শুধু ত্যাগ মহিমায় ভরা,জীবনের এই নাট্যমঞ্চে যেন শুধুই নির্বাক এক বোবা দর্শক তিনি।আমি বলতে পারি  মহৎ নিরহংকার এই মানুষটির অতীত অনুসন্ধানে যদি আপনি নিষ্কর্মা সময়ে চায়ে চুমুক দিয়ে তার জীবনের গল্পের লেজ ধরে টান দিতে যান, আপনি যদি তত্ত্ব-তালাশ করেন তাঁর সাধারন জীবন যাপনের, তখন গল্পহীন এই মানুষটিও গল্প হয়ে যাবে নীরব নিভৃতে। আপনার অন্তরের মনিকোঠায় তার আদর্শ রয়ে যাবে সর্বক্ষণ।

মানুষটা পরোপকারী। অন্যের প্রয়োজনে নিজেকে সর্বোচ্চ বিলিয়ে দিবে কিন্ত বিনিময়ে নিজের কোনো চাহিদা নেই। মানুষটা পরিশ্রমী কিন্তু তা কোনো স্বার্থান্বেষী লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নয়, তিনি পরিশ্রমী কারণ পরিশ্রমই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, পদোন্নতি বা লালসাবৃত্তি নয়।

সমাজ এইসব মানুষদের ভালো করে চিনে না কারণ তাঁদের একটাই দোষ তারা ভালো মানুষ,ভালো মনুষত্বের মানুষ। এদের কেউ লাল গালিচা সম্ভর্ধনা দেয়না। পয়সা দিয়ে এরা টেলিভিশনের টকশোতে যায়না বলেই এদের কেউ উত্তরীয় পড়িয়ে দেয়না টেলিভিশনের পর্দায়, তেলমারা কথা বলেনা দেখে এদের কথা বলতেও খুব আহবান করেনা কেউ।কর্মক্ষেত্রে হয়না তাঁদেরই পদোন্নতি।কারন করেনা তাঁরা তোষামোদ।

এই হলো আমার মতে সরল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ভাল একজন মানুষ। এই লেখা নিয়ে আপনার কোন মতামত বা সমালোচনা থাকলে নির্দিধায় জানাতে পারেন। সবশেষে আমি আমাকে সহ সবাইকে চন্ডীদাসের সেই কথা বলে শেষ করবো……”সবার উপরে মানুৃষ সত্য তাহার উপরে নাই”

“চলুন আমরা মানুষ হবার চেষ্টায়, ভালো মানুষ হই”

লেখা আহ্বান-সাবরা খান
সভাপতি,জার্মান আওয়ামি স্বেচ্ছাসেবকলীগ।
লেখক-রুহুল আমিন শান্ত
সোনাতলা,বগুড়া।

Check Also

অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ এর ১০ম অধিবেশন

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ “আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুব নেতৃত্ব” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =