সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / সারিয়াকান্দিতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে তৈরি ড্রামের ভেলায় পারাপার

সারিয়াকান্দিতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে তৈরি ড্রামের ভেলায় পারাপার

প্রতিনিধি, সারিয়াকান্দি বগুড়াঃ বগুড়া সারিয়াকান্দি কাজলা ইউনিয়নের জামথল-বেড়াপাঁচবাড়িয়া রাস্তাটি ভেঙে গেছে। গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি ড্রামের ভেলা দিয়ে পারাপার হচ্ছেন ৫ গ্রামের মানুষ। পারাপারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা।
কাজলা ইউনিয়নের অন্যতম পুরাতন বাজার শাহজালাল বাজার। বাজারটিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণা। ইউনিয়নের ৫ টি গ্রামের ৮ হাজার মানুষ জামথল-বেড়াপাঁচবাড়িয়া রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ইটের সোলিং করা রাস্তাটি কয়েকদিন আগে শাহজালাল বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে বেশ কিছু অংশে ভেঙে গেছে। ভাঙা অংশে পানি প্রবেশ করায় গ্রামবাসী তাদের নিজস্ব অর্থায়নে সেখানে পারাপারের জন্য বিশেষ ধরনের ড্রামের ভেলা নির্মাণ করেছেন। ভেলাটি ১০ টি টিনের ড্রাম এবং এর উপরে বাঁশের মাচা করে বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। দুইপাড়ে রশি টেনে রশিটি ভেলার সাথে বেঁধে রশি টেনে টেনে পথচারীরা চলাচল করছেন।
রাস্তাটি দিয়ে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার কৃষি যন্ত্রপাতি আনানেওয়া। বাজারটিতে এই রাস্তাটি দিয়ে পণ্য পরিবহনও আপাতত বন্ধ রয়েছে। অতীব প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য, যানবাহন ও বাজারের মালামাল নৌকাযোগে পারাপার করছেন পথচারীরা।
ভাঙা অংশের পূর্ব প্বার্শে রয়েছে জনবহুল জামথল, বালিজুরি, আনন্দবাজার, মির্জাপুর, নব্বইয়ের চর, উত্তর টেংরাকুড়া এবং দক্ষিণ বেড়াপাঁচবাড়িয়া গ্রাম। এসব গ্রামগুলোতে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের বেশিরভাগ লোকজন এই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করেন।
অপরদিকে রাস্তাটির ভাঙা অংশের পশ্চিম পার্শ্বে বেড়াপাঁচবাড়িয়া, টেংরাকুড়া এবং চরঘাগুয়া গ্রামের ৪ হাজার মানুষ এই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করেন। এই রাস্তা ছাড়া শাহজালাল বাজারে যাওয়ার আর অন্য কোন বিকল্প রাস্তা নেই ৩ টি গ্রামের মানুষের।
বেড়াপাঁচবাড়িয়া গ্রামের বেলাল মোল্লা বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে বাজারে সবসময় আমাদের যাতায়াত করতে হয়। গত কয়েকদিন ধরে রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা ড্রামের ভেলা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করি। সবাই মিলে দু’ একশ করে টাকা তুলে আমরা ১০ টি ড্রাম ক্রয় করি। আমাদের বাঁশঝাড় হতে বাঁশ কেটে ভাসমান এ ভেলাটি তৈরি করেছি।
ভেলা দিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা গেল কয়েজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের। তাদের মধ্যে কথা হয় লিমনের সাথে।
লিমন বলে, ‘আমি মাদারগন্জ এ জেড সরকারি কলেজে গিয়েছিলাম অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে। এই রাস্তা ছাড়া আমাদের কলেজে যাওয়ার আর অন্য কোন পথ নাই।’ ড্রামের তৈরি এ ভেলায় চড়তে আমাদের অনেক ভয় হয়। কখনো ছাত্রীরা পরেও যায়।
জামথল গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাসমান ড্রামের ভেলা তৈরি করতে আমিও গ্রামবাসীদের সহযোগিতা করেছি। রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা আমাদের গ্রামবাসীর প্রাণের দাবি।’
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘রাস্তাটি অনেকদিন ধরেই ভেঙে গেছে। এতে আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সিমাহীন কষ্টের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আমি গণমাধ্যমের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার চাই।’
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভেঙে যাওয়া রাস্তা সংস্কারের মাধ্যমে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

Check Also

সারিয়াকান্দির নয়া ইউএনও’র সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়

বগুড়ায় সারিয়াকান্দি উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − one =