সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / গাইবান্ধার খবর / সাঘাটায় যমুনার বিশাল চর জুড়ে সবুজের সমারোহ

সাঘাটায় যমুনার বিশাল চর জুড়ে সবুজের সমারোহ

জয়নুল আবেদীন , স্টাফ রিপোর্টারঃ দিনদিন পাল্টে যাচ্ছে যমুনা নদীর অবয়ব। নদী হারাচ্ছে তার বৈশিষ্ট। শুস্ক মৌসুমে যমুনার বুকে ইত:স্তত জেগে উঠা চরের অস্তিত্ব স্বাভাবিক মনে হলেও তা খানিকটা ভিন্ন রূপ পেয়েছে। স্রোতস্বিনী খরস্ত্রোতা যমুনা এখন যেন মরা খাল। ইতোমধ্যে নদীতে জেগে উঠা অনেক চরের বিস্তৃতি বাড়ার পাশা পাশি তা স্থায়ী চরের পরিনত হয়েছে।
গত বর্ষা মৌসুমেও এই চর গুলো পানিতে ঢুবে না যাওয়ায় চরবাসী সেখানে স্থায়ী বসতি গড়েছে। জনবসতীহীন দুর্গোম চরে এখন বসেছে প্রানের মেলা। মধ্য যমুনার চরে এখন দেখা মেলে চোখ ধাধানো বর্ণিল সবুজ ফসলের সরব উপস্থিতি। এর পাশাপাশি সাঘাটা উপজেলার অনেক কৃষক তাদের গরুগুলো চরাতে যমুনার এসব চরে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এসমস্ত কৃষকরা তাদের শত শত গরু-বাছুর যমুনা নদী সাঁতরিয়ে নিয়ে আসছেন এসব চরে। পলি মাটির আস্তরনে জেগে ওঠা ঘাস বিচালি খাইয়ে তারা গরুগুলোকে লালন করছে। এদিকে শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই প্রমত্তা যমুনার এমন বেহালদশা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে।
এক সময় চরের বালিয়াড়ি গুলো ক্রমশ আবাদী জমিতে পরিণত হয়েছে। আর এসব জমিতে এখন আবাদ হচ্ছে, নানা অর্থকরী ফসল। দেশী জাতের বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করা হয়েছে নদীর তলদেশ পর্যন্ত কাদা মাটিতে। চরের কৃষকরা তাদের শরীর ঘামানো পরিশ্রমে উৎপাদিত শস্য তুলছে, আবার অনেকেই শস্য বিক্রি করে অনেকই সংসারের অবস্থা পরিবর্তন করছেন। নব্যতাহ্রাস পেয়ে যমুনা নদীর বুকে চর জেগে ওঠায় যমুনা নদী এখন বেশ কয়েকটি চ্যানেলে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে শীর্ণ আর স্রোতহীন শান্ত এ নদী দেখে যমুনা নদীর প্রমত্তা রূপ কল্পনা করা কঠিন।
মধ্য যমুনার উত্তর দীঘলকান্দি চরের কৃষক আরমান আলী জানালেন, ক্রমশ এ চরটির দৈর্ঘ বাড়ছে। পলি পড়ে ফসল চাষে উপযোগী হচ্ছে তাদের এসব জমি। প্রায় ২৫ বছর আগে তাদের পূর্ব পুরুষের জমিতে তারা নতুন উদ্যমে চাষ শুরু করেছেন।
কৃষক আব্দুল মান্নান জানালেন, প্রথম দিকে তারা চরের জমিতে গম,ভুট্রা, মরিচ, পিঁয়াজ, কালাই,চিনা বাদাম ও তিলের চাষ করলেও এখন রিতিমতো বরো ধানের আবাদ করছেন। বর্তমানে উপজেলার সিপিগাড়ামারা থেকে গোবিন্দী পর্যন্ত যমুনা নদী জুড়ে ছোট বড় এমন অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। অধিকাংশ জমিতে চাষ হচ্ছে নানা ফসল। কিন্তু জেগে উঠা এই সকল জমির কোন পরিসংখ্যান কিংবা তথ্য স্থানীয় কৃষি দপ্তর গুলোতে নেয়। এমন কি এসমস্ত জমির ভোগ দখলকারীও জানে না তাদের জমি গুলো কোন মৌজার অর্ন্তগত।
পাতিলবাড়ি চরের পূর্ব পুরুষের স্মৃতি মাখা জমির আইলে বসে থাকা আশীতপর বৃদ্ধ কদম আলী জানালেন, তার কৈশরে এসব জমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছিল। কোনদিন জমি গুলো জেগে উঠবে তা তিনি ভাবেননি। কিন্তু যমুনা কয়েক বছর আগে থেকে তা জেগে উঠতে থাকে। জমি জেগে উঠায় তার কন্ঠে স্বস্তির ছোয়া থাকলেও যমুনার বেহাল দশা দেখে তিনি উৎকন্ঠিত।
তার মতে যমুনার নব্যতা অস্বাভাভিক হ্রাস পাওয়ার ফলে বিভিন্ন চ্যানেল দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মাঝ দিয়ে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। জেগে উঠা চরের দৈর্ঘ অন্তত ৯/১০ কিলোমিটার। আর চ্যানেল গুলোতে পানি রয়েছে মাত্র ১ কিলোমিটার এলাকায়। এ অবস্থা বজায় থাকলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে পুরো অঞ্চলেই চর জাগতে পারে। আর তা না হলে পুরো শুস্ক মৌসুমে পায়ে হেটেই পুরো নদী পার হওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Check Also

সাঘাটায় জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-মেয়ে আহত

জয়নুল আবেদীন,স্টাফ রিপোর্টারঃ জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা জাহিদুল ইসলাম (৫৫) ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + ten =