সংবাদ শিরোনামঃ
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / হুইলচেয়ারে প্রচারে নামছেন মমতা

হুইলচেয়ারে প্রচারে নামছেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়ের মধ্যে নিজেই কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের কেবিন থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভিডিওবার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতা বলেছেন, কোনো কর্মসূচি বাতিল হবে না। প্রয়োজনে হুইলচেয়ারে বসে নির্বাচনী সভা ও কর্মসূচি করা হবে। এ সময় তিনি দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন। এদিকে, মমতার ওপর হামলার অভিযোগে নন্দীগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে তৃণমূল। এ সময় বিরুলিয়ায় বিজেপি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার পর সেখানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভিডিওতে মমতার শরীরে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, গলার স্বরও অনেক নিচু ছিল। তা সত্ত্বেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে বরাবরের মতো পথে নামার বার্তা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার কর্মী ভাইবোন ও সাধারণ মানুষকে বলছি, আমার বুধবার খুব জোরে আঘাত লেগেছিল। মাথায় ও বুকে ব্যথা লাগে। বনেটের ওপর দাঁড়িয়ে সবাইকে অভিবাদন জানানোর সময় এমন জোরে চাপ আসে, আমার গাড়িটা চেপে যায় পায়ে। তখনই সঙ্গে যে ওষুধ ছিল, তা খেয়েই কলকাতায় রওনা হই। সবাইকে অনুরোধ করব শান্ত থাকুন, ভালো থাকুন। এমন কিছু করবেন না, যাতে মানুষের অসুবিধা হয়।’

ভিডিওবার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, দু-তিন দিনের মধ্যে কাজে ফিরব। পায়ে সমস্যা থাকবে, ম্যানেজ করে নেব। আগামী দিনে আমার কর্মসূচি বাতিল হবে না। হয়তো হুইলচেয়ারে ঘুরতে হবে।’ তবে আগে হামলা ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করা হলেও এদিনের ভিডিওতে হামলা বা ষড়যন্ত্রের কথা বলেননি মমতা। বরং তিনি বলেছেন, ‘চাপ আসে’ ও ‘গাড়ির দরজা পায়ের ওপর চেপে যায়’।

বুধবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামে আহত হন মমতা। তখন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, চার-পাঁচজন গাড়ির দরজা ইচ্ছাকৃতভাবেই ঠেলে দিয়েছিল। এ ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষে বলা হয়, ষড়যন্ত্র করে এমন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ‘নাটক’ বলছে বিজেপি।

এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মমতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে গতকালের ভিডিওবার্তার পর ফের কোর কমিটির বৈঠক ডাকে তৃণমূল। দলের নেতারা বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে পূর্বনির্ধারিত সব নির্বাচনী সভাতে অংশ নেবেন মমতা।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১ ও ৩২৩ ধারায় থানায় মামলা করে পুলিশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক বিভু গোয়েল ও পুলিশ সুপার প্রবীণ কুমার প্রকাশ। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য যাচাই করার পর প্রতিবেদন পুলিশের নবনিযুক্ত ডিজি নীরজ নয়ন ও এডিজি জগমোহনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর আহত হওয়ার ঘটনায় এরই মধ্যে তার দেহরক্ষী ও এসএসইউর সদস্যদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনায় সংশ্নিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, মমতার ওপর হামলা ও এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তৃণমূল।

মমতার ওপর হামলার দাবি করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। এ ঘটনায় নন্দীগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে তৃণমূল।

এদিন সকাল থেকেই তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী জড়ো হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে বিজেপি নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে প্রতিবাদ জানান। সে সময়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ না হলেও গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

Check Also

বিশ্বে ৮ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের

বিশ্বজুড়ে ৮ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।  গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 11 =