সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / সোনাতলার দিগদাইড়ে রাতারাতি তৈরি মাজারে চলছে জিকির আসকার ও মানত

সোনাতলার দিগদাইড়ে রাতারাতি তৈরি মাজারে চলছে জিকির আসকার ও মানত

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া’র সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের মহিচরণ দক্ষিনপাড়ায় (ছেওটাপাড়া) রাতারাতি মাজার নির্মাণ করে চলছে জিকির আসকার। ওই গ্রামের জেলি বেগম নামের জনৈক গৃহবধূ হঠাৎ করে ইট-সিমেন্ট দিয়ে এ মাজারটি নির্মাণ করেছে কিছু ভক্তদের নিয়ে জিকির আসকার শুরু করেছেন। মাজারটির স্থানে আগে কারো কোন কবর না থাকলেও স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে মাজারটি নির্মাণ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলি বেগম। তিনি আরও জানান, ‘বগুড়া শহরে বেতগাড়ীর একটি মেসে প্রায় ১০বছর যাবৎ রান্নার কাজ করে আসছি। বেশ কিছুদিন ধরে আমি অসুস্থ রয়েছি। কিছুদিন আগে হঠাৎ স্বপ্নে সুলতান বলখী (র:) আমাকে বলেন, ‘তুই আমার মেয়ে’। তোর বাড়ির সামনে আমি শুয়ে আছি। আমার কবরটা ইট দিয়ে ভালো করলে তুই সুস্থ হয়ে যাবি।’ স্বপ্নে তিনি তাকে আরও বলেন, ‘মাজারটি নতুন করে ইট পাথর দিয়ে তৈরি করবি, যদি না করিস তাহলে কখনোই তুই আর সুস্থ হবিনা’। তারপর এক রাতের মধ্যেই আমি মাজারটি তৈরী করি। মাজারটি তৈরির পর থেকে আমি কোন প্রকার ডাক্তার দেখানো আর ঔষধ সেবন ছাড়াই সুস্থ আছি।’ জেলি জানান, তিনি নামাজের মধ্যে দেখতে পান তার বাবাকে অর্থাৎ সুলতান বলখী (র:)কে। বাবা নাকি জুব্বা পড়ে পাগড়ি ঘারে মাথায় বড় টুপি আর লম্বা দাড়ি। এটা দেখার পরই হঠাৎ করে তার মাথায় জট বাধে। অবাস্তব একথাগুলোই গড়গড় করে বলেছিলো জেলি। তার স্বামী নুর ইসলামও একই কথা বলে যাচ্ছিলো।
সরজমিনে গিয়ে জেলি বেগমের বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই দেখা মিললো খাদেম বাবা-একই ইউনিয়নের কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে আব্দুস সামাদকে। মাজারের কথা শুনে দিনরাত জিকির করে চলেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘এখানে আগে কখনও কবর দেখিনি।
এলাকাবাসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হুট করে এখানে আমরা দেখি মাজার তৈরী করা হলো। আমরা ছোট থেকে বড় হলাম কখনো এইখানে মাজার বা কিছু দেখিনি’।
গনিয়ারকান্দী বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা রেজাউল করিম বলেন,‘ধর্মকে সামনে রেখে মাজার ব্যবসা ইসলামে জায়েজ নেই। এটি অন্যায় ও অপরাধ। মাজারকে কেন্দ্র করে সেজদা দেওয়া শিরক। আমরা কখনোই দেখিনি যে, ওখানে মাজার আছে। এইটি সম্পুর্ণ ইসলামের শরিয়ত পরিপন্থি।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি যাছাই-বাছাই করে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিনের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ঘটনাটি গতকাল শুনেছি। খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অগ্রহনযোগ্য কিছু হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

সোনাতলায় বায়তুল মামুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খাটিয়া প্রদান

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ শনিবার দুপুরে সোনাতলা উপজেলা পরিষদে বায়তুল মামুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপজেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − ten =