সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / সাহিত্য-সংস্কৃতি / সুস্থতার জন্য এক ঘন্টা বিনিয়োগ–মোঃ হাবিবুর রহমান

সুস্থতার জন্য এক ঘন্টা বিনিয়োগ–মোঃ হাবিবুর রহমান

বয়স কি চল্লিশ পেরিয়েছে? হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি।
যে কর্মে নিশ্চিত লাভ, যাতে কোন ঝুঁকি নেই, দ্বিধা নেই নিশ্চিত মনে তাতে তো বিনিয়োগ করাই যায়। সারাদিনের মধ্যে সকালে হাঁটায় এক ঘন্টা সময় বিনিয়োগ করে দিনের অবশিষ্ট তেইশ ঘন্টা সুস্থ থাকা, সবল থাকা, সতেজ থাকার সুফল পাওয়া যায়- যা নিশ্চিত লাভ।
হাঁটা হচ্ছে সেই লাভজনক বিনিয়োগ যা সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম। প্রয়োজন শুধু প্রবল ইচ্ছা শক্তির।
সকালে ঘুম থেকে উঠে, বিছানাটা ছেড়ে ঘরের দরজা পেরিয়ে যেতে যতটা অনিচ্ছা, অবহেলা, অজুহাত আর কষ্টকর। এটুকু ত্যাগ স্বীকার করে ঘর হতে বেরিয়ে পরতে পারলেই প্রকৃতির শান্তও নির্মল সান্নিধ্যে আপনার ভাললাগার অনুভূতি আকাশচুম্বী।
বিশ্বাস হয় না?
বেরিয়ে পড়ুন সকাল সকাল, প্রমাণ আপনি নিজেই প্রত্যক্ষ করবেন। প্রথম প্রথম কয়দিন হালকা শরীর ব্যথ্যা করবে। তবে কিছুদিন গেলে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
প্রস্তুতি হিসেবে রাতের খাবার ৮টা থেকে ৯ টার মধ্যে শেষ করা, সকালে হাঁটার জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক, জুতা গুছিয়ে রাখা এবং রাত ১০টা থেকে ১০.৩০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া। ভাবছেন, এত তাড়াতাড়ি কিভাবে ঘুমাব? দিনের কিছু কাজ তো এখনও বাকী রয়ে গেল? কিন্তু না।
সকালে হাঁটাহাটির পর আপনি যে সময় পাবেন, সে সময়ে আপনার অবশিষ্ট কাজ নিশ্চিতমনে, একাগ্রচিত্তে করতে পারবেন। শুধু রাতে ঘুমানোর আগে আপনার সারাদিনের সঙ্গী পরম প্রিয় মোবাইল ফোনটি বিছানা থেকে দূরে রাখুন। বিছানায় যাওয়ার পর যত দ্রুত ঘুম আসে ততই মঙ্গল। প্রয়োজনে মোবাইল ফোনটি চার্জে রেখে ঘুম থেকে উঠার জন্য এলার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। তবে কয়েকদিন গেলে এলার্ম আর প্রয়োজন হবে না। আপনি এমনিতেই ঘুম থেকে জেগে উঠবেন। এটা আপনার অভ্যাসে রূপ নিবে।
নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে আপনার মন ও শরীর জুড়িয়ে যাবে, রিচার্জ হবে। সারাদিনের পরিশ্রম আর কাজের চাপ সামাল দিতে আপনি পাবেন বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য। আপনার কাজের সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
সবুজ বৃক্ষরাজি, খোলা মাঠ, পার্ক, উদ্যান, গার্ডেন, দীঘি বা পানির সন্নিকটবর্তী, লম্বাটানা ও পরিচ্ছন্ন রাস্তা হাঁটার জন্য উপযোগী।
ভাবছেন সঙ্গীর অভাব? একাকী হাঁটতে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না? কারো সাথে সঙ্গী হয়ে, জুটি বেঁধে, দলবেঁধে হাঁটতে পারলে ভাল হত।
হ্যাঁ, প্রতিবেশী, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব কাউকে এ যাত্রায় সাথে পেলে নিশ্চয়ই তা প্রেরণার। তবে না পেলেও অপেক্ষা করতে নেই।
আপনার ইচ্ছা শক্তিই আপনার প্রকৃত বন্ধু। আর ঘর থেকে বের হলে দেখবেন, অনেক মানুষ হাঁটছে।আপনিও তাদের সাথে যুক্ত হয়ে যান। দেখবেন, তখন আর একাকী মনে হবে না। অন্যরা পারলে আমি কেন পারব না, আমিও নিশ্চয়ই পারব। এমন একটা মনোভাব নিজের মধ্যে তৈরী হবে।
আপনমনে কেউবা হাঁটছে, কেউবা দৌঁড়াচ্ছে, দলবদ্ধ হয়ে কমাণ্ডের তালে তালে গ্রুপে গ্রুপে কেউবা ব্যায়াম করছে। শতায়ু অঙ্গন, সকালের সাথী, সবুজ চত্বর, নির্মল আঙিনা, বা অনুরূপ নামে একাধিক গ্রুপের সদস্যদের দেখা পাওয়া যায়। সকালে হাঁটা, ব্যয়াম বা শরীর চর্চার নানাবিধ উপকারিতা নিয়ে থিম, স্লোগান, প্রতিপাদ্য চোখে পড়বে। আবার কেউ মতবিনিময় করছে, হাস্যরসের গল্প করছে, সালাম, গুড মর্নিং, শুভ সকাল ইত্যাদি শুভেচ্ছা বিনিময় করছে, কেউবা পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত দিনের খবরগুলো দেখে নিচ্ছেন। কারো আনন্দঘন মুহুর্তকে উদযাপন করার জন্য দিনক্ষণ ঠিক করছেন, অন্যদেরকে খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এসবই শহুরে জীবনের সকালের বিচিত্র। আর ফেরার পথে পথে টাটকা শাক-সব্জি, মাছ, লেবু, কলা, ডাব, বিভিন্ন ফলমূলের পসরার হরদম বেচাকেনা তো আছেই। একই সাথে বাসার বাজারটাও সেরে ফেলার সুযোগ কাজে লাগানো যায়।
মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে সৃজনশীল করা ,হতাশা দূর করা, কর্মে ও পরিশ্রমে মেজাজ ঠিক রাখা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, নিজের সক্ষমতা বাড়ানো, ভিটামিন ডি প্রাপ্তি, রক্তের সঞ্চালনা বৃদ্ধি, সুস্থ হৃদপিনণ্ড, ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, ওজন নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদিতে সকালের হাঁটা সহায়ক। সকালে হাঁটার উপকারিতা আসলে বলে শেষ করা যাবে না। অনেকেই বিকালে বা সন্ধ্যায় হাঁটেন। বিকালে বা সন্ধ্যায় হাঁটার চেয়ে সকালে হাঁটার উপকারিতা তুলনামূলক বেশি। তাই সকালে হাঁটায় বেশি লাভ।
সুস্থ দেহ সতেজ মন-কর্মময় সুখী জীবন আপনার হাতের নাগালে। সকালে হাঁটার অভ্যাস করুন, লাভবান হউন।
ডায়াবেটিস আপনাকে দৌড়ানি দেওয়ার আগে আপনি ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করুন।

(লেখক উপসচিব)

Check Also

সাকি সোহাগ এর গল্প ‘জ্বালা’

তখনো গ্রামের অনেক লোকেরই অজানা নিয়ামতের মৃত্যুর খবরটা। ঘরের তীরের সাথে তখনো ঝুলছে লাল গামছায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − eight =