সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / সোনাতলায় প্রতারণার শিকার চট্রগ্রামের গরু ব্যবসায়ীঃ থানায় অভিযোগ

সোনাতলায় প্রতারণার শিকার চট্রগ্রামের গরু ব্যবসায়ীঃ থানায় অভিযোগ

আব্দুর রাজ্জাক,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চরপাড়া গোসাইবাড়ী গ্রামে চট্রগ্রামের গরু ব্যবসায়ী সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতারণার শিকার গরু ব্যবসায়ীদের একজন- নুর ইসলাম বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। চট্রগ্রামের নেজাম হামজা গ্রামের মৃত হাজী শাহআলমের ছেলে নুর ইসলাম, একই উপজেলার মিয়া নগর গ্রামের মৃত মাহবুরের ছেলে মোহাম্মাদ আলী, আবুল বাশারের ছেলে মোদ্দাছের ছোট ভাই মেহেদী হাসান এ প্রতারণার শিকার হয়।
ভুক্তভোগী নুর ইসলামের নিকট থেকে এবং অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন থেকেই কুরবানীর ঈদে গরু ক্রয় করে তাদের নিজ এলাকায় বিক্রি করেন। ব্যবসা চলাকালে যাতায়াতের এক পর্যায়ে সোনাতলা উপজেলার চরপাড়া বাজারে গত ৩ বছর পূর্বে চরপাড়া গোসাইবাড়ী গ্রামের টুকুর ছেলে মানিকের সাথে পরিচয় ঘটে। এর সুবাদে ৩বছর যাবৎ তাদের সহযোগিতায় ঈদ মৌসুমে গরু ক্রয় করে তাদের নিজ এলাকায় বিক্রয় করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জুলাই বৃহস্পতিবার নুর ইসলামসহ তাদের পার্টনার ৪ জন বগুড়ার বড়গোলা ইসলামী সোস্যাল ব্যাংক থেকে মোহাম্মাদ নামে এ্যাকাউন্ট থেকে ১০ লক্ষ ষাট হাজার টাকা উত্তোলন করে এবং আগে প্রত্যেকের কাছে ১ লক্ষ করে টাকা নিজ হেফাজতে ট্রাক ভাড়া করে গরু ক্রয়ের উদ্দেশ্যে মানিকের বাড়িতে আসে। দুই একদিন থেকে গরু ক্রয় করবে বলে তারা মানিকের বাড়িতে টাকাগুলো গচ্ছিত রাখে। খাওয়া দাওয়া সেরে বিকালে গরু ক্রয়ের উদ্দেশ্যে গ্রামে ঢুকবে বলে মানিকের বাবা পুটুকে সঙ্গে নেয়। মানিকের বাবা তাদেরকে টাকা সঙ্গে নিতে বললে তারা মানিক বাড়িতে না থাকার সুবাদে তার স্ত্রীকে বলে ভাবি টাকা গুলো দেন। মানিকের স্ত্রী মানিককে মোবাইল ফোনে টাকার কথা বললে সে জানায় টাকা আলমিরাতে বালতির মধ্যে আছে। সে আলমিরা খুলে দেখে সেখানে টাকা নাই। মানিককে জানালে মানিক বলে আমি বাড়িতে আসি তার পর দেখা যাবে। এরপর তাদের কাছে থাকা কিছু টাকা নিয়েই গরু ক্রয় করার উদ্দেশ্যে গ্রামে বের হয়। আগের মতই তারা রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে রাতে খুমাতে যায় মানিকের শয়ন ঘরে। রাতে হঠাৎ করে মানিকের স্ত্রী তাদেরকে ডেকে বলে বাড়িতে চোর এসেছিলো গচ্ছিত টাকাগুলো নিয়ে গেছে। আপনার ভাই ভেঙ্গে পড়েছে। তখন নুর ইসলাম বলে চোর আসলে আমাদের কাছে আসবে, আমরা বাহিরের মানুষ,আমাদের কাছে না এসে কিভাবে চোর আলমিরা ভেঙ্গে চুরি করলো। এক পর্যায়ে মানিক কান্না কন্ঠে বলে টাকা চোরে নিয়ে যাক আর যাই হোক আমি আমার জমি বিক্রি করে হলেও আপনাদের টাকা দিয়ে দিবো। মানিকের বাবা তাদেরকে শান্তনা দিলো মানিকের ভাগের জমি আছে বিক্রি করে দিয়ে দিবো। মানিক পরের দিন থেকে বাড়িতে আসেনা, ফোন দিলে ফোন ধরেনা। এইভাবে শুক্রবারের দিন পার হয়ে যায়। শনিবারে সকালে মানিক এক পর্যায়ে বলে টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি, টাকা দিতে পারবো না। মানিক বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়, মানিকের স্ত্রী বলে ৩ লক্ষ টাকার মতো গরু ক্রয়ের বায়না করা আছে সে টাকাগুলো দেই আপনারা গরুগুলো নিয়ে চলে যান। বাকী টাকাগুলো মাসে মাসে পরিশোধ করে দিবো। এক পর্যায়ে মানিক তার স্ত্রীসহ বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। উপায়হীন হয়ে রাতে সোনাতলা থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ দেন তারা। মৌখিক অভিযোগে থানা পুলিশ ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম মতিনকে ডেকে দায়িত্ব দেন। মতিন চেস্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর তারা জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে রাতেই সিএনজি যোগে বগুড়ায় পরিচিত এক ব্যক্তির বাসায় যায়। এর পর তারা উপায়হীন হয়ে আবারও থানায় যান আইনি সহায়তা নেওয়ার জন্য। এদিকে মানিকের খোঁজে বাড়িতে গেলে তাদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। মানিকের বাবা-মার সন্ধান করলে তাদেরকেও পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এব্যাপারে রফিকুল ইসলাম মতিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘ বিষয়টি সত‍্য, তবে থানা প্রশাসন তাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিল মাত্র। চেস্টাও করেছি, সফল হতে পারিনি।’

এ ব‍্যপারে থানা অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজার সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগে থেকেই তাদের সঙ্গে ব‍্যবসায়িক একটা সম্পর্ক আছে। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

Check Also

সারিয়াকান্দিতে বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন

সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কর্ণার এর উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × three =