সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / সান্তাহার রেলওয়ে ষ্টেশনে শতাধিক ছিন্নমুল মানুষের ৩ বেলা খাওয়া ব্যবস্থা

সান্তাহার রেলওয়ে ষ্টেশনে শতাধিক ছিন্নমুল মানুষের ৩ বেলা খাওয়া ব্যবস্থা

মো: আবু বকর সিদ্দিক বক্কর, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বর্তমানে সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাসের মরণ থাবায় আবদ্ধ। ত করোনা ভাইরাসের আক্রমনের কারণে গত ২৪ মার্চ থেকে সারা দেশের ন্যায় বগুড়ার সান্তাহার জংশন শহরের অলিখিত লকডাউন শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন, বাসসহ সকল প্রকার দোকানপাট ফলে জনশূণ্য হয়ে পড়ে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা। ফলে স্টেশন থাকা ছিন্নমূল মানুষরা মহা বিপদে পড়ে যায়। এমতাবস্থায় সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম ডালিমের আহবানে আজিজুল হক রাজা নামের এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ছিন্নমুল ভাসমান মানুষদের ৩ বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনে থাকা ভাসমান মানুষরা ৩ বেলা খেয়ে বেঁচে আছে।
জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের মধ্যে প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহি রেলওয়ে জংশন স্টেশন সান্তাহার। কয়েকটি জেলার মোহনায় অবস্থিত এই স্টেশনটি। এই স্টেশনের আশেপাশে বাড়ি-ঘর হারানো মানুষ, ভিক্ষুক, অন্ধ, ফেরিওয়ালা, অসহায়, ঠিকানা বিহীন হতদরিদ্র, পাগলসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির ১ শতাধিক ছিন্নমূল ভাসমান মানুষরা বসবাস করে। তারা সারা দিনে ভিক্ষা করে কিংবা মানুষের বাড়িতে, হোটেলে কাজ করে এই স্টেশনে এসে কোন মতে রাত কাটাতো। যাদের মূল আয়ের উৎসই ছিলো ট্রেন, স্টেশনের আশেপাশের হোটেল ও বাসাবাড়ি। সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সব মানুষরা পড়ে মহাবিপদে। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটতে শুরু করলে স্টেশন মাষ্টার রেজাউল করিম ডালিমের আহবানে স্থানীয় এক রেল কর্মচারীর ছেলে, ব্যবসায়ী আজিজুল হক রাজার উদ্যোগে এই সব ভাসমান মানুষদের স্টেশনে ৩ বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। স্টেশনের ভোজনালয় হোটেল বন্ধ থাকায় সেখানকার কর্মচারীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ছিন্নমুল ভাসমানদের জন্য ৩ বেলা এই খাবার রান্না করে আসছেন। বর্তমানে সান্তাহার ও তার আশেপাশের অনেক বিত্তবানও এই ভাসমানদের ৩ বেলা খাওয়ানোর জন্য সামর্থ মতো সহযোগিতা প্রদান করছেন। যতদিন না সব কিছু স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন ভাসমানদের জন্য এই খাওয়ার ব্যবস্থার আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান আয়োজকরা। এছাড়াও এই সব ভাসমানদের মাস্ক দেওয়া হচ্ছে,যারা অসুস্থ্ তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে এবং করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। ছিন্নমুল মানুষ লিটন, কামাল, ছকিনা, আমেনাসহ অনেকেই জানান, আমরা ঠিকানাবিহীন অন্ধ, ভিক্ষুক ও অসহায় মানুষ। স্টেশনই আমাদের বাড়িঘর। এখানে এসে ৩ বেলা খাবার পাচ্ছি। মাষ্টার ডালিম, রাজা ভাই আমাদের খাওয়াচ্ছেন। মাষ্টার আর রাজা ভাই না থাকলে আমরা না খেয়ে মরে যেতাম।
ব্যবসায়ী আজিজুল হক রাজা বলেন, ট্রেন ও স্টেশনের আশেপাশের হোটেল, দোকান, বাসাবাড়িগুলো ছিলো এই সব মানুষদের আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু সবকিছু বন্ধ হওয়ার পর এই মানুষগুলো মহা বিপদে পড়ে যায়। তখন তাদের কথা চিন্তা করে প্রথমে আমি ১০ কেজি চাল ও কিছু ডাল দিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা শুরু করি। আমার খাওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষএগিয়ে আসছেন।
প্রধান উদ্যোক্তা ষ্টেশন মাষ্টার রেজাউল করিম ডালিম বলেন, প্রথমে রাজাকে আমি ছিন্নমুল মানুষকে খাওয়ানোর জন্য দায়িত্ব প্রদান করি। এবং স্টেশনের অন্যান্য কর্মচারীদের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে এই সব ভাসমান মানুষদের ৩ বেলা খাওয়ানোর চেষ্টা করছি। সকলের উচিত সামর্থ অনুযায়ী এই শ্রেণির মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানো। নিজস্ব ঠিকানা না থাকায় ভাসমান হওয়ার কারণে এই সব মানুষেরা সরকারের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সংকটময় সময়ে এই সব মানুষের পাশে সমাজের সকল বিত্তবান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন এমনটিই তিনি আশা করছেন।

Check Also

বগুড়ায় দুই দিনের কবি সম্মেলন

বগুড়ায় শুরু হয়েছে লেখক চক্রের দু’দিনের কবি সম্মেলন। শুক্রবার সকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সম্মেলনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + 18 =