সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / শিবগঞ্জের হাবীবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৬৬ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি অনিশ্চিত

শিবগঞ্জের হাবীবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৬৬ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি অনিশ্চিত

আব্দুর রাজ্জাক: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার হাবিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৬ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টাকা পেতে শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার ধরনা দিলেও কোনো সুরাহা হয় নি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ মে শনিবার দুপুরে শিবগঞ্জের বড়িয়াহাট এলাকায় অবস্থিত হাবিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কলেজ গেইটে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীদেরকে হৈচৈ করতে দেখা যায়। তাদের মুখ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় তাদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে চিনতে পেরে কাছে এসে সালাম জানিয়ে তাদের মনের আক্ষেপ প্রকাশ করেন। ২০/ ২৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলনেতা হাবিবুল ইসলাম জানায়, তারা সকলেই হাবিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ২০২১ সালে অনুষ্ঠিতব‍্য এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী। ওই বৎসরে ২১২জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তারা ৬৬ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য মনোনীত হয়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পেতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কথামত প‍্রত‍্যেক শিক্ষার্থী স্ব-স্ব নামে ডাচবাংলা ব্যাংকিং একাউন্ট নিশ্চিত করে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রেরণের সময় অজ্ঞাত কারণে ডাচবাংলা ব্যাংকিং এ্যাকাউন্ট এর স্থলে রকেট ব্যাংকিং এ্যাকাউন্ট লিখে জমা দেন। ফলে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় অতিক্রম হলেও টাকা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট ধরনা দিয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, একাউন্ট কার্যক্রম, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রস্ততসহ উপবৃত্তির অন‍্যান‍্য কার্যক্রম সমাপ্ত করতে তাদের ১ থেকে দেড় হাজার, কাহারো কাহারো ২হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান। এর পরেও তাদের উপবৃত্তির টাকা পেতে তালবাহানা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কথা হয় হাবিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলীর সাথে। তিনি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা পেতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বলেন, সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নের সময় ভুলক্রমে ডাচবাংলা ব্যাংকিং এ্যাকাউন্ট এর স্থলে রকেট ব্যাংকিং একাউন্ট উল্লেখ করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আমি ভুল সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পুনরায় আবেদন জমা দিয়েছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে সংশোধনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ওই সময় ক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের অধ‍্যক্ষ তার কক্ষে ডেকে এনে এবিষয়ে বারবার বুঝানোর চেষ্টা করলেও কলেজের একাধিক অনিয়মের বিষয়ে কথা তোলে তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ফি নিয়ে রশিদ না দেওয়া, প্রশংসা পত্রসহ মার্কশিট প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানান বিষয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসময় অধ্যক্ষ শাজাহান আলী শিক্ষার্থীদের কে নানান আশ্বাস দিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। ওই সময় কলেজের অন্যান্য প্রভাষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ‍্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অবগত নন বলে জানান।

Check Also

সোনাতলায় বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় জনভোগান্তি চরমে

রবিউল ইসলাম শাকিলঃ বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলায় গত কয়েকদিন যাবৎ অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিড়ম্বনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

twelve + four =