প্রচ্ছদ / বগুড়ার খবর / সোনাতলায় ৫০শয্যা হাসপাতালে ডাক্তার সংকটে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

সোনাতলায় ৫০শয্যা হাসপাতালে ডাক্তার সংকটে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

মোশাররফ হোসেন মজনু, বিশেষ প্রতিবেদক বাঙালি বার্তাঃ বগুড়ার সোনাতলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মানুযায়ী ডাক্তার থাকার কথা ২১ জন। সেস্থলে কর্মরত রয়েছেন ৮ জন। এরমধ্যে আবার ২ জন প্রেষণে ও ১ জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র ৫ জন ডাক্তার দিয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চলছে। কর্মচারীর পদও শূন্য রয়েছে ২৫টি। জনবল সংকট থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জনসাধারণ।
এ হাসপাতালে সিজার কাজের জন্য ওটি বিভাগ চালু হয় ২০০১ সালে। সে সময় এ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার হিসেবে ডা.নূরুজ্জামান ও গাইনী ডাক্তার হিসেবে ডা.নিগার সুলতানা কর্মরত ছিলেন। এ দু’টি পদে ডাক্তার থাকায় সিজার কাজ হয়েছে যথেষ্ট-জানালেন ডা. নূরুজ্জামান (বর্তমানে কর্মরত বগুড়াস্থ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট)। পরবর্তীতে দু’জনই অন্যত্রে বদলী হওয়ায় পদ দু’টি শূন্য হয়। ফলে সিজার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর শূন্য পদ দু’টি পূরণ হলে চালু হয় সিজার কাজ। ২০১৪ সালের মাঝামাঝির দিকে তারাও বদলী হলে তখন থেকে অদ্যাবধি সিজারের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে সোনাতলাসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলার দরিদ্র পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণির পরিবারের গর্ভবর্তী নারীদেরকে ক্লিনিকে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সিজার করতে হয়।
ওটি বিভাগে এ্যানেসথেসিয়া মেশিন,টেবিল ও বৈদ্যুতিক লাইটসহ সব কিছু রয়েছে। নেই শুধু এ্যানেসথেসিয়া ও গাইনী ডাক্তার। এছাড়া প্রয়োজন একজন নারী পিয়ন (আয়া)। এ্যানেসথেসিয়া ও গাইনী ডাক্তারের শূন্য পদ পূরণ হলে হাসপাতালে আবার চালু করা সম্ভব হবে সিজার কাজ। ওটি বিভাগে বর্তমানে লাইটের একটি বাল্ব নষ্ট হয়েছে। এ্যানেসথেসিয়া মেশিন কোন অবস্থায় রয়েছে তা চালু না করলে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। চালু না থাকলে এ্যানেসথেসিয়া মেশিন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র দিনদিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জানালেন সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ শাহানাজ সুলতানা।
বর্তমান কর্মরত পাঁচ ডাক্তারের মধ্যে কেউ হয়তো অসুস্থতার কারণে কিংবা বিশেষ কাজের জন্য এক বা একাধিক দিন কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করতে হয়। এ কারণে সেদিন ডাক্তার চরম সংকট দেখা দেয়। হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার,জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেসথেসিয়া, গাইনী,শিশু,অর্থোপেডিস,চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন এবং ডেন্টাল সার্জনসহ অন্যান্য বিভাগের ডাক্তার।
এ ছাড়া শূন্য রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা, পরিসংখ্যানবিদ,প্রধান সহকারী, স্টোরকিপার,সহকারী সেবক, এমটি (ফিজিও), জুনিয়র মেকানিক, কম্পাউন্ডার, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, মশালটি, মালী, সুইপার, ইমারজেন্সি এ্যাটেনডেন্ট, এমএলএসএস, ওটি বয় (প্রতি পদে ১টি করে), অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ২টি, স্বাস্থ্য সহকারী ৬টি ও নিরাপত্তা প্রহরী ২টি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সংকট নেই। তবে ডাক্তার ও কর্মচারী সংকট রয়েছে। জনবলের হালনাগাদ তথ্য বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসে প্রতিমাসে পাঠানো হয়। যেসব পদ শূন্য রয়েছে তা সবই পূরণ হওয়া প্রয়োজন। তবে এ্যানেসথেসিয়া ও গাইনী ডাক্তার বিশেষ প্রয়োজন। এ দু’টি পদ পূরণ হলে ওটি বিভাগে সিজার কাজ চালু করা যাবে। হাসপাতালের জেনারেটর দীর্ঘদিন থেকে বিকল অবস্থায় ছিল। তা সচল করা হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, ‘এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ জন রুগী (আউটডোর ও ইনডোর) চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। জনবল সংকট সৃষ্টি হওয়ায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের চাপ বেড়েছে। তারপরও নিরলস ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে জনস্বার্থে । শূন্য পদগুলো পূরণ হলে কাজের গতি বাড়বে।’

Check Also

সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের শয্যাপাশে সাহাদারা মান্নান এমপি

ইকবাল কবির লেমনঃ সোমবার সকালে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের শয্যাপাশে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিলেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + 1 =