সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / লাল সবুজ বাংলাদেশের অর্জন ও অমিত সম্ভাবনা – ইকবাল কবির লেমন

লাল সবুজ বাংলাদেশের অর্জন ও অমিত সম্ভাবনা – ইকবাল কবির লেমন

একটি ইতিহাস, একটি গর্ব আর একটি প্রত্যয়ের নাম বাংলাদেশ। বাঙালি অধ্যুষিত এই জনপদের মানুষ দ্রোহ-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করেছে পৃথিবীর অন্যান্য জাতিস্বত্বা থেকে। বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সময়ে, কালপরিক্রমায় বাঙালিরা তাদের শৌর্য-বীর্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ দিয়ে ধাপে ধাপে অর্জন করেছে সুমহান সব প্রাপ্তি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তেজোদীপ্ত ভূমিকায় অবতীর্ণ বীর বাঙালিরাই মায়ের মুখের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে অর্বাচীনদের বিরুদ্ধে গড়ে তোলে ভাষার আন্দোলন। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে প্রিয় বাংলা ভাষা। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে সেই ভাষাতে ভাষণ দিয়ে ভাষাটির ভিতকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন আমাদের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটেন, আমেরিকা,জাপান,জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,ফ্রান্স,রাশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজ বাংলা ভাষা নিয়ে হচ্ছে গবেষণা। ইংরেজি, চীনা ও জাপানী ভাষার পর বাংলা ভাষা নিয়ে বিশ্বের আগ্রহ বাড়ছে। ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রæয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা বাংলা ভাষা তথা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন।
বাংলা ভাষা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাঙালির রাজনৈতিক চেতনা আরও সমৃদ্ধ হয়। বাঙালি প্রতিবাদী হয়ে ওঠে সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ২৫ বছরের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে লাল সবুজ পতাকার প্রিয় বাংলাদেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের অর্জন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিরত্বগাঁথা বীরের জাতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্œত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে। অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ৪৩ তম। বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার আজ ৮৮ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে। বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৮১০ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৪ শতাংশ। বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু। বিশ্বের ১১ তম দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ ও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে প্রমাণিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন, বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মেট্রোরেল প্রকল্প, উড়াল সড়ক প্রকল্প, ৪ লেন সড়ক প্রকল্প ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য আজ কোন স্বপ্ন নয়। এদেশের আমদানিনির্ভরতা কমে বেড়েছে রপ্তানি আয়, বেড়েছে রেমিটেন্স। দেশের বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এর ফলে কমছে মানুষের রাজধানী ও শহরবিমুখতা,কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে সমগ্র দেশে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য,নারী ও শিশু উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন,তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, শিল্প-বাণিজ্য , সামাজিক নিরাপত্তা খাত ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অর্জন আশাব্যঞ্জক। সমুদ্রসীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশের সীমানা। মিয়ানমার ও ভারতের সাথে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ সীমানা মিমাংসার পর বর্তমানে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার টেরিটোরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্রগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সবধরণের প্রাণিজ,অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমুদ্রে ভারতের দাবীকৃত ১০ টি বøকের সবকটি পেয়েছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বে আধিপত্য ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। একসময় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় থাকা দেশটির কমেছে দুর্নীতি, সর্বত্র কায়েম হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। বাংলাদেশের আইনী কাঠামো হয়েছে শক্তিশালী,প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইনের শাসন। ই-গভর্ণমেন্ট ও মানব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অর্জন চোখে পড়ার মতো।
রূপকল্প ২০২১ এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। রূপকল্প ২০৪১ এর সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ হবে শতভাগ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ।
মেধাসম্পন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে সরকার। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে বাংলাদেশের শতভাগ শিশু, দূর হবে অপুষ্টিজনিত সমস্যা,যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। ভবিষ্যতে প্রাচ্য-প্রাচিত্যের আকাশ যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র হবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। চিকিৎসাসেবায় গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবায় অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বিশ্ববাসীর কাছে। বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাতে সে সময় খুব দূরে নয় যখন বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তিতে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করবে। মাদক বর্তমান বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে অচিরেই বাংলাদেশ মাদকের রাহুগ্রাসমুক্ত হবে এমন আশাও জেগে উঠছে মানুষের মধ্যে।
সম্ভাবনার বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নদী দখলমুক্তকরণ ও নদী খনন কার্যক্রম। আগামী দিনে এর ফলে নদীকেন্দ্রীক অর্থনীতি জোরদার হবে বাংলাদেশের। দেশের সকল অঞ্চলে শিল্পায়ন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বিকেন্দ্রীকরণের অব্যাহত ধারায় পরিপুষ্ট হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, দূর হবে দারিদ্র। গ্রামগুলোকে শহরে পরিণত করার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্তে আগামী ১০ বছরে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য ঘুঁচে যাবে। গ্রামীণ মানুষও পাবে শহুরে মানুষের সম সুযোগ-সুবিধা। বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে অর্থনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে আসবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি।
বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে এমন আলোচনা আজ বিশ্বব্যাপী। আউটসোর্সিং খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এদেশে। বাংলাদেশের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন-সুন্দরবন,ঐতিহ্য-কৃষ্টিসম্বলিত স্থান ও পর্যটন ক্ষেত্রের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। ইলেক্ট্রনিক্স,অটোমোবাইল,কন্সট্রাকশন ও আবাসন খাতেও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
লালসবুজে আচ্ছাদিত বাঙালির স্বপ্ন আজ উন্নত দেশ হওয়ার, সে পথেই এগুচ্ছে বাংলাদেশ।

লেখক-আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক ও সম্পাদক বাঙালি বার্তা ডটকম

Check Also

বগুড়ায় দোকান খোলার দাবীতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ,বগুড়া প্রতিনিধি: লকডাউন ঘোষনার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার দাবীতে রাজপথে নেমেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =