সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / ফিচার সংবাদ / সোনাতলায় নৌকার জন‍্য ছোটাছুটি করছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা

সোনাতলায় নৌকার জন‍্য ছোটাছুটি করছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটের হাওয়া বইছে। নৌকার জন‍্য ছোটাছুটি করছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে নবীন ও প্রবীন প্রার্থীরা সর্মন ও দোয়া চেয়ে ব‍্যনার, ফেস্টুন, পোস্টার লাগানোর হিড়িক পড়েছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন দিতে ব‍্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়্গুলো অনেকটাই একপক্ষীয় লক্ষ করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়া অন্যদের ভোটে তেমন কোন আগ্রহ নেই। নৌকা পেতে প্রতি ইউনিয়নে তিন থেকে ডজনখানেক নেতার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। সম্প্রতি বিএনপি এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় শাসক দলের মনোনয়নকেই ভোটে জেতার নিশ্চয়তা মনে করা হচ্ছে। তাই নির্বাচনের মাঠে ভোটের চেয়ে বেশি লড়াই নৌকা পেতে। এতে তৃণমূলে সহিংসতার শঙ্কাও তীব্র হচ্ছে। দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও ভোটে অংশ নিতে ইচ্ছুক অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মী। কেউ কেউ রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করতে পারবেন। দলের বাইরে গিয়ে ভোট করে কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে। গত কয়েক বছরে নির্বাচনের অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে অনেকের ধারনা নৌকা পেলেই জয় নিশ্চিত। এ কারণেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে এত তীব্র প্রতিযোগিতা। যে আওয়ামী লীগের টিকিট পাবে সে ভোট না পেলেও প্রশাসন তাকে জিতিয়ে দেবে- এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছে একতরফা নির্বাচনগুলোর কারণে। কিন্তু সবার কপালে তো মনোনয়ন জুটবে না। এমন পেশিশক্তিধারী যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়, তাহলে দলের প্রার্থীর সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য।
দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশের ভোট হবে এ বছরে। প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউপিতে ভোট হবে। পরবর্তী পাঁচ ধাপে বাকিগুলোতে ভোট হবে। দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হতে যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল এখন পর্যন্ত দলীয় দ্বিধাদ্বন্দে ভূগছে।

নির্দলীয় পদ্ধতিতে ইউপি নির্বাচন ভোটের চেয়েও বেশি ছিল গ্রামীণ উৎসব। রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত গ্রাম, গোষ্ঠী ও আত্মীয়তার সমীকরণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরুর পর তা পাল্টে গেছে। জাতীয় রাজনীতি ইস্যু হয়ে উঠেছে ভোটের নিয়ামক। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো কোণঠাসা থাকায় নির্বাচন একপেশে হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের আগ্রহও কম। একমাত্র জিজ্ঞাসা, কে পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক? দলের মনোনয়ন না পেলে কে হবেন বিদ্রোহী?
নৌকা পেলে জয় নিশ্চিত- এমন ধারণায় ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চলছে। এলাকা ছেড়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী রাজধানী ও জেলা শহরে ছুটছেন দলের টিকিট পেতে। তবে সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় তা নিয়ে পাড়ায়-মহল্লায় যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

প্রতি ইউপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্যানেল পাঠাতে তৃণমূলে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখান থেকে একজনকে বেছে নেবে দলটির মনোনয়ন বোর্ড। শোনা যাচ্ছিল, বিএনপি ভোট বর্জন করায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি কঠোর নাও হতে পারে আওয়ামী লীগ। কেউ দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হলে তাকে বহিস্কার করা হবে। তিনি ভবিষ্যতে আর মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হবেন না।

 

Check Also

বাবুই পাখি —মোঃ মামুন উল হাসান শাওন

বাংলার প্রথিতযশা কবি “রজনীকান্ত সেন” এর স্বাধীনতার সুখ কবিতাটি আমাদের সবারই জানা। যেখানে কবি বাবুইপাখি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + twenty =