সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / ফিচার সংবাদ / সাঘাটায় যমুনার চরে সবুজের সমারোহঃ কৃষকের মুখে হাসি

সাঘাটায় যমুনার চরে সবুজের সমারোহঃ কৃষকের মুখে হাসি

জয়নুল আবেদীন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ যমুনার বুক চিরে জেগে ওঠা চরে সবুজের সমারোহে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। নদীতে পানি না থাকালে নদীভিত্তিক জীবিকা নির্বাহকারীরা চরাঞ্চলের বালু,পলি ও দোআঁশ মাটিতে চাষাবাদ করে আলোর মূখ দেখছে। ফলে যমুনা নদী অববাহিকায় নতুন করে প্রাণের স্পন্দন ফিরে এসেছে। চরাঞ্চল জুড়ে সবুজের সমারোহে মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, গম,ভুট্রা,গাজর মরিচ,বেগুন,পিঁয়াজ,রসুন,কলা,বাদাম,চিনা আলু,টমেটো,ঢেঁড়স,ডালসহ নানা জাতের ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। যমুনা বালুচরে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন চরাঞ্চলের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ। চরাঞ্চলের উৎপাদিত মরিচ,বেগুন,ভ’ট্রা,বাদাম সহ অন্যান্য ফসল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছে। চরের কৃষকরা জানান,সরকারী সাহায্য সহযোগিতা পেলে এসব ফসল চাষাবাদে তারা আরও আগ্রহী হবেন। এই এলাকায় ফসল সংরক্ষানাগার না থাকার কারণে তারা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে মধ্যস্বত্ত¡ভোগারাই লাভবান হচ্ছে বেশী।সবজি সংরক্ষণ হিমাগার না থাকা এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দারস্থ হতে হচ্ছে কৃষকদের।
সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত পাতিলবাড়ী,গাড়ামারা,দীঘলকান্দি,হাটবাড়ী গুয়াবাড়ী হলদিয়া,নলছিয়া,কালুরপাড়া,কুমারপাড়া,গোবিন্দি,কানাইপাড়াসহ বিভিন্ন চরে গত রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,স্রোতস্বিনী যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে শুধুই সবুজের সমারোহ।
চরের বালু,পলি ও দো-আশঁ মাটিতে চাষাবাদ হয়েছে পিঁয়াজ,রসুন,গম,ভুট্টা, আলু,বেগুন,কুমড়া, লাউসহ নানা জাতের ফসল । কৃষকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেতের পরিচর্যা করে। কৃষকরা জানান,এক সময় দরিদ্রতার সাথে লড়াই করতো যমুনা চরের মানুষ। তখন এই অঞ্চলকে বলা হতো মঙ্গাপীরিত এলাকা। চরের পুরুষরা শহরে অথবা অন্য কোন জেলায় গিয়ে দিন মজুরের কাজ করে পরিবারসহ জীবিকা নির্বাহর করতো। চরে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় পাল্টে গেছে এখানকার মানুষের জীবন যাত্রা। চরের কোন মানুষকে আর জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোথাও গিয়ে দিনমজুরের কাজ করতে হয় না।প্রায় সারা বছরই চরে কোন না কোন ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। ফলে দরিদ্রতার সাথে লড়াই করা মানুষ গুলো এখন স্বাবলম্বী। কৃষক হবিমীর,ইসমাইল, মজিদ মিয়া, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল জলিল, জহুরুল ইসলাম, নইবকস, মিষ্টার মিয়া, ফজর আলী, ছায়দার রহমান, আজিজার রহমান, মনির মিয়াসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান,৭ বছর আগেও তারা অভাবের সাথে লড়াই করেছেন। যমুনার চরে চাষাবাদ করে এখন তারা স্বাবলম্বী। চরের জমিতে তারা শ্রম দিয়ে নানা জাতের ফসলের চাষাবাদ করছেন। চরের জমি পলিযুক্ত হওয়ায় অল্প খরচে বেশী ফসল উৎপাদন করতে পারে কৃষক। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে আগেরমতো কৃষকদের আর সমস্যা হয় না ফসল একটু বেশী হলেই জমি থেকেই, পাইকাররা এসে নিয়ে যায়। এই এলাকায় সংরক্ষণাগার হলে কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে বলে র্কষকদের দাবি। সাঘাটা উপজলা কৃষি অফিসার সাদেকুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় গম ৫৬০ হেক্টর,মরিচ ১৯০ হেক্টর, ভ’ট্র ৬৫০হেক্টর এবং ৪৫৫ সবজি হেক্টর চাষ করা ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে এর সিংহভাগই চরে । এছাড়াও চরে ইরি বোরোসহ বিভিন্ন জাতের ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে । চর নিয়ে নানা পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, আগামীতে যেন আরো উন্নত এবং বেশী ফসল উৎপাদন করতে পারে কৃষক এজন্য এবার চরে গমের প্রদর্শনী করা হয়েছে ।

Check Also

কুরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুর ডিজিটাল হাট

কুরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুর ডিজিটাল হাট

  বাঙালি বার্তা ডেস্কঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ খামারি ও ক্রেতাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =