সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / ফিচার সংবাদ / সৃজনশীল এক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম শফিকুর আলম

সৃজনশীল এক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম শফিকুর আলম

ইকবাল কবির লেমন, বাঙালি বার্তাঃ বগুড়ার সোনাতলায় ব্যতিক্রমধর্মী ও সৃজনশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুনাম কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুর আলম। ইতোমধ্যেই তিনি ভাল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এ বাঙালি-যমুনা তীরবর্তী পুণ্ড্র জনপদের প্রান্তিক অঞ্চলে জনসাধারণের হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থায়ী আসন করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সোনাতলা উপজেলায় যোগদানের পর সাধারণ মানুষের সাথে মিশে তিনি সেবাধর্মী প্রশাসন তৈরি করতে সচেষ্ট রয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে একটি মানসম্পন্ন বইমেলা (প্রথম অমর একুশে বইমেলা) আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি আবারও তাঁর সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। মহানগর, জেলা ও প্রাচীন দু’একটি উপজেলার বাইরে এ ধরণের একটি বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি সোনাতলা উপজেলার নাম ইতিহাসের খাতায় লিখিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর চলন্ত রেলগাড়িতে পাথর ছোড়া বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে তিনি গ্রহণ করেন আরেকটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। তিনি স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বাউল শিল্পীদের নিয়ে বাদ্য-বাজনা করে সোনাতলা রেল স্টেশন থেকে ভেলুরপাড়া রেল স্টেশন পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রাস্তায় রেল পদযাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ করেন । এটিও সোনাতলার ইতিহাসে একটি রেকর্ড সৃষ্টিকারী কর্মসূচি। তাঁর উদ্যোগেই ২০১৮ সালে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে উপজেলার ১২ টি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। সোনাতলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে শহিদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার একটি দাবী স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরা দীর্ঘদিন যাবত করে আসছিলেন। সে দাবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি শহিদ মিনারের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শহিদ মিনার সংলগ্ন স্থাপনা সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি শহিদ মিনারের পিছনের লাল বৃত্তটি স্টীলের পাত ও লোহা দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করে দিয়েছেন, উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সোনাতলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার। শহিদ মিনারটিকে উঁচু করে টাইলস্ লাগানো, পেছনের অংশে ম্যুরাল স্থাপন এবং শহিদ মিনারের চারধার দিয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত বেষ্টনী দেয়ার লক্ষে প্রয়োজনীয় হিসাব নির্ধারণ করে যথাযথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে উপজেলা সাধারণ পাঠাগারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কর্ণার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। উপজেলার কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক ব্যাডমিন্টন কোর্ট,স্কাউটস্ ভবনের আধুনিক সিলিং প্রতিস্থাপন, উপজেলা পরিষদের আধুনিক গেইট নির্মাণ, উপজেলা পরিষদের শোভাবর্ধনের জন্যও তিনি প্রয়োজনীয় হিসাব নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং যত্রতত্র বালু উত্তোলন রোধে তিনি জেলা প্রশাসনে বালু মহালের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। জানা গেছে, সে আলোকে অচিরেই উপজেলার পশ্চিম সুজাইতপুরে একটি বালু মহাল হতে যাচ্ছে। এছাড়াও তিনি বাল্যবিয়ে, মাদক, জুয়াসহ অনৈতিক কর্মকান্ড রোধে নিয়মিত পরিচালনা করে চলেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এ উপজেলায় তাঁর কর্মকালে ৪৮ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতে তিনি ৭০ টি মামলায় ১২৪ জনকে অভিযুক্ত, ৪২ জনকে কারাদন্ড এবং ১ লাখ,৯১ হাজার,১ শ টাকা অর্থদন্ড করেন ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শফিকুর আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘দায়িত্ববোধ থেকেই আমি ভাল কাজগুলো করতে চাই। আসুন সকলে মিলে একটি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সোনার বাংলা বিনির্মাণ করি।’

Check Also

সম্পন্নের পথে স্বপ্নের সোনাতলা প্রেসক্লাব ভবন

ইকবাল কবির লেমনঃ বগুড়া’র সোনাতলা উপজেলার সাংবাদিকদের আকাক্সিক্ষত ও স্বপ্নের প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − four =