সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল অবস্থা

শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল অবস্থা

মো.আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা চিকিৎসায় যুবলীগ নেতা সিরাজুলের মৃত্যুতে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্সহ তার স্বজনেরা। গত বুধবার দুপুর ২টায় উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল হককে অসুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে তার স্বজনেরা। তাকে ভর্তি করতে চাইলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডাক্তার নেই, দুপুরের খাবার খেতে বাসায় গেছেন। ওই সময় মেডিকেল অফিসার ডাঃ নুসরাত জাহান ডিউটিতে ছিলেন। বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল (ছিলিমপুর) এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। ঘন্টাধিককাল অতিবাহিত হওয়ার পরও কোন ডাক্তার সেখানে না আসায় বিনা চিকিৎসায় যুবলীগ নেতা সিরাজুল মারা যান। হাসপাতালের ইনচার্জকে মোবাইল ফোন করে জানালে বিষয়টি আমি দেখছি বলে ফোন কেটে দেন। রোগী মারা যাওয়ার দুই ঘন্টা পর ডাঃ নুসরাত জাহান সেখানে উপস্থিত হন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ তার আত্মীয় স্বজনেরা হাসপাতাল চত্ত¡রে বিক্ষোভ করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ মোঃ মোতারব হোসেন মৎস্য সপ্তাহের র‌্যালীতে অংশগ্রহণের জন্য শাজাহানপুর উপজেলা চত্ত¡রে আসেন। তাকে দেখে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ আবারও বিক্ষোভ করে ও মারার জন্য উদ্দত হয়। এমতাবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় ও উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি সামলাতে চেয়ারম্যানের কক্ষে তাকে নিয়ে যান। এ বিষয়ে ডিউটি ডাঃ নুসরাত জাহান বলেন, আমি দুপুরের খাবার খেতে ও ছোট বাচ্চাকে দেখতে বাসায় গিয়েছিলাম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডাঃ মোতারব হোসেন জানান, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তাই কোন বক্তব্য দিতে পারবেন না। উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হবে। উল্লেখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠে আসে হাসপাতালের অতীত বর্তমানের নানা চিত্র। সময়মত ডাক্তার না থাকা, থাকলেও কর্তব্যে অবহেলা, ইনডোর-আউটডোর রোগী ও তার স্বজনদের সাথে অসদাচরণ, খাবারের নিম্নমান, সময়মত খাবার পরিবেশন না করা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কর্মরত ডাক্তার, নার্স ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ সার্বক্ষণিক মোবাইল ও ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ। অভিযোগে আরো সুস্পষ্ট হয় যে, কোন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে এলে নাম ঠিকানা শুনে ভালাভাবে না দেখেই বলা হয় যে, এখানে ডাক্তার নেই, শহীদ জিয়া মেডিকেল অথবা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিতে হবে বলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
চলতি মাসের প্রথম দিকে উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের মাসিন্দা গ্রামের জনৈক হোসনেয়ারা জানান, মায়ের চিকিৎসার জন্য শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। দুইদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও সেখানে কোন ডাক্তার না আসায় তার মা বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে নার্স পরিচয়ধারী একজন এসে তার মাকে অন্যত্র নেয়ার কথা বলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে মানিকদিপা গ্রামের জনৈক গৃহবধু চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তার না থাকার কারণে মারা যান। এতে রোগীর স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই রাতেই হাসপাতালের ইনচার্জ, ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা তাদের শান্তনা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ধরণের ডাক্তার-কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী সহ হাসপাতালটিকে কলুষমুক্ত করে সু-চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Check Also

রোটারী ক্লাব অব বগুড়ার উদ্যোগে বগুড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিত

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ,বগুড়া প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় যথাযত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × three =